ক্রিকেট বিশ্বকাপ মানেই দক্ষিণ আফ্রিকানদের হৃদয় ভাঙার গল্প। নিরানব্বইয়ের সেমিফাইনালে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে অ্যালান ডোনাল্ডের রানআউট হওয়া, ২০০৩ সালে ঘরের মাটিতে গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকার বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাক-লুইস মেথডের হিসেব বুঝতে না পেরে বিদায় নেয়ার মতো স্বপ্নভঙ্গের বেদনা আছে প্রোটিয়াদের।

 

প্রায় প্রতিটি আসরেই অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা করেও কাপ জেতা হয়ে ওঠে না। এমনকি তাদের বিদায় ঘটে অঘটনের শিকার হয়ে। তবু অন্য সবার মতো প্রোটিয়ারাও নতুন করে স্বপ্ন বুনছে। ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ‘বিশেষ কিছু’ করার আশা তাদের। দলটির তারকা ব্যাটার ডেভিড মিলার এমন আশাবাদ শুনিয়েছেন।

 

গত মাসে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন ওয়ানডে জিতেছে প্রোটিয়ারা। দুর্দান্ত কামব্যাকে তারা সিরিজটা জিতে নেয় ৩-২-এ। ওভারে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পই প্রোটিয়াদের ক্যাম্পে বাড়তি এনার্জি যোগ করেছে।

 

ইতিহাস পক্ষে না থাকলেও এবার বিশ্বকাপে অধরা স্বপ্নপূরণ করতে চায় প্রোটিয়ারা। ৩৪ বছর বয়সী হার্ডহিটিং ব্যাটার মিলার বলেন, ‘আমরা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করি যে, এবার বিশেষ কিছু করতে পারি। এটাই সত্য যে আমরা কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারিনি, এটা লুকানোরও কিছু নেই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি ওইসব কষ্ট বুকে জমা করে ঘুরি না। অতীত তো অতীতই। এটা আমার ওপর কোনোভাবেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। আমার কাছে পরের বল আর পরের মুহূর্তটি গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় দলের অন্যদের মানসিকতাও একই। আমরা একে ইতিহাস তৈরির সুযোগ হিসেবে নিচ্ছি। কী অপূর্ব এক সুযোগ। ভালো খেললে আমাদের জন্য দারুণ এক সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে।’


 

আইসিসির চতুর্থ র‍্যাংকধারী দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও আইসিসির শীর্ষ ১৫ ব্যাটারের মধ্যে পাঁচজনই প্রোটিয়া। অন্য কোনো দলের তিনজনের বেশি নেই শীর্ষ ১৫-তে। মিলার রয়েছেন ১৫ নম্বরে।

 

ভারতে সতীর্থরা জ্বলে উঠবে বলে আশা মিলারের। তিনি বলেন, ‘গত চার বছর ধরে আমরা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে এসেছি।’

 

প্রোটিয়ারা করেছেও। গত বিশ্বকাপের পর বিশ্বের মাত্র ছয়জন ব্যাটার এক হাজারের বেশি রান করেছেন একশর বেশি স্ট্রাইক রেটে। এর মধ্যে তিনজন আফ্রিকান—হেইনরিখ ক্লাসেন, এইডেন মার্করাম ও মিলার।

 

ওই সময় রাসি ফন ডার ডুসেন ও অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা পঞ্চাশের বেশি গড়ে রান করেছেন। আর ওপেনিং ব্যাটার কুইন্টন ডি কক দলে জায়গা ধরে রাখার মতো ভালো পারফর্ম করেছেন। তিনি আইসিসি র‍্যাংকিংয়েও সেরা দশে রয়েছেন। এই বিশ্বকাপ শেষে অবসর নেবেন ডি কক। কাজেই বিদায়ী আসরটি রাঙাতে চাইবেন এই বামহাতি আগ্রাসী ব্যাটার।

 

গত চার বছরের চক্রে ৬০.৭ গড়ে ও ১১৪.১৫ স্ট্রাইক রেটে রান তোলা মিলার নিজের রেকর্ড নিয়ে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি পরিসংখ্যানের পিছু ছুটি না। যদিও সংখ্যাগুলো আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা যে কাজ করছি তা দলে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে বলে আনন্দিত। আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী দলে অবদান রাখি।’

 

অধিনায়ক তেম্বার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তেম্বা অবিশ্বাস্য এক অধিনায়ক এবং এই ফরম্যাটে দুর্দান্ত এক খেলোয়াড়। আমাদের লাইন-আপ অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’

 

প্রোটিয়াদের বোলিংয়ে কিছুটা দুঃসংবাদ দিয়েছেন এনরিখ নরকিয়া। তিনি চোটে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। আরেক ডানহাতি পেসার সিসান্দা মাগালাও চোটে পড়ে ছিটকে গেছেন। পেস অ্যাটাকে এখন ভরসা কাগিসো রাবাদা, মার্কো ইয়ানসেন, লুঙ্গি এনগিডি, জেরাল্ড কোয়েটজি ও লিজাড উইলিয়ামস। কেশব মহারাজ ও তাবরাইজ শামসিকে নিয়ে গড়া তাদের স্পিন অ্যাটাকও বেশ সমীহ জাগানো।   

 

গতবার ইংল্যান্ড আসরে ১০ দলের মধ্যে সপ্তম হয়ে দেশে ফেরে প্রোটিয়ারা। কিন্তু এবার প্রোটিয়ারা বেশ ঐক্যবদ্ধ আর দুর্দান্ত ফর্মেও আছে। কাজেই বড় আশা করতেই পারে বাভুমার দল।