আগামী
বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মৌসুমের জন্য বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারকে ছেড়ে
দিয়েছে তাদের নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজি। সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা
নাইট রাইডার্স, মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। বিশ্বকাপের
রেশেই এমনটি ঘটল কিনা, সেই সংশয় অনেকের।
বিশ্বকাপ
ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হারের পর ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কিছু
ক্রিকেট সমর্থক উল্লাস করেছেন। এ নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে
নেতিবাচকভাবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতারা পর্যন্ত এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এমনও বলা হয়—আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করলাম, আজ তারাই আমাদের বিরোধিতা করে!
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানা যায়, দার্জিলিংসহ বেশ কিছু জায়গায় বাংলাদেশীদের হোটেল
বুকিং বন্ধ রাখা হয়েছে!
এবার
বাংলাদেশের তিন ক্রিকেট তারকাকে আইপিএলের দল থেকে ছেড়ে দেয়ায় সমর্থকদের মধ্যে
হতাশা তৈরি হয়েছে। সংশয় দানা বাঁধছে। অবশ্য
ছেড়ে দেয়া মানেই তাদের আইপিএল ক্যারিয়ার শেষ, সেটি বলা যাবে না।
ধরে
রাখা ক্রিকেটারদের তালিকা জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল রোববার। এ দিনই ইএসপিএনক্রিকইনফো আইপিএল
দলগুলোর ধরে রাখা ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করে। সেখানেই দেখা, যায় এবার বাংলাদেশের
তিন তারকাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য এর পেছনে খানিকটা ক্রিকেটীয় যৌক্তিকতাও আছে। সাকিবকে
গতবার নিলামে ভিত্তিমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা। জাতীয় দলের একাধিক
সিরিজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পরে অবশ্য সরে দাঁড়ান তিনি। খেলেননি কোনো ম্যাচই। রাজনীতিতে
নাম লেখানোয় হয়তো ভবিষ্যতেও তার জন্য খেলা কঠিন হবে। সেটা বিবেচনায় নিতে পারে কেকেআর।
আইপিএলে ৯ আসরে অংশ নিয়ে
মোট ৭১ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। ৫২ ইনিংসে ১৯.৮৩ গড় ও ১২৪.৪৯ স্টাইক রেটে করেছেন ৭৯৩ রান।
বামহাতি এই স্পিনার ৭০ ইনিংসে নেন ৬৩ উইকেট। কেকেআরের হয়ে তিনি শিরোপা জিতেছেন দুইবার।
আইপিএলের পরিচিত মুখ মুস্তাফিজ
গত দুই আসরে দিল্লির হয়ে খেলেন। ২০২২ আসরে আট ম্যাচে ৮ উইকেট নেন। ২০২৩ আসরে সুযোগ
পান মাত্র দুই ম্যাচে, উইকেট পান একটি। এবার তাই তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখাল না দিল্লি।
এর আগে তিনি খেলেছেন সানরাইজার্স
হায়দরাবাদ, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও রাজস্থান রয়্যালসে। শিরোপা জিতেছেন হায়দরাবাদের হয়ে।
প্রথম আসরেই সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হন তিনি।
ডানহাত ব্যাটার ও উইকেটকিপার
লিটন দাস আইপিএলে খেলেন মাত্র এক মৌসুম। যদিও খুব সংক্ষিপ্ত ছিল তার সেই অধ্যায়। গতবারের
নিলামে ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ রুপিতে লিটনকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। গত আসরে তিনি মাত্র একটি
ম্যাচে খেলার সুযোগ পান, যাতে মাত্র ৪ রান করে আউট হয়ে যান। মূলত আফগান ক্রিকেটার রহমানুল্লাহ
গুরবাজের কারণেই সুযোগ মিলছিল না লিটনের। পরে তিনি কেকেআরকে বিদায় জানিয়ে ইংল্যান্ডে
যোগ দেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে।
সাকিব, মুস্তাফিজ, লিটন
কিংবা অন্য কোনো বাংলাদেশি ২০২৪ সালের আইপিএলে খেলার সুযোগ পাবেন কিনা, সেটি এখন নির্ভর
করছে, নিলামে তাদের কোনো দল নেয় কিনা, তার ওপর। আগামী মাসেই নিলাম। যদিও কেউ কেউ ধারণা
করছেন, বিশ্বকাপের রেশে এবার বাংলাদেশ থেকে কাউকে নেয়া নাও হতে পারে।










