চলতি বছর মোট ৭০ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার) ফি নিয়েছেন ফুটবল এজেন্টরা। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই খরচ করেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো। এজেন্টদের পেছনে ইংলিশ ক্লাবগুলোর খরচ ২৮ কোটি ডলার।

২০২২ সালে এজেন্ট ফি ছিল ৬২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৪৯ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। ২০২২ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে এজেন্ট ফি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এটি ভেঙে দিয়েছে ২০১৯ সালের রেকর্ড। ওই বছর খরচ হয়েছিল ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৫১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।

এ প্রথম নারী ফুটবলের এজেন্টদের পেছনে খরচ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। নারী ফুটবলে ১২৫টি দলবদলে এজেন্টরা নিয়েছেন ১৪ লাখ ডলার। অংকটি খুব ছোট হলেও এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে। ২০২২ সালের চেয়ে ৬০ ভাগ ও ২০১৯ সালের পাঁচ গুণ বেড়েছে। 

ফুটবল এজেন্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর মোট ৩ হাজার ৩৫৩টি আন্তর্জাতিক দলবদল এজেন্টদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট দলবদলের ১৫.৪ শতাংশ এবং ২০২২ সালের চেয়ে বেড়েছে ৮.৪ শতাংশ। 

এখানে ঘরোয়া দলবদল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেমন ওয়েস্ট হ্যাম থেকে ডিক্লান রাইস ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে আর্সেনালে ও ব্রাইটন থেকে ময়েজেস কাইসেদো ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে নাম লিখিয়েছেন। এ সময় হ্যারি কেন ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ডে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার্স থেকে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে ও ইংলিশ খেলোয়াড় জুড বেলিংহাম ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ডে জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এজেন্ট ফি প্রদানে ইউরোপের ক্লাবগুলোই এগিয়ে এবং তারা এ খাদে মোট ৮৬.৬ শতাংশ ব্যয় করেছে। 

চমক দেখানো সৌদি পেশাদার লিগও এ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা, নেইমার, সাদিও মানের মতো বড় বড় তারকাকে সই করানো এ লিগটি এজেন্টদের দিয়েছে ৮৬ মিলিয়ন ডলার। 

খেলোয়াড় বিক্রির ক্ষেত্রে এজেন্টদের সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এজেন্টদের ৩২ শতাংশ ফি দিয়েছে কে লিগের ক্লাবগুলো।

এজেন্টের মাধ্যমে খেলোয়াড় দলবদলের হার ২০২২ সালের চেয়ে ৯.৬৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালে মোট ৩৭৫টি দলবদল ঘটে এজেন্টের মাধ্যমে। এজেন্টের মাধ্যমে দলবদল সবচেয়ে বেশি করেছে নরওয়েজিয়ানরা। তাদের মোট দলবদলের ৫৩.১ শতাংশই ঘটেছে এজেন্টের মাধ্যমে। এর পরই নেদারল্যান্ডস (৪৮.৪ শতাংশ), অস্ট্রেলিয়া (৪৭.২ শতাংশ), ব্রিটেন (৪২.০ শতাংশ) ও ডেনমার্ক (৪১.৩ শতাংশ)। 

প্রতি দলবদলে কত ফি পান এজেন্টরা? ফিফার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতি দলবদলের জন্য ফি ১০ লাখ ডলারের নিচে। সাধারণত ফি ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। অধিকন্তু, ২২৪টি দলবদলের ফি ছিল ১০ লাখের উপরে, যা মোট দলবদল ফির ৬৮.৮ শতাংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফি ১ কোটি ডলারও হতে পারে। যেমন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এজেন্ট সুপার এজেন্ট খ্যাত হোর্হে মেন্দেস তার প্রতিটি দলবদল থেকে আরো অনেক বেশি আয় করে থাকেন।

২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি এফএফএআরের মাধ্যমে ফিফার কাছে ফুটবল এজেন্ট হওয়ার আবেদন জমা দেয়ার সুযোগ চালু হয়েছে। এখানে সবাই আবেদন করতে পারেন। তবে এজেন্ট হিসেবে সনদ পেতে হলে পরীক্ষায় উতরাতে হবে। 

 এক্ষেত্রে ফিফা এজেন্ট প্লাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, ফিফা কর্তৃক ফুটবল এজেন্টের পরীক্ষায় পাস করতে হয় এবং ফিফাকে একটি বার্ষিক ফি দিতে হয়। 

এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ফুটবল এজেন্ট হতে চেয়ে ফিফার কাছে ১৯ হাজার ৯৭৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৯৬৯ জনকে পরীক্ষা দিতে হবে, আর ৩ হাজার ৪ জন ‘লেগ্যাসি’ কোটায় আবেদন করেছেন। ১৯ এপ্রিল ও ২০ সেপ্টেম্বর দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ৯ হাজার ২০৭ জন অংশ নিয়েছেন, পাস করেছেন ৩২.৬ শতাংশ। বিবিসি ও ফিফা