ধীরগতি ও এলোমেলো সংস্কারকাজের কারণে এবারো বরিশাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচ হচ্ছে না। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আশ্বাসে বরিশালবাসীর মনে আশার সঞ্চার হলেও তা পুরোই ভেস্তে গেছে।

আগামী বিপিএলের সূচিতেও নেই বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম। জানা গেছে, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে হবে পরবর্তী আসরের খেলা।

সম্প্রতি বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা। কিন্তু পরিদর্শনে এসে কাজের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা চলে যান। এতে ভেন্যুর সম্ভাব্য তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় বরিশাল স্টেডিয়াম। ফলে বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আশা অপূর্ণই থাকছে। এতে ক্ষোভ আর হতাশা দেখা দিয়েছে ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অব্যবস্থাপনার কারণে বরিশালের মতো এত ভালো মানের একটি স্টেডিয়াম অযত্নে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে কাজ করেও সংস্কার শেষ হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করে বরিশালের ক্রীড়াপ্রেমীরা বলেন, স্টেডিয়ামের সংস্কার এ জনমে আর হবে না। আন্তর্জাতিক আসর সাজানো তো দূরের কথা, বর্তমান অবস্থা চলমান থাকলে কিছুদিন পর নিয়মিত খেলাধুলাও বন্ধ হয়ে যাবে। বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ঢেলে না সাজালে বরিশালের স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া অঙ্গনের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার।

সরজমিনে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা যায়, সংস্কারকাজের ভীষণ এলোমেলো অবস্থা। প্রতিটি কাজ শুরুর পর আংশিক অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। খেলার জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ প্রস্তুতে গুরুত্ব না দিয়ে তৈরি করে রাখা হয়েছে গ্যালারির চেয়ার। পুরো মাঠের মাটি খুঁড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। প্যাভিলিয়ন ভবনের ও মিডিয়া ব্লকের ৫০ শতাংশ কাজ শেষের দাবি করা হলেও তা এখনো সময়সাপেক্ষ। ফ্লাডলাইট দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় তা অকেজো হয়ে গেছে। এটি মেরামতেও পাঁচ-ছয় মাস লাগবে। সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার ও ইলেকট্রিক ওয়্যার বসানোর কাজ অবশ্য কিছুটা এগিয়েছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠের কাজের অবস্থা শোচনীয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের মতো এখানকার মাঠেও উন্নতমানের ঘাস লাগানো ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির কথা থাকলেও তার কোনো খবর নেই।

১৯৬৬ সালে কীর্তনখোলা নদীর তীরে ২৯ একর ১৫ শতক জমির ওপর স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়ন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ স্টেডিয়ামে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। ২০১৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক আসর হিসেবে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের চারদিনের ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা পরিত্যক্ত হয়।