ওয়ানডে দলে ফিরেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। লড়াইও ফিরেছে নিজেদের মাঠে। শ্রীলংকায় সদ্যই টেস্ট সিরিজ খেলে আসা বাংলাদেশ এবার সিংহলিজদের মুখোমুখি হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজে। আগামীকাল রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ১টায় শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। এরপর ২৫ ও ২৮ মে এ মাঠেই সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ। এ সিরিজেই ১০ ম্যাচের জয়খরা ঘোচাতে মরিয়া তামিম ইকবালের দল। 

আইসিসি সুপার লিগ পয়েন্টের জন্য মরিয়া শ্রীলংকা (৩ ম্যাচে পয়েন্ট মাইনাস ২)। অন্যদিকে ৬ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশ চাইবে অবস্থান আরেকটু সংহত করতে। বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হওয়ার রেস ছাড়াও স্বাগতিক দলটি জয়খরা কাটিয়ে উঠতে মরিয়া। ঘরের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর পর সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

এ সিরিজে টাইগারদের উজ্জীবিত করবেন সাকিব, যিনি নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকায় সর্বশেষ সফরে যাননি। শ্রীলংকা সফরের সময় তিনি খেলেছেন আইপিএলে। পেস বোলার মুস্তাফিজুর রহমানও আইপিএল অ্যাসাইনমেন্টের কারণে শ্রীলংকায় যাননি। দলের দুই সেরা বোলারকে পেয়ে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা। স্বাগতিকরা আশায় আছে, আরেকবার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মিলে দলের ত্রাতা হয়ে উঠবেন সাকিব।

সঙ্গতকারণেই সিরিজে বেশিরভাগ আলোই থাকছে সাকিবের ওপর। ৩ নম্বরে ব্যাট করবেন তিনি, যেখানে এতদিন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকারকে খেলিয়ে সফল হয়নি দল। সৌম্য স্কোয়াডে থাকলেও বাদ পড়েছেন শান্ত।

এছাড়া সাকিবের বোলিংটা দলের শক্তি বাড়িয়ে দেবে। বোলিং আক্রমণ নিয়ে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ম্যাচ জিততে আপনাদের বোলিং ভালো করতে হবে। আমরা সেরা দুই বোলারকেই ফিরে পেয়েছি—সাকিব ও মুস্তাফিজ। তাসকিনও (আহমেদ) অবিশ্বাস্য বল করছে। মিরাজ তো বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৫ নম্বরে। দারুণ এক বোলিং পারফরম্যান্সের আশা করছি আমি।

এদিকে বাংলাদেশ দল সব সময় সিনিয়রদের ওপর বেশি ভরসা করে এলেও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে তরুণদের গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগ হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর। আজ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, মুশফিক, তামিম, সাকিব ও রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আমাদের আছে। তবে দু-একজন তরুণকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা ও সুযোগ দেয়া সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। আফিফ হোসেনের মতো তরুণ কেউ আসতে পারে এবং প্রভাব রাখতে পারে। সিনিয়র ক্রিকেটার থাকার পাশাপাশি তরুণদের উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ। ওই ক্রিকেটাররা তো চিরদিন থাকবে না। চোট আসবে, ফর্মহীনতা থাকবে। এটা তাই নিশ্চিত করতে হবে যেন ক্রিকেটারদের সংখ্যার পরিধি বড় হয়।

এদিকে তারুণ্যনির্ভর শ্রীলংকা দলকে নেতৃত্ব দেবেন ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা, তার ডেপুটি হিসেবে থাকবেন কুশল মেন্ডিস। ফাস্ট বোলার শিরান ফার্নান্দো প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাক পেয়েছেন, আর চামিকা করুনারত্নে ও বিনুরা ফার্নান্দো প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন ওয়ানডে দলে। চামিকা একটি টেস্ট ও বিনুরা দুটি টি২০ খেলেছেন। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও ইসুরু উদানার মতো তারকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও স্কোয়াডের বেশিরভাগ মুখই নতুন—পাথুম নিশাঙ্কা, আশেন বান্দারা, রমেশ মেন্ডিস ও আসিথা ফার্নান্দো।