ওয়েলিংটনে আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে সান্ত্বনার জয়ের খোঁজে নেমেছিল বাংলাদেশ। ধনুর্ভঙ্গ পণ করে মাঠে নামা বাংলাদেশ ৫৭ রানের মধ্যেই তুলে নেয় কিউইদের টপ অর্ডারের হেনরি নিকোলস, মার্টিন গাপটিল আর রস টেলরকে। কিন্তু অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় সেখান থেকে দুই সেঞ্চুরিতে সংগ্রহটা তিনশ পার করে ফেলে স্বাগতিকরা। এরপর ৩১৯ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৫৪ রানে। ১৬৪ রানের বিশাল জয়ে সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল কিউইরা।
দ্রুতই নিউজিল্যান্ডের তিন উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ডেভন কনওয়ে ও ড্যারিল মিচেলের অনবদ্য দুই সেঞ্চুরি স্বাগতিকদের তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ এনে দেয়। কনওয়ে ১১০ বলে ১৭ বাউন্ডারির সাহায্যে ১২৬ রান আর মিচেল ৯২ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১০০ রানের রাজসিক ইনিংস খেলেন। দুজনেরই বয়স ২৯ এবং দুজনেরই এটা ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি।
কনওয়ে ও মিচেল পঞ্চম উইকেটে ২৪ ওভারে বোর্ডে যোগ করেন ১৫৯ রান এবং তাদের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ভর করেই শেষ ১০ ওভারে কিউইরা পেয়ে যায় ১০৭ রান। এরপর ম্যাট হেনরি আর জিমি নিশামের গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ। টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন হেনরি, আর ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ইনিংসের শেষটা তছনছ করেন নিশাম। দুই পেসারের তাণ্ডবের মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিলেন মাহমুদউল্লাহ, যিনি ৭৩ বলে ৭৬ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে শুধু হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন। মাহমুদউল্লাহর ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায়।
মাহমুদউল্লাহ ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। ক্রাইস্টচার্চে ব্যাটিংয়ে বেশ উন্নতি হলেও ওয়েলিংটনে আবার পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ।
হার শেষে ‘কাঠগড়া’য় দাঁড়ানো তামিম ইকবাল বলেছেন, আমি মনে করি, প্রথম ও শেষ ম্যাচে আমরা তাদের ধারেকাছেও ছিলাম না। তারা অবিশ্বাস্য ভালো খেলেছে। আমরা যদি এভাবেই খেলে যাই, তবে কিছুই করতে পারব না। জানি, এটা দেশের চেয়ে ভিন্ন এক কন্ডিশন, তবু তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে আমাদের উন্নতি করতেই হবে। দ্বিতীয় ম্যাচটি বাদ দিলে আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারিনি, এটা খুবই হতাশাজনক।
তিনি আরো বলেন, সিরিজের আগে আমি বলেছিলাম, আমার বড় আশা আছে। আমি ভেবেছিলাম, সত্যিই সুযোগ আছে আমাদের। দ্বিতীয় ম্যাচে আমাদের ভালো একটি সুযোগ এসেছিলও। তবে সব মিলিয়ে, সিরিজটা আমাদের জন্য হতাশার। আমরা ভালো খেলিনি।
২০২৩ বিশ্বকাপের টিকিট সরাসরি নিশ্চিত করতে ওয়ানডে সুপার লিগ ফরম্যাটে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ আটে থাকতে হবে। সে হিসেবে বিরুদ্ধ কন্ডিশন হোক আর আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ হোক, প্রতিটিতেই জেতার চেষ্টা করতে হবে। এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে তামিম বলেন, আপনি দলে বিশ্বের সেরা কোচ পেতে পারেন, কিন্তু আপনাকে মাঠে কী করতে হবে আর কী করতে হবে না তা বুঝা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশের মাঠে আমরা দল ও ব্যক্তি হিসেবে ধারাবাহিক নই। আমাদের ভালো করার একটি উপায় খুঁজে পেতে হবে। নিউজিল্যান্ডে তো আমি ব্যক্তিগতভাবে উন্নতি করতে আসিনি, আমরা এসেছি জিততে। এটা স্রেফ একটা দুই জাতির সিরিজ নয়। এটা পয়েন্ট-ভিত্তিক সিরিজ। জিতলে আপনি পয়েন্ট পাবেন, তখন উত্তীর্ণ হওয়ার কাজটি বেশ মসৃণ হবে।
এ যাত্রায় বাংলাদেশকে হতাশ করলেন ডেভন কনওয়ে। তিনি ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন।
২৮ মার্চ শুরু হবে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ। পরের দুটি যথাক্রমে ৩০ মার্চ ও ১ এপ্রিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৩১৮/৬ (কনওয়ে ১২৬, মিচেল ১০০*; রুবেল ৩/৭০)। বাংলাদেশ: ১৫৪ (মাহমুদউল্লাহ ৭৬*, লিটন ২১, মুশফিক ২১; নিশাম ৫/২৭, হেনরি ৪/২৭)। ফল: নিউজিল্যান্ড ১৬৪ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও ম্যান অব দ্য সিরিজ: ডেভন কনওয়ে। সিরিজ: নিউজিল্যান্ড ৩-০তে জয়ী।










