চেন্নাইতে আজ বিশ্বকাপ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ২৮৩ রানের টার্গেট দিয়েছে পাকিস্তান। টস জিতে ব্যাটিং নেয়া পাকিস্তান আব্দুল্লাহ শফিক ও বাবর আজমের ফিফটির পর শাদাব খান (৪০) ও ইফতিখার আহমেদের (৪০) ব্যাটে ভর করে ৭ উইকেটে ২৮২ রান তুলতে সমর্থ হয়।   

 

জ্বরের কারণে আজ পাকিস্তান দলে নেই মোহাম্মদ নওয়াজ। তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন শাদাব। আফগানিস্তান দলে পেসার ফজলহক ফারুকির জায়গায় এসেছেন স্পিনার নূর আহমাদ। ফলে আফগান বোলিং অ্যাটাকে স্পিনারই থাকছেন চারজন!

 

বিশ্বকাপ অভিষেকেই চমক দেখিয়েছেন নূর আহমাদ। ১৮ বছর বয়সী এই বামহাতি রিস্ট স্পিনার পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের বড় ক্ষতিটা করেন। তিনটি উইকেট নেন তিনি।

 

আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৫৬ রানের সময় ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙেন। আব্দুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম যখন দলকে সংহত অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই নূর আহমাদের জোড়া আঘাত। তিনি পরপর আউট করেন শফিক (৭৫ বলে ৫৮) ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (১০ বলে ৮)।

 

এরপর সৌদ সাকিলকে নিয়ে ৪৩ ও শাদাব খানকে নিয়ে সমান ৪৩ রানের দুটি জুটি গড়েন বাবর। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো বাবরকে (৯২ বলে ৭৪) সাজঘরে ফেরান নূর। তার বলে এক্সট্রা কভাবে নবিকে ক্যাচ দেন পাকিস্তান দলনায়ক।  

 

বাবরের বিদায়ের পর পাকিস্তানের স্কোর আড়াইশ হবে কিনা, তা নিয়েই ছিল সংশয়। তখন ষষ্ঠ উইকেটে ইফতিখার ও শাদাব ৪৫ বলে ৭৩ রান যোগ করে ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফেরান। এর মধ্যে ইফতিখারই ছিলেন বেশি মারমুখী। তিনি ২৭ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪০ রান করে নবীন-উল-হকের শিকার হন। ৩৮ বলে ৪০ রান করা শাদাব খান ইনিংসের শেষ বলে আউট হন।

 

৪৯ রানে তিন উইকেট নেন নূর আহমাদ। এছাড়া নবীন ৫২ রানে দুটি এবং আজমত ও নবি একটি করে উইকেট নেন।  

   

উল্লেখ্য, ১৬ মাস পর পাওয়ার প্লেতে ছক্কা পেয়েছে পাকিস্তান! তৃতীয় ওভারে নবীনের বাউন্সারে দারুণ শটে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন শাফিক। ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, মাঝের ২২ ইনিংসে প্রথম ১০ ওভারে ১৩৬২ বলে কোনো ছক্কা মারতে পারেনি পাকিস্তান। শুধু চলতি বছরের হিসেবে, ২০ ইনিংসে ১১৬৯ বল পর পাওয়ার প্লেতে তারা পেল ছক্কার দেখা। এর আগে সবশেষ মুলতানে গত বছরের জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের অষ্টম ওভারে কিমো পলের বলে ছক্কা মারেন ইমাম-উল-হক।

 

চলতি বছর পাকিস্তান এর আগে ছক্কা না পেলেও আর যে ২২/২৩টা দল ওয়ানডে খেলে তাদের সবাই অন্তত একটি ছক্কা মেরেছে পাওয়ার প্লেতে।