ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে এ নিয়ে দুবার কিনল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমবার ২০০৩-২০০৪ মৌসুমে ১ কোটি ২২ লাখ পাউন্ডে।
আর সর্বশেষ ২০২১ সালে এসে তাকে কিনতে খরচ পড়ল ১ কোটি ২৮ লাখ পাউন্ড। দুইবারে কিনতে তার পেছনে রেড ডেভিলদের খরচ ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। মাঝে ২০০৯ সালে পর্তুগিজ সুপারস্টারকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে বিক্রি করে ম্যানচেস্টার জায়ান্টরা ঘরে তুলেছিল ৮ কোটি পাউন্ড। সব মিলে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির লাভ ৫ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬৪৬ কোটি টাকা।
২০০৩ সালে প্রথম পর্তুগিজ খেলোয়াড় হিসেবে স্পোর্টিং লিসবন থেকে রোনালদোকে সই করিয়েছিল ম্যানইউ। রেড ডেভিলরা তার পেছনে খরচ করে ১ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড। তার বয়স আর সময় বিবেচনায় সেটাই ছিল উচ্চমূল্য। তিনি তখন ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে দামি টিনএজ হয়ে ওঠেন। আস্থার প্রতিদান তিনি দিলেন দারুণভাবে। লিসবনে পরতেন ২৮ নম্বর জার্সি, ম্যানইউ তাকে সেটি পরার অনুরোধ করল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী এ তরুণ বেছে নেন ৭ নম্বর জার্সি, যেটি অতীতে ম্যানইউতে পরেছেন জর্জ বেস্ট, এরিক কাঁতোয়া আর ডেভিড বেকহামের মতো গ্রেট। এটা তিনি বাড়তি উদ্দীপনা হিসেবেই নেন। এ চ্যালেঞ্জে জিতে দারুণ সফল।
২০০৯ পর্যন্ত ছিলেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। ১৯৬ ম্যাচে ৮৪ গোল করে ম্যানইউর অন্যতম কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। এ পথে প্রিমিয়ার লিগ তিনবার, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ একবার, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ একবার, এফএ কাপ একবার, লিগ কাপ দুবার ও কমিউনিটি শিল্ড একবার জয় করেন।
২০০৯ সাল। উচ্চাভিলাষী রোনালদো ম্যানচেস্টার আর ‘বাবাতুল্য’ অ্যালেক্স ফার্গুসনের প্রতি মায়া কাটিয়ে পাড়ি জমান রিয়াল মাদ্রিদে। দলের সেরা খেলোয়াড়টিকে বিক্রি করে তখন ৮ কোটি পাউন্ড (৯ কোটি ৪০ লাখ ইউরো) রাজস্ব আহরণ করে ইংলিশ জায়ান্টরা। বিশ্বরেকর্ড ফি দিয়ে কিনেই রোনালদোর বাই-আউট ক্লজ ১ বিলিয়ন ইউরো করে রাখে রিয়াল। স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে হাজির হয় ৮০ হাজার দর্শক!
এরপর ৭ নম্বর জার্সিতে মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়েছেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। মাদ্রিদের অধিকাংশ রেকর্ডই নিজের করে নেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও বাজিমাত করে গেছেন। রিয়ালের হয়ে সব ধরণের প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি গোল (৪৫১), লা লিগায় সবচেয়ে বেশি গোল (৩১১), ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি গোল (১০৭), চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে বেশি গোল (১০৫), সব প্রতিযোগিতা মিলে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল (৬১), লা লিগায় এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল (৪৮), চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল (১৭), লা লিগায় সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক (৩৪), সব প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক (৪৪), এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিকসহ (৮) অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
মাদ্রিদ জায়ান্টদের হয়ে ৯ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগই জিতেছেন চারবার। এছাড়া তার নামের পাশে দুটি লা লিগা, দুটি কোপা ডেল রে, দুটি উয়েফা সুপার কাপ ও তিনটি ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জ্বলজ্বল করছে। ঈর্ষণীয় এই ক্যারিয়ারে ব্যালন ডি’অরের স্বাদ পেয়েছেন চারবার। এর আগে ম্যানইউর হয়ে ব্যালন’ডির জিতেছিলেন একবার।
বেতন নিয়ে অসন্তোষের কারণে ২০১৮ সালে সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের মাত্র ক’দিন বাদেই রিয়াল ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বসেন তিনি। বয়স ৩৩ হয়ে গেলেও তাকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোয় কেনার মতো বিলাসিতা দেখায় জুভেন্টাস। ওই সময় তিনি ত্রিশোর্ধ্ব সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড় হন। যদিও জুভেন্টাসের মনোবাসনা পূর্ণ হয়নি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আশায় তাকে উচ্চমূল্যে কিনলেও রোনালদোর অর্জন মাত্র দুটি সিরি-এ শিরোপা। ফলে এ মিশনের সমাপ্তি টানতে চাইলেন তিনি। জুভেন্টাসেরও মোহভঙ্গ হলো। এভাবে তার নতুন ঠিকানা এখন ম্যানচেস্টার।
দ্বিতীয়বারের মতো পর্তুগিজ গোলমেশিনকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আনতে চলেছে ম্যানইউ। প্রথমবারের মতো এবারো অনেকটাই সস্তায় বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে কিনল রেড ডেভিলরা।










