বিশাখাপত্তনমে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডকে ১০৬ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরেছে ভারত। ৩৯৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশরা আজ চতুর্থ দিন ২৯২ রানে অলআউট হয়ে যায়।

 

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতকে ২৫৫ রানে অলআউট করার কৃতিত্ব দেখায় ইংল্যান্ড। এরপরও তারা ৩৯৯ রানের বিশাল টার্গেটের সামনে পড়ে। প্রথম ইনিংসে ভারতের চেয়ে ১৪৩ রান কম করায় কাজটা কঠিন হয়ে পড়ে বেন স্টোকসদের। বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ১ উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে রোববার তৃতীয় দিন মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা। তাদের আরো করতে হতো ৩৩২ রান, হাতে ছিল ৯ উইকেট। পারেনি অতিথি দলটি।

 

স্টোকসের দল আজ সোমবার চতুর্থ দিন ৫৫.২ ওভার ব্যাট করে বোর্ডে ২২৫ রান তুলে বাকি ৯ উইকেট হারায়। ওপেনার জ্যাক ক্রলে ছাড়া আর কেউই ফিফটি করতে পারেননি। ক্রলে ১৩২ বলে ৭৩ রান করেন। প্রথম ইনিংসেও তিনি করেছিলেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান। এছাড়া বেন ফোকস ৩৬, টম হার্টলি ৩৬, বেন ডাকেট ২৮ ও জনি বেয়ারস্টো ২৬ রান করেন। জশপ্রীত বুমরাহ ও রবিচন্দ্র অশ্বিন উভয়ই তিনটি করে উইকেট নেন।

 

মনে হতে পারে ইংলিশরা বড় ব্যবধানে হেরেছে। তবে ইতিহাস বলে, চতুর্থ ইনিংসে তারা খারাপ করেনি। কেননা ভারতের মাঠে বিদেশি কোনো দল হিসেবে এটা চতুর্থ ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। তাদের চেয়ে বেশি করেছে শুধু প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকা। ২০১৭ সালে দিল্লি টেস্টে ৫ উইকেটে ২৯৯ রান করেছিল লংকানরা।  

 

দুই ইনিংস মিলে ৯১ রানে ৯ উইকেট শিকার করা বুমরাহ হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়। বিশাখাপত্তনমের এই ব্যাটিং স্বর্গে ব্যাটারদেরই রাজত্ব করার কথা। করেছেনও। ভারতের ওপেনার জশস্বী জয়সাল খেলেছেন ২০৯ রানের ইনিংস। এরপরও বুমরাহকে ম্যাচসেরা পুরস্কার দেয়ার কারণ তিনিই ‘গেম চেঞ্জার’। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে তিনি একের পর রিভার্স সুইং দিয়ে ইংলিশ ব্যাটারদের কাবু করেছেন। তিনিই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিয়েছেন। তাই ১০ উইকেট না পেলেই বুমরাই ম্যাচসেরা।  

 

১৫ ফেব্রুয়ারি রাজকোটে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাঁচিতে চতুর্থ ও ৭ মার্চ ধর্মশালায় পঞ্চম ও শেষ টেস্ট শুরু হবে।