নিউজিল্যান্ডের একেকটি ভেন্যু যেন ব্যাটসম্যানদের বধ্যভূমি। এ পেসস্বর্গে বাংলাদেশ সবসময়ই বিধ্বস্ত হয়েছে। অতীতে সেখানে ১৬টি ওয়ানডে খেলে একটিও জয় নেই বাংলাদেশের। দ্বীপদেশটির পেস-বাউন্স সহায়ক পিচে বিশ্বের বড় বড় দলও অসহায় আত্মসমর্পণ করে প্রায়ই। ব্ল্যাক ক্যাপসদের মাঠে ৯টি টি২০ খেলেও জয়হীন বাংলাদেশ। শুধু একটি জয় এসেছে টেস্টে। গত বছর মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছিল মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলটি। এবার কি সাদা বলেও নিউজিল্যান্ডের মাঠে সাফল্যের সূচনা করবে বাংলাদেশ? কিউইদের দুর্গ জয় করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজ মাঠে নেমেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। 

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় আজ বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা) প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে টম ল্যাথামের দল কি ব্যবধান ১৭-০ করবে, নাকি ব্যবধান কমিয়ে ১৬-১ করতে পারবেন শান্ত ও তার সতীর্থরা?

নিউজিল্যান্ডে এবার সিরিজ জিততে আশাবাদী বাংলাদেশ দলনায়ক শান্ত। তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা সিরিজ জিততে মুখিয়ে আছি। আমাদের দলটা ভালো। গত বছর আমরা এখানে একটি টেস্ট জিতেছি। এবার ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ জেতা আমাদের লক্ষ্য। যদি জিততে পারি, দারুণ হবে। দেখুন, আমাদের বাংলাদেশ টিম আগে যতবারই এসেছে করতে পারেনি। কিন্তু কোনো না কোনো গ্রুপকে তো সেটা করতে হবে। আমার মনে হয়, এই গ্রুপটার সেই অ্যাবিলিটি আছে। সবাই বিশ্বাস করে যে এবার আমাদের ভিন্ন রেজাল্ট হবে।’

সম্প্রতি সিলেটে নিউজিল্যান্ডকে টেস্ট ম্যাচে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া নিউজিল্যান্ড একাদশকে প্রস্তুতি ম্যাচে হারিয়ে আরো উজ্জীবিত শান্তর দল। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন কিউইদের হারানোর আত্মবিশ্বাস। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শান্ত বলেন, ‘ছেলেরা প্রস্তুতি ম্যাচে খুব ভালো খেলেছে। উইকেটটা খুব ভালো ছিল। প্রস্তুতি অনুযায়ী সবাই সবার কাজটা ঠিকভাবে করেছে। সব মিলিয়ে দারুণ একটা প্রস্তুতি ম্যাচ হয়েছে। সবাই এই সিরিজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।’

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনেও নির্ভীক বাংলাদেশ দল। শান্ত বলেন, ‘কন্ডিশনটা খুব ঠাণ্ডা। তবে এ নিয়ে কোনো অজুহাত দিতে চাই না। কারণ, এখানে এর আগেও এসেছি আমরা। সবার কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা আছে। কাজেই আশা করি, কালকে (রোববার) এটা নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। যেমন কন্ডিশনই হোক না কেন, তার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে আমাদের। সবাই এটা নিয়ে প্রস্তুত, পরিস্থিতি যেমনই থাক।’

নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ২০০৭ সালে অকল্যান্ডে প্রথমবার ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে ছয় উইকেটে হেরে যায় সফরকারী দল। একই সিরিজে নেপিয়ারে ১০২ রানে ও কুইন্সটাউনে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয় টাইগাররা। পরের সফরটা ২০১০ সালে। সেবার তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১৪৬ রানে, ৫ উইকেটে ও ৩ উইকেটের হার জুটেছে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ৩ উইকেটে, ২০১৬ সালের সফরে যথাক্রমে ৭৭ রানে, ৬৭ রানে ও ৮ উইকেটে; ২০১৯ সালের সফরে যথাক্রমে ৮ উইকেটে, ৮ উইকেটে ও ৮৮ রানে এবং ২০২১ সালের সফরে যথাক্রমে ৮ উইকেটে, ৫ উইকেটে ও ১৬৪ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। 

সব মিলিয়ে ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ (সবই তিন ম্যাচের সিরিজ) খেলে সবগুলোতে হোয়াইটওয়াশ হয় লাল-সবুজরা। 

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২০০১-০২ থেকে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ হারের পর অবশেষে ২০২২ সালে ড্র করতে সমর্থ হয় টাইগাররা। এছাড়া তিনটি টি২০ সিরিজ খেলে সবগুলোতে হেরেছে বাংলাদেশ। এর বাইরে ২০২২ সালের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ খেলে টাইগাররা। 

বাংলাদেশকে অনুপ্রেরণা দেবে ২০১৫ বিশ্বকাপের ম্যাচ। হ্যামিল্টনে আগে ব্যাটিং করতে নেমে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ২৮৮ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে মার্টিন গাপটিলের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছিল স্বাগতিকরা।  

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ৪২টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড ৩১টি ও বাংলাদেশ ১০টি ম্যাচ জিতেছে, ফলহীন ছিল একটি ম্যাচ। বাংলাদেশের মাটিতে হয়েছে ১৬টি ম্যাচ, যার মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৮টি, হেরেছে ৭টি। বাকি ম্যাচগুলো হয় বিশ্বকাপে। 

এছাড়া ১৯ টেস্টের দ্বৈরথে কিউইরা ১৪টি ও বাংলাদেশ ২টি জিতেছে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট টি২০তে ১৭ বারের দেখায় কিউইরা ১৪টি ও বাংলাদেশ তিনটি জয় পায়। তিনটি জয়ই বাংলাদেশ পেয়েছে দেশের মাটিতে। 

এ পরিসংখ্যানই বলছে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড কতটা দুর্বল। এবার শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ কি পারবেন কিউইদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে?