এ বছর বাড়ির পাশেই বসেছিল ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর। এ আসরে বাংলাদেশ মোটেও ভালো করেনি। যদিও বছরের শেষটা রাঙায় টাইগাররা। ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে কাঁদিয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। নারীদের হাত ধরে ক্রীড়ায় এ বছর বেশকিছু সাফল্য পায় বাংলাদেশ। নারী ক্রিকেট দল ঘরের মাঠে ভারতের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ ড্র করে, পরে পাকিস্তানকে ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজে হারায়। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচ জিতেছে নিগার সুলতানার দল। নারী ফুটবল দল ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরকে বড় ব্যবধানে হারায়। নোভাক জোকোভিচ জিতেছেন রেকর্ড ছোঁয়া ২৪তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। স্পেনের নারীরা প্রথমবারের মতো জিতে নেয় ফুটবল বিশ্বকাপ শিরোপা। লিওনেল মেসির হাতে উঠেছে অষ্টম ব্যালন ডি’অর ট্রফি। আর ক্লাব ফুটবলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, মেসি, নেইমার ও বেনজেমাদের দলবদল ছিল সাড়া জাগানো ঘটনা। ২০২৩ সালে খেলাধুলার উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে লিখেছেন রকিবুল ইসলাম 

ফুটবলে ‘আরব বিপ্লব’, যুক্তরাষ্ট্রে মেসি

বছরের শুরুতেই পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কারণে আলোচনায় আসে সৌদি প্রো লিগ। তাকে বছরে প্রায় ২০ কোটি ডলার পারিশ্রমিক দিয়ে দলভুক্ত করে আল নাসের। রোনালদোর পর লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো দুই সুপারস্টারের দিকেও হাত বাড়ায় সৌদি লিগের ক্লাবগুলো। ৩৬ বছর বয়সী মেসি যাননি। তিনি বেছে নেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মিয়ামিকে। আর ২৪ বছর বয়সী এমবাপ্পে এখনই সৌদি যাওয়ার কথা ভাবছেন না। তিনি বরং রিয়াল মাদ্রিদে যেতে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়েনি প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

এ দুজনকে শেষ পর্যন্ত না পেলেও দলবদলে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর কাঁপন ধরিয়ে দেয় প্রো লিগ। রোনালদোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা, সেনেগালের সাদিও মানে, ব্রাজিলের নেইমার ও রবার্তো ফিরমিনো, ইংল্যান্ডের জর্ডান হেন্ডারসন এবং আলজেরিয়ার রিয়াদ মাহরেজরা সৌদি লিগে নাম লেখান। 

সৌদি ক্লাব আল হিলাল টাকার বস্তা নিয়ে তৈরি ছিল। যদিও মেসিকে রাজি করানো যায়নি। মেসিকে ইন্টার মিয়ামিতে নিয়ে যান ডেভিড বেকহ্যাম। মেসির আগমনে বিরাট প্রভাব পড়ে আমেরিকান ফুটবলে। পেলের পর সবচেয়ে বড় ফুটবলারের আগমনে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে হৈচৈ পড়ে যায়। 

মেসির হাতে অষ্টম ব্যালন ডি’অর ট্রফি

সর্বোচ্চ সাতবার ব্যালন ডি’অর জিতে আগেই রেকর্ডের অধিকারী লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালে অষ্টমবারের মতো তিনি জিতলেন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারটি। মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। 

গত এক মৌসুমের পারফরম্যান্সের বিচারেই দেয়া হলো এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। কিন্তু মেসি তো এটি জিতে নিলেন স্রেফ এক মাসের পারফরম্যান্সে! ২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে মরুর দেশ কাতারের মাঠে মাঠে সবুজের গালিচায় ফুল ফুটিয়ে চলা এ ফুটবল শিল্পী প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে। ফাইনালে দুই গোলসহ মোট সাত গোল করে হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। 

২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালে ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোল ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ বছর নারীদের সেরা হয়েছেন বার্সেলোনায় খেলা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আইতানা বোনমাতি।

