৪৪ বছর পর প্রথম কোনো ব্রিটিশ নারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের সুযোগ এসেছে ১৮ বছর বয়সী এমা রাদুকানুর সামনে। আজ ফাইনালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক টিনএজ ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান খেলোয়াড় লেইলাহ ফার্নান্দেজ। দুজনের এ শিরোপাযুদ্ধ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে।
১৫০ র্যাংকধারী রাদুকানু আর ৭৩ র্যাংকধারী ফার্নান্দেজ। যদিও আসর শুরুর আগে কেউ হয়তো ভাবেননি তারা দুজন এতদূর আসতে পারবেন। রাদুকানু তো বাছাই রাউন্ড শেষে ব্রিটেনের ফিরতি টিকিটও কেটে রেখেছিলেন। এরপর একের পর এক চমকের জন্ম দিয়ে তিনি উঠে যান ফাইনালে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দেজও ফ্লাশিং মিডোতে একের পর এক চমক দেখিয়ে উঠে এসেছেন ফাইনালের মঞ্চে।
রাদুকানুর সাফল্যের গল্পটা রূপকথার মতোই। র্যাংক এতটাই নিচের দিকে ছিল যে তাকে বাছাইয়ে তিনটি রাউন্ড খেলতে হয়েছে এবং প্রথম বাছাই খেলোয়াড় হিসেবে কোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে জায়গা করে নেয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এমনকি ফাইনালে ওঠার পথে তিনি একটিও সেট হারেননি!
ফার্নান্দেজের যাত্রাও ঈর্ষণীয়। ফাইনালের পথে তিনি হারিয়েছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকা, পঞ্চম বাছাই এলিনা সভিতোলিনা, বিশ্বের দুই নম্বর র্যাংকধারী খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কা ও তিনবারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন অ্যাঞ্জেলিক কেরবার।
রাদুকানু ডানহাতি আর ফার্নান্দেজ বামহাতি। ভিন্ন পথ আর ভিন্ন স্টাইলের অধিকারী হলেও একটি জায়গায় অভিন্ন এ দুজন—অকুতোভয়। সাহস দিয়েই জয় করেছেন। ১৯৯৯ সালের পর ইউএস ওপেন ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন দুই টিনএজ। সর্বশেষ ফ্লাশিং মিডোতে শিরোপাযুদ্ধে লড়েছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস ও মার্টিনা হিঙ্গিস।
রাদুকানুর সাফল্যের পথ চেয়ে থাকবে ব্রিটেনবাসী। খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন টুইট করেছেন, ফাইনালে গোটা দেশ তোমার জন্য চিত্কার করবে।
রাদুকানুর চেয়ে মাত্র দুই মাসের বড় এ সপ্তাহেই ১৯ বছরে পা দেয়া ফার্নান্দেজ। ফাইনালে উঠেই তিনি অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন। এ তালিকায় আছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো থেকে শুরু করে শীর্ষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা। কানাডা আইস হকি দলের অধিনায়ক ম্যারি-ফিলিপ পাওলিন তাকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ফাইনালে নামার আগে ম্যাপল সিরাপ খেতে ভুলো না যেন!
কানাডায় অভিবাসী পরিবারে জন্ম দুজনেরই। রাদুকানুর বাবা ইয়ান রোমানিয়ান আর মা রিনি চীনা। রাদুকানুর বয়স যখন দুই বছর তখন তারা ব্রিটেনে পাড়ি জমান। পাঁচ বছর বয়সে টেনিস খেলা শুরু করেন রাদুকানু।
কানাডার মন্ট্রিয়লে জন্মগ্রহণ করা ফার্নান্দেজের বাবা একুয়েডরিয়ান, যিনি একজন সাবেক ফুটবলার। মা ইরিনা ফিলিপিনো বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান।
২০১৮ সালের জুনিয়র উইম্বলডনে দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হন রাদুকানু আর ফার্নান্দেজ। রাদুকানুর আগের সেরা সাফল্য উইম্বলডনের চতুর্থ রাউন্ড। আর ফার্নান্দেজের সেরা সাফল্য এ বছর জেতা মন্টেরেই ওপেন শিরোপা। এবার ইউএস ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন এ দুজন।
ফার্নান্দেজ বলেন, আমি মনে করি, আমরা টেনিস বিশ্বে একটি ব্যবধান তৈরি করতে ক্ষুধার্ত হয়ে আছি। টেনিসের ট্যুরে যাওয়া কিংবা বড় মঞ্চে একসাথে খেলা নিয়ে আমরা অনেক সময় মজা করেছি। আমরা একটি ব্যবধান তৈরি করতে চাই। টেনিসে একটি প্রভাব ফেলতে চাই।
ফাইনালের ফলাফল যাই হোক না কেন, এরই মধ্যে তারা টেনিসে প্রভাব ফেলতে সমর্থ হয়েছেন।










