পাকিস্তানের ফাস্ট বোলিং ট্র্যাকে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলারদের ঈর্ষণীয় প্রদর্শনী। রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আজ সোমবার হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের গতি-ঝড়ের মুখে ১৭২ রানে অলআউট হয়ে গেছে পাকিস্তান। তাতে ১৮৫ রানের টার্গেটের সামনে পড়ে বাংলাদেশ। সফরকারীরা বিনা উইকেটে ৪২ তোলার পর প্রথমে আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি শুরু হলে আগেভাগেই ‘স্ট্যাম্প’ হয়ে যায় চতুর্থ দিনের। মঙ্গলবার পঞ্চম ও শেষ দিন জিততে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ১৪৩ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।   

 

মাত্র ৭ ওভারেই ৪২ রান তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন জাকির হাসান। ২৩ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত তিনি। তার পার্টনার সাদমান ইসলাম ৯ রান করেন ১৯ বলের মোকাবেলায়। জাকির মারমুখী ব্যাটিং করলেও দারুণ নিয়ন্ত্রণ ছিল তার।

 

এর আগে গতকাল সকালে নাহিদ রানার তোপের মুখে পড়ে ৮১ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায় পাকিস্তান। রানা নেন ৩টি উইকেট। সেখান থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আগা সালমানের লড়াইয়ে দেড়শ পেরোয় স্বাগতিকরা।

 

৩০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিন মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে যায় পাকিস্তান। রিজওয়ান ৩৮ ও সালমান ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। বিরতি থেকে ফেরার পর রিজওয়ানকে তুলে নেন হাসান মাহমুদ।

 

যদিও আগা সালমান টেল-এন্ড নিয়ে ভোগাতে থাকেন বাংলাদেশকে। তাকে আউটই করতে পারেনি অতিথি দলের বোলাররা। ৭১ বলে ৪৭ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। অন্য প্রান্ত দিয়ে মোহাম্মদ আলী, আবরার আহমেদ ও মির হামজা নিয়মিত বিরতিতে সাজঘরে ফিরেছেন। এর মধ্যে হাসান তিনটি ও রানা একটি উইকেট নেন। সব মিলে হাসান ৪৩ রানে ৫টি ও রানা ৪৪ রানে ৪টি উইকেট নেন। এই প্রথমবার টেস্টে ৫ উইকেট নিলেন হাসান, নাম ওঠালেন রাওয়ালপিন্ডির অনার বোর্ডে। এছাড়া এই প্রথম কোনো টেস্ট ইনিংসে ১০ উইকেট নিলেন বাংলাদেশের পেসাররা।

  

পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডের চেহারা আরো খারাপ হতে পারতো। দলীয় ৬৫ রানে বাবর আজম আউট হলে তার জায়গায় নামা রিজওয়ান প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দেন। তবে হাতে বলটি জমাতে পারেননি সাদমান ইসলাম। আগের বলে বাবরের ক্যাচ নিলেও এবার শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারেননি। প্রথম বলে জীবন পেয়ে পরে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে টানেন রিজওয়ান।

 

রোববার হাসান মাহমুদের তোপের মুখে ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। আজ সকালে দিনের নবম ওভারে পাকিস্তানের প্রথম উইকেটটি নেন তাসকিন। তার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিড অফে নাজমুল হোসেনকে ক্যাচ দেন সাইম আইয়ুব। তিনি ৩৫ বলে ২০ রান করেন। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে শান মাসুদ, বাবর আজম ও সৌদ শাকিলকে সাজঘরে ফেরান নাহিদ।

 

টানা তিন ওভারে উইকেট নেন নাহিদ। প্রথম ওভারে শান মাসুদ, দ্বিতীয় ওভারে বাবর ও তৃতীয় ওভারে শাকিল তার শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। দুর্দান্ত এক স্পেলে ৫ ওভার বোলিং করে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার।

 

রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্ট ১০ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচাতে দ্বিতীয় টেস্ট জিততে মরিয়া পাকিস্তান। আর বাংলাদেশকে সিরিজ জিততে এই ম্যাচে ন্যূনতম ড্র করলেই চলবে।