জোকোভিচের ২৪তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড

এ বছর ইউএস ওপেনের ফাইনালে রাশিয়ার দানিল মেদভেদেভকে সরাসরি সেটে হারিয়ে পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ সব মিলিয়ে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তি গড়েন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফ্ল্যাশিং মিডোতে রেকর্ড ২৪তম শিরোপার স্বপ্নপূরণ হয় ৩৬ বছর বয়সী এ সুপারস্টারের। আগামী ১৪ জানুয়ারি মেলবোর্ন পার্কে শুরু হবে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম আসর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। হয়তো এ আসরেই তিনি মার্গারেট কোর্টকে টপকে এককভাবে সর্বোচ্চ ২৫টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার মালিক হয়ে যাবেন। 

নারী ফুটবলে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ফিফা নারী ফুটবল বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় গত ২০ আগস্ট নবম নারী বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় লা রোজারা। বিশ্বকাপে মাত্র তৃতীয়বারের মতো অংশ নিয়েই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখাল স্প্যানিশ নারীরা। সেই সাফল্যের পর ইউরোপের টুর্নামেন্টেও ভালো করে দলটি। ফলে তারা প্রথমবারের মতো উঠে যায় র‍্যাংকিংয়ের ১ নম্বরে। 

২০১৫ সালে অভিষেক আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় স্পেন। ২০১৯ সালে খেলেছে শেষ ষোলোয়। এবার নিজেদের তৃতীয় আসরে সবাইকে চমকে দিয়ে লা রোজারা উঠে যায় ফাইনালে। রূপকথা লিখে চলা স্প্যানিশ নারীরা শিরোপা নিয়েই বাড়ি ফিরছে। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে টানা গোল করা সালমা প্যারালুয়েলো সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হয়েছেন। টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন স্পেনের বোনমাতি। আর সেরা গোলকিপারের পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের ম্যারি আর্পস।  

এক পঞ্জিকাবর্ষে পাঁচ ট্রফি জয়ের কীর্তি ম্যানসিটির

গত এক দশকে ইংল্যান্ডের সেরা দল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু কিছুতেই ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ধরা দিচ্ছিল না। অবশেষে ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে পেপ গার্দিওলার দল। সেই জয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। সৌদি আরবের জেদ্দায় সম্প্রতি ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সকে ৪-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে নেয় সিটিজেনরা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও!

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল ও চেলসির পর চতুর্থ ইংলিশ ক্লাব হিসেবে বিশ্বকাপ জিতল ম্যানসিটি। এদিন প্রথম ইংলিশ ক্লাব হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে পাঁচটি ট্রফি জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ল গার্দিওলার দল। গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর গত আগস্টে তারা জয় করে উয়েফা সুপার কাপ শিরোপা। এবার বিশ্বকাপ ট্রফির স্বাদ পায় ইংলিশ দলটি।

ভারতের স্বপ্নভঙ্গ, অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ বিশ্ব শিরোপা

ঘরের মাঠে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের দারুণ এক সুযোগ এসেছিল ভারতের সামনে। যদিও রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের সেই স্বপ্নভঙ্গ হলো অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে। ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার গোলায় বিধ্বস্ত ভারত হেরেছে ছয় উইকেটে। আগে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ২৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। পরে ট্রাভিস হেডের ১৩৭ রানের বীরোচিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪২ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় অজিরা।

এটা অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা। এর আগে ১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ জয় করে অজিরা। অন্যদিকে, তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরা থাকল ভারতের। তারা ১৯৮৩ ও ২০১১ সালে বিশ্ব শিরোপার স্বাদ পায়।

শচীনকে টপকে ৫০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি কোহলির

শচীন টেন্ডুলকারকে টপকে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৫০ সেঞ্চুরির মালিক এখন তারই স্বদেশী বিরাট কোহলি। ১৫ নভেম্বর মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ১০৯ বলে ৫০তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ইতিহাস গড়েন এ ব্যাটিং গ্রেট। শচীনের সামনে শচীনের রেকর্ড ভাঙেন কোহলি। তিনি ২৭৯ ইনিংসে ৫০তম সেঞ্চুরি করলেন। শচীন যা করেছিলেন ৪৫২ ইনিংসে। এছাড়া রোহিত শর্মা ২৫৩ ইনিংসে ৩১ সেঞ্চুরি, রিকি পন্টিং ৩৬৫ ইনিংসে ৩০ সেঞ্চুরি ও সনাথ জয়সুরিয়া ৪৩৩ ইনিংসে ২৮ সেঞ্চুরি করেন। 

