রোববার ছিল ক্রীড়াঙ্গনের ‘সুপার সানডে’। সকালে কোপা আমেরিকা ফাইনাল, আর রাতে ইউরো ফাইনাল। এ দুই বড় ফাইনালের ডামাডোলে অনেকটা আড়ালেই পড়ে যায় টেনিসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ উইম্বলডনের পুরুষ এককের ফাইনাল। তাতে ইতালির ম্যাত্তেও বেরেত্তিনিকে ৩-১ সেটে হারিয়ে ক্যারিয়ারের ২০তম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জিতে নেন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। এটা উইম্বলডনে তার ষষ্ঠ শিরোপা। এ জয়ের মধ্য দিয়ে গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপায় সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরার ও স্পেনের রাফায়েল নাদালের রেকর্ড ছুঁয়েছেন তিনি। তিনজনেরই নামের পাশে সমান ২০টি করে গ্র্যান্ডস্লাম। জোকোভিচের সামনে এখন ‘গোল্ডেন স্লাম’ জয়ের হাতছানি। 

২৫ বছর বয়সী বেরেত্তিনির কাছে প্রথম সেট হেরেও শেষ পর্যন্ত ৬-৭ (৪/৭), ৬-৪, ৬-৪, ৬-৩ গেমে জিতেছেন লড়াকু খেলোয়াড় হিসেবে খ্যাত জোকোভিচ। শীর্ষ বাছাই জোকোভিচ ২০২১ সালে তিনটি গ্র্যান্ডস্লামই জিতে নিলেন।

জয় শেষে জোকোভিচ বলেছেন, উইম্বলডন জয় করা আমার শৈশবের স্বপ্ন। সার্বিয়ার সাত বছরের একটি ছেলে নানা ধাতব দ্রব্য দিয়ে একটি উইম্বলডন ট্রফি তৈরি করছে এবং এখন সে সত্যিকারের ছয়টি ট্রফি নিয়ে দাঁড়িয়ে। সত্যিই অবিশ^াস্য। 

এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন জিতলেন জোকোভিচ। ইতিহাসের পঞ্চম ও উন্মুক্ত যুগের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে মৌসুমের প্রথম তিনটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতলেন তিনি। আগের কীর্তিটি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার রড লেভার। 

এখন দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন স্লাম জয়ের সুযোগ জোকোভিচের সামনে। সেক্ষেত্রে তাকে এ বছরের টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের পর জিততে হবে ইউএস ওপেনও। ১৯৮৮ সালে চারটি গ্র্যান্ডস্লাম ছাড়াও অলিম্পিক স্বর্ণ জিতেছিলেন জার্মানির স্টেফি গ্রাফ।

অবশ্য জোকোভিচের গোল্ডেন স্লাম জয় অনিশ্চিত। তিনি টোকিওতে খেলবেন কিনা তা নিশ্চিত নন। তার কথায়, এ নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে। এ মুহূর্তে আমি দ্বিধায় রয়েছি। বলতে পারেন ৫০-৫০।    

এদিকে উইম্বলডনে নারী এককে চেক রিপাবলিকের ক্যারোলিনা প্লিসকোভাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে অ্যাশলে বার্টি। ৪১ বছর পর উইম্বলডন জিতলেন কোনো অস্ট্রেলিয়ান।

বার্টি ও প্লিসকোভা দুজনেরই এটি ছিল প্রথম ফাইনাল, যা উইম্বলডনে ১৯৭৭ সালের পর প্রথম ঘটনা।