তামিম ইকবালের অবসরের ঘোষণা ও প্রত্যাহার নাটকের পর গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে আফগান ব্যাটিং ঝড়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং বেছে নেয় স্বাগতিকরা। যদিও এ সিদ্ধান্তকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দিয়ে দাপটে সেঞ্চুরি করেন অতিথি দলের রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। এ পথে তারা গড়েন একের পর এক রেকর্ড। শেষ দিকে বেশকিছু উইকেট পতনের পরও আফগানরা ৯ উইকেটে ৩৩১ রানের সৌধ গড়ে। তাতে বড় অবদান রাখা গুরবাজ ও জাদরানের ২৫৬ রান এখন ওয়ানডেতে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ সেরা জুটি।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ ২৯০ রানের। ২০২২ সালে এ চট্টগ্রামেই দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২৯০ রান করেছিলেন ভারতের ইশান কিশান ও বিরাট কোহলি। কিশানের ২১০ ও কোহলির ১১৩ রানে ভর করে ওই ম্যাচে ৪০৯ রানের সৌধ গড়ে বাংলাদেশকে ২২৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় ভারত।
বাংলাদেশের
বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮২ রানের জুটি গড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি
কক। তারা অপরাজিত ছিলেন এবং জুটি বড় হয়নি বাংলাদেশের
কারণেই! কেননা কিম্বার্লিংতে আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ২৭৮
রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আমলা ও ডি কিকের
রাজসিক ব্যাটিংয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪২.৫ ওভারের মধ্যে
লক্ষ্য অতিক্রম করে যায় স্বাগতিকরা। ডি কক ১৬৮
ও আমলা ১১০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় সেরা জুটি গড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন ব্রাভো ও দিনেশ রামদিন। ২০১৪ সালে সেন্ট কিটসে এ দুজনের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ৩৩৮ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। রামদিন ১২১ বলে ১৬৯ ও ব্রাভো ১২৭ বলে ১২৪ রান করেন। ম্যাচে ৯১ রানে হার মানে বাংলাদেশ।
২০১০ সালে বার্মিংহামে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২৫০ রান করে বাংলাদেশের বিপক্ষে চার্টের চারে ছিলেন ইংল্যান্ডের অ্যান্ড্রু স্ট্রস ও জোনাথন ট্রট। স্ট্রস ১৪০ বলে ১৫৬ ও ট্রট ১২১ বলে ১১০ রান করেন। পরে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২০২ রানে। সেই ম্যাচে ১৪৪ রানের জয় তুলে নিয়েছিল ইংলিশরা।
স্ট্রট ও ট্রটকে পাঁচে ঠেলে দিয়ে চারে জায়গা করে নিল ট্রটেরই দুই শিষ্য গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। ট্রট বর্তমানে আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ।
কাল নাজমুল হোসেন শান্তর বলে ছক্কা ও চারে ৩৬তম ওভারে দলের রান আড়াইশ পার করান গুরবাজ। তারা আড়াইশ করেন মাত্র ২১৮ বলে। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে সাকিব আল হাসানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন গুরবাজ। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় অবিশ্বাস্য এ জুটি। ২৫৬ রানের মধ্যে ১৪৫ গুরবাজের, জাদরানের অবদান ৭৯। দুজন ২২১ বলের মোকাবেলায় ২৫৬ রান তুলেছেন।
গুরবাজ ও জাদরানের এ জুটি এখন ওয়ানডেতে যেকোনো জুটিতেই আফগানিস্তানের সেরা। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১০ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে মোহাম্মদ শাহজাদ ও করিম সাদিকের করা অবিচ্ছিন্ন ২১৮ রান।
গতকাল চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ২০০ রানের উদ্বোধনী জুটি দেখল আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এ নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ডাবল সেঞ্চুরি হলো ৫টি। সর্বোচ্চ ২০১৭ সালে কিম্বার্লিতে হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি ককের ২৮২ রান। দেশের মাটিতে শুরুর জুটিতে এ নিয়ে দুবার প্রতিপক্ষের ২০০ রান দেখল বাংলাদেশ। আগেরটি ছিল মিরপুরে মাহেলা জয়াবর্ধনে ও উপুল থারাঙ্গার ২১৫।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী জুটিতে আগের সর্বোচ্চ রান ছিল ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে তামিম ইকবাল ও এনামুল হকের করা ১৫৮।
এদিকে, কাল গুরবাজ করেন চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সাকিবের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিনি পৌঁছে যান তিন অংকে। মাত্র ২০ ম্যাচেই তিনি চারটি সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। এবারের আইপিএলে লিটন দাসকে বসিয়ে রেখে কেন গুরবাজকে খেলিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, তা আজ বুঝিয়ে দিলেন ২১ বছর বয়সী গুরবাজ। ঠিক ১০০ বলে এল তার ১০০ রান। এর আগে সাকিবকে পরপর দুই বলে চার-ছক্কা মেরে ৫০ স্পর্শ করেন তিনি। ৪০ রান থেকে সুইপ করে মেরেছেন বাউন্ডারি, এরপর লেংথ বলে পুল করে ছক্কায় উড়িয়ে এই ওপেনার পৌঁছে যান পঞ্চাশে। ৪৮ বলে করেন ফিফটি। এরপর থেকে থেমেছেন ১৪৫ রান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের সেঞ্চুরি এখন তিনটি। এর দুটিই গুরবাজের। গত বছর চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত ১০৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এক বছর পর সেই সাগরিকায় আবার হাসল তার ব্যাট।