অবসর নিয়ে ইউ-টার্ন ও বিশ্বকাপ দলে ব্রাত্য তামিম

২০২৩ সালটা তামিম ইকবালের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অন্যতম স্মরণীয় বছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ওপেনিং ব্যাটার এ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আচমকাই অবসর ঘোষণা দেন। যদিও ২৮ ঘণ্টার ব্যবধানে অবসর ভেঙে ফেরেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে চোট নিয়ে খেলার বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজমেন্টের ভেতর থেকে সমালোচনা ওঠায় তিনি রাগে-ক্ষোভে অবসর নেন। যদিও পরে প্রধানমন্ত্রী ডেকে তাকে খেলায় ফেরার কথা বললে তিনি তাতে রাজি হন। বিশ্বকাপের আগে তিনি দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন। পরে সাকিব আল হাসান তার জায়গা নেন। বিশ্বকাপের আগে তামিম ও সাকিবকে নিয়ে বেশ নাটকীয়তা হয়। হাফ-ফিট তামিমকে দলে নিতে অনীহা প্রকাশ করেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত তামিমকে ছাড়াই বিশ্বকাপ খেলতে যায় বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টি জিততে সমর্থ হয় টাইগাররা। বলা হয়, সাকিব-তামিম ঘটনার প্রভাবেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খারাপ হয়েছে।  

প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করলেন সাবিনারা

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী ক্রিকেট দলের বিজয় নিশান ওড়ানোর পরদিন ফুটবল মাঠ থেকেও সুখবর দিল মেয়েরা। ঢাকায় গত ৪ ডিসেম্বর ফিফা প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল সিরিজের (ফিফা টায়ার-১) প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৩-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। একই মাঠে পরের ম্যাচে আরো বড় ব্যবধানে জিতেছে সাবিনা খাতুনের দল। সিঙ্গাপুরের মেয়েদের বিধ্বস্ত করে সাইফুল বারী টিটুর দল জিতল ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। 

প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জিতল বাংলাদেশ

গত ১৭ ডিসেম্বর দুবাইয়ে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে আশিকুর রহমান শিবলির সেঞ্চুরিতে ভর করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বাইরে এবার শিরোপা গেল অন্য কোনো দেশে। বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে প্রথম শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখাল। এর আগে ২০১৯ সালের ফাইনালে তারা ভারতের কাছে পাঁচ উইকেটে হেরেছে। সেই ভারতকে এবার সেমিফাইনালে হারায় মাহফুজুর রহমান রাব্বীর দল।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একের পর এক ‘প্রথম’ টাইগারদের 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে টাইগাররা। গত ২ ডিসেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ জয় তুলে নেয় শান্ত বাহিনী। এ ম্যাচে ১৫০ রানে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে এবারই প্রথম এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে টেস্টে ৩ হার ও ৩ ড্রয়ের পর এবারই প্রথম জয় এসেছে। এ টেস্টে দারুণ অবদান রেখেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। নিউজিল্যান্ডের দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১০ উইকেট নিলেন তিনি। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের পর বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেন তাইজুল। ২০১৮ সালে টেস্টে প্রথমবারের মতো তাইজুল ১০ উইকেট নিয়েছিলেন এ সিলেটেই।

টেস্ট সিরিজ খেলেই ক্রিকেট দল উড়াল দেয়  নিউজিল্যান্ডের পথে। সেখানে ইতিহাস গড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বীপদেশে টানা ১৮ ওয়ানডে হারের পর ১৯তম ওয়ানডেতে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। ২৭ ডিসেম্বর পরের ম্যাচে আরেক ইতিহাস। এবার টি২০ জয়। নিউজিল্যান্ডের মাঠে এর আগে কখনো টি২০ ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাঠে তিন ফরম্যাটেই জয়ের বৃত্ত পূরণ করল টাইগাররা। আজ সিরিজ জয়েরও সুযোগ নাজমুল শান্তর দলের সামনে। 

