এক রাতে অপ্রত্যাশিত অনেক ঘটনাই ঘটল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলতে নেমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথমবার লাল কার্ড দেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এর আগে পর্তুগালের হয়ে গত ২২ বছরে ২২৫ ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কখনও লাল কার্ড দেখেননি। এবার যেটা দেখলেন। তবে সব মিলিয়ে এটি তার ১২তম লাল কার্ড; সর্বশেষ লাল কার্ডটি তিনি পেয়েছিলেন সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে আল হিলালের বিপক্ষে ।

রোনালদোর লাল কার্ডের দিন আয়ারল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে অপ্রত্যাশিত হারও দেখেছে পর্তুগাল। তাতে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে পর্তুগিজদের। তবে আইরিশদের এ জয়ে ক্ষীণ আশা বেঁচে রয়েছে।

এক দশক ধরে বড় কোনও টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করা হয়নি আয়ারল্যান্ডের। সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল ২০০২ সালে। বাঁচা-মরার ম্যাচে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই টিকে থাকতো তাদের আশা। কিন্তু পর্তুগালের বিপক্ষে জয়ে তারা শুধু টিকেই থাকল না। প্রথমার্ধে ট্রয় প্যারটের জোড়া গোল দলটিকে দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের সেরা পারফরম্যান্সের স্বাদও।

এ ম্যাচে পর্তুগালের সেরা তারকা রোনালদো ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্ডার দারা ও’শেরাকে কনুই দিয়ে আঘাত করেন। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও রিভিউর পর সিদ্ধান্তটি লাল কার্ডে উন্নীত হয়। ৪০ বছর বয়সী রোনালদোর এ আচরণ তাকে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ফেলেছে, যদি পর্তুগাল বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়। মাঠ ছাড়ার সময় আয়ারল্যান্ড সমর্থকদের বিদ্রূপের জবাবে রোনালদোকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে হাততালি ও থাম্বস-আপ দিতে দেখা যায়।

কী বলে ফিফার নিয়ম?

ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, গুরুতর ফাউলের জন্য কমপক্ষে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সহিংস আচরণ বা কনুই মারার মতো আক্রমণাত্মক কাজের জন্য কমপক্ষে তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা কেবল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কার্যকর হবে; প্রস্তুতি ম্যাচে নয়। ফলে রোনালদো পর্তুগালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ মিস করতে পারেন বলেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।