ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্ব শেষ। এবার নকআউটের উত্তাপ। শেষ ষোলোয় আগামীকাল শনিবার দুটি ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ওয়েলসের মুখোমুখি হবে ডেনমার্ক, রাত ১টায় ইতালির বিপক্ষে খেলবে অস্ট্রিয়া।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে দ্বৈরথে ওয়েলসের বিপক্ষে ডেনমার্ককেই সমর্থন করবেন বেশিরভাগ ফুটবল অনুরাগী। কারণ ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন ট্র্যাজেডি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলার সময় মাঠেই পড়ে যান তিনি। পরে জানা যায়, হূদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইন্টার মিলান মিডফিল্ডার। এ সময় গোটা ফুটবল বিশ্ব এরিকসেন ও ডেনমার্ক দলের পাশে দাঁড়ায়। এরিকসেন হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়ে সেরে উঠছিলেন, আর ডেনমার্ক প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে উঠে যায় শেষ ষোলোয়।
ওয়েলস ডিফেন্ডার কনোর রবার্টস বলেন, মাচটা খুবই কঠিন হতে চলেছে, মনে হয় ৯৯ শতাংশ বিশ্বই ডেনমার্ককে সমর্থন করবে। কিন্তু আমরাই জিতব বলে আশাকরি। জানি কাজটি কঠিন হবে, কিন্তু আমাদের স্কোয়াডটিও ভালো। আমরা বেশ ছন্দে রয়েছি এবং ভালো কিছু পারফরম্যান্সও আছে।
১৯৯২ আসরের চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্ককে অবশ্য ছোট করে দেখছেন না কনোর। তার কথায়, তারা সত্যিই বেশ ভালো একটি দল। তারা প্রচুর দর্শক সমর্থনও পেতে যাচ্ছে। তাই সাদা দাগটি যখন অতিক্রম করব তখন সর্বস্ব নিংড়ে দিতে হবে আমাদের।
এদিকে কভিডজনিত কারণে ওয়েলসের নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। খুব জরুরি প্রয়োজন না থাকলেও যুক্তরাজ্য থেকে নেদারল্যান্ডসে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
এদিকে ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ১৯৬৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তিন জয় তুলে নিয়েছে ইতালি, এখন পর্যন্ত কোনো বল তাদের জালে জড়ায়নি। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া প্রথমবারের মতো এসেছে নকআউট পর্বে। প্রতিপক্ষ সহজ হলেও কাজটি সহজ নাও হতে পারে ইতালির জন্য। কেননা টানা তিনটি ম্যাচ ঘরের মাঠে খেলার পর এবারের আসরে এই প্রথম দেশের বাইরে যাচ্ছে রবার্তো মানচিনির দল। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে আজ্জুরিরা। সেই মনোবল আর ফর্ম ধরে রাখতে পারলে আজ অস্ট্রিয়া বাধাও টপকে যাবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম এই পরাশক্তি। এ ম্যাচের বিজয়ী ২ জুলাই মিউনিখে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল কিংবা বেলজিয়ামকে।
৩৬ বারের মুখোমুখিতে ইতালির বিপক্ষে ১২টি জয় আছে অস্ট্রিয়ার, হেরেছে ১০টিতে। যদিও ১৯৬০ সালের পর আর কখনই আজ্জুরিদের হারাতে পারেনি তারা। দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয় ২০০৮ সালে। ফ্রান্সে নিস শহরে প্রীতি ম্যাচটি ড্র হয় ২-২ গোলে। ইউরোতে এটা দুই দলের তৃতীয় লড়াই। ১৯৭২ সালের ইউরো বাছাইয়ে ভিয়েনায় ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় ইতালি, পরে রোমে দ্বৈরথটা ড্র হয় ২-২ গোলে।
১৯৮২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো বড় আসরে গ্রুপ পর্বের হার্ডল পার হলো অস্ট্রিয়া। সেবার দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল তারা, যা করেছিল ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ আসরেও।
ইউরোয় শেষ ষোলোর লাইনআপ
ওয়েলস-ডেনমার্ক
ইতালি-অস্ট্রিয়া
নেদারল্যান্ডস-চেক রিপাবলিক
পর্তুগাল-বেলজিয়াম
ক্রোয়েশিয়া-স্পেন
ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড
ইংল্যান্ড-জার্মানি
সুইডেন-স্পেন