নিউজিল্যান্ডে সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরির কীর্তি

এ মাসেই নিউজিল্যান্ডের মাঠে দারুণ এক কীর্তি গড়েন সৌম্য সরকার। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও নিউজিল্যান্ডের মাঠে উপমহাদেশের কোনো ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস খেলার গৌরবের অধিকারী হন সৌম্য। ১৫১ বলে খেলেন ১৬৯ রানের রাজসিক ইনিংস। যদিও তার এ সেঞ্চুরি বিফল করে দিয়ে ম্যাচটি জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। ২৯২ রানের টার্গেটটা তিন উইকেট হারিয়ে ছুঁয়ে ফেলে কিউইরা। এরপর সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। এটা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়। সেঞ্চুরির কীর্তিতে উজ্জীবিত সৌম্য শেষ ম্যাচে বল হাতে উজ্জ্বল। তিনি এ ম্যাচে বল হাতে ৩ উইকেট নেন।

বাংলাদেশের হয়ে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর। সর্বোচ্চ ১৭৬ রান করার কীর্তিটা লিটন দাসের গড়া। ২০২০ সালে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কায় এ রান করেছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। এর পরই সৌম্য সরকারের ১৬৯ রান। এছাড়া তামিম ইকবালের ১৫৮, ১৫৪, ১৩২, ১৩০ ও ১২৯ রানের স্কোর রয়েছে। মুশফিকুর রহিমের ১৪৪, ইমরুল কায়েসের ১৪৪, লিটন দাসের ১৩৬, সাকিব আল হাসানের ১৩৪ রানের ইনিংস রয়েছে। 

কাব্যিক এ ইনিংস খেলে ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে টপকে গেলেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ডের মাঠে উপমহাদেশের কোনো ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা এতদিন ধরে ছিল টেন্ডুলকারের দখলে। ২০০৯ সালে ক্রাইস্টচার্চে ১৬৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছিলেন ভারতীয় সুপারস্টার। এবার তাকে টপকে যান সৌম্য।

যদিও বিদেশী হিসেবে এটাই নিউজিল্যান্ডের মাঠে সর্বোচ্চ স্কোর নয়। ২০০৭ সালে হ্যামিল্টনে ১৮১ রানের ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন। সেটাই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনো বিদেশীর সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস। এছাড়া ২০১৪ সালে নিউজিল্যান্ডের মাঠে কানাডার বিপক্ষে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন স্কটল্যান্ডের ক্যালাম ম্যাকলাউড।

সৌম্যর এ বীরোচিত ইনিংসের আগে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে সেঞ্চুরি আছে ৬৭টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪টি সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল। এছাড়া সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম ৯টি করে, লিটন দাস ৫টি, শাহরিয়ার নাফিস, ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহ ৪টি করে, এনামুল হক, সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ৩টি করে, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি করে এবং মেহরাব হোসেন অপি, রাজিন সালেহ, নাসির হোসেন, জুনায়েদ সিদ্দিক, সাব্বির রহমান ও অলোক কাপালী করেছেন ১টি করে সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাফল্য

গত জুলাইয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ম্যাচে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ নারী দল। গত ১৬ জুলাই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে ৪৩ ওভারে ১৫২ রান তুলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৪৪ ওভারে ১৫৪ রানের সংশোধিত টার্গেট পায় অতিথিরা। জবাব দিতে নেমে ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় হারমানপ্রিত কাউরের দল। ছয়বারের চেষ্টায় এ প্রথম স্মৃতি মন্ধানা, হারমানপ্রিতদের হারাল টাইগ্রেসরা। আগের ৫ ম্যাচের সবগুলোতে ছিল হারের লজ্জা। 

নারী ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ফারজানা

ভারতের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ ড্র করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশের মেয়েরা। গত ২৩ জুলাই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফারজানা হক পিংকির সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪ উইকেটে ২২৫ রান তোলে বাংলাদেশ। এদিন তিন অংক ছুঁয়েই ইতিহাস গড়েন ৩০ বছর বয়সী ফারজানা। এর আগে ৫৬ ওয়ানডের ইতিহাসে বাংলাদেশের কেউ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। সবার আগে এ কীর্তিটা গড়লেন ফারজানা। পরে রান তাড়া করতে নামা ভারতকে ২২৫ রানে অলআউট করেন স্বাগতিক দলের বোলাররা। বৃষ্টিতে ম্যাচের সময় নষ্ট হওয়ায় সুপার ওভারের কোনো সুযোগও ছিল না।

ফলে ম্যাচটি টাই হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। এতে তিন ম্যাচ সিরিজটা ১-১-এ সমতায় থাকল। ট্রফি ভাগাভাগি করে দুই দল। 

আইপিএলে রেকর্ড পারিশ্রমিক পাচ্ছেন মিচেল স্টার্ক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৭তম আসরের নিলামে হলো নতুন রেকর্ড। সম্প্রতি দুবাইয়ের কোকা-কোলা অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এ নিলামে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ককে দলভুক্ত করে কলকাতা নাইট রাইডার্স! 

একই দিনে দুবার সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড়ের রেকর্ড হলো। বিশ্বকাপজয়ী দলনায়ক প্যাট কামিন্সকে ২০ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে কিনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ইতিহাস গড়ার কিছু সময় পর স্টার্ককে কিনে সেই রেকর্ডটা ভেঙে দেয় কলকাতা। 

এবার নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলকে ১৪ কোটি রুপিতে চেন্নাই, হার্শাল প্যাটেলকে ১১.৭৫ কোটিতে পাঞ্জাব, আলজারি জোসেফকে ১১.৫০ কোটিতে রাজস্থান, স্পেন্সার জনসনকে ১০ কোটিতে গুজরাট, রভম্যান পাওয়েলকে ৭.৪০ কোটিতে রাজস্থান, শাহরুখ খানকে ৭.৪০ কোটিতে গুজরাট, কুমার কুশাগ্রাকে ৭.২০ কোটি তে দিল্লি ক্যাপিটালস, ট্রাভিস হেডকে ৬.৮০ কোটিতে সানরাইজার্স কিনে নেয়। 

২০২৩ সালে শীর্ষ আয়কারী নারী অ্যাথলিট কোকো গাফ

বিশ্বে নারী অ্যাথলিটদের মধ্যে আয়ে টেনিস খেলোয়াড়রাই এগিয়ে। শীর্ষ ১৫ জনের মধ্যে নয়জনই টেনিস খেলোয়াড়। গত দুই দশকেই শীর্ষ নারী অ্যাথলিটের মুকুট উঠেছে সেরেনা উইলিয়ামস, মারিয়া শারাপোভা কিংবা নাওমি ওসাকার মাথায়। কিন্তু এ তিনজনই তো এখন টেনিসের বাইরে। গত বছর অবসর নেন সেরেনা। ২০২০ সালে টেনিসকে না বলেন রুশ গ্ল্যামারগার্ল শারাপোভা। কন্যা শাই জন্মগ্রহণ করায় পুরো বছরটি টেনিস থেকে দূরে ওসাকা। এতে তার চুক্তিগুলোর বেশির ভাগই সক্রিয় নেই। 

এ তিন তারকার অনুপস্থিতিতে দুয়ার খুলে যায় নতুনদের। এতে লড়াইয়ে নামেন আমেরিকান টেনিসের নতুন সুপারস্টার কোকো গাফ, পোলিশ সেনসেশন ইগা সিয়ানতেক ও আলপাইন স্কিয়ার এইলিন গু। ২০২৩ সালে প্রাইজমানি ও এনডোর্সমেন্ট মিলিয়ে ২ কোটি ২৭ লাখ ডলার আয় করে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ১৯ বছর বয়সী কোকো। 

এ বছরই ইউএস ওপেন জিতেছেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। এ জয়ের পর পৃষ্ঠপোষক কোম্পানি নিউ ব্যালান্স ও হেডের কাছ থেকে আকর্ষণীয় বোনাসও পেয়েছেন তিনি।

১৯ বছর বয়সী কোকো অর্ধ দশক ধরেই আছেন স্পন্সর কোম্পানিগুলোর রাডারে। বয়স ১৫ হওয়ার আগেই তাকে লুফে নেয় র‍্যাকেট প্রস্তুতকারক হেড, ইতালির পাস্তা জায়ান্ট বারিয়া ও নিউ ব্যালান্স। ওই স্পন্সর তো আছেই, এ বছর নতুন করে তিনি নামের পাশে যুক্ত করেছেন বোস, ইউপিএস, নিরীক্ষা ফার্ম বেকার টিলি। তার আরেকটি সহযোগী রোলেক্স। এবার ইউএস ওপেন জয়ের পর তার সঙ্গে চুক্তি করেছে সানগ্লাসের ব্র্যান্ড রে-ব্যান ও দ্য মারভেল মুভি।