জুবায়ের আহমেদ লন্ডন থেকে ফোনে সাঁতার ফেডারেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়মিত জানতে চাচ্ছেন। এপ্রিলে বাংলাদেশ গেমস, তারপর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সাঁতার প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। দুটি আসরে খেলার কথা জুনাইনা আহমেদের। মেয়েকে নিয়ে দেশে আসার আগে তাই জুবায়ের উদ্বিগ্ন।

চীনসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে ছড়ানো প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের ভয়াবহতার ছাপ পড়েনি দক্ষিণ এশিয়ায়। তার পরও একাধিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলেছে এ ভাইরাস। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা দাগ কাটতে পারে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও। কারণ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে অধিকাংশ ক্রীড়া ডিসিপ্লিন আন্তর্জাতিক আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। যার অন্যতম সাঁতার ও অ্যাথলেটিকস। সব ঠিক থাকলে আয়োজনগুলো আলোর মুখ দেখবে এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ গেমসের পর। কিন্তু তিন-চার মাস পর করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়ায় এ নিয়েই মূলত উদ্বেগ।

থাইল্যান্ড ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগে এশিয়ান জুনিয়র অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ স্থগিত করার চিঠি দিয়েছে। পরে আবার জানানো হয়—আসরটি হবে। তার আগে চীনে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসও বাতিল করা হয়। স্থগিত করা হয়েছে শ্রীলংকার ক্রস কান্ট্রি মিনি ম্যারাথনও। এ নিয়ে গতকাল বণিক বার্তাকে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ খান চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাব এশিয়ার ক্রীড়া কার্যক্রমের ওপর স্পষ্ট। কয়েক মাস পর পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তার ওপর নির্ভর করছে আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়টি।’ ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে থাইল্যান্ডে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস দলের অনুশীলন কার্যক্রমও বাতিল করতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অংশ হিসেবে অ্যাথলেটিকসে দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান ফরিদ। তার কথায়, ‘যদিও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোয় এ ভাইরাসে আক্রান্তের খবর খুব বেশি নেই। তার পরও নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আসর ছাড়া বাকিগুলো পাশ কাটিয়েই চলছে বিভিন্ন দেশ। এ অঞ্চলে ভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা আমাদের কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলবে।’

অ্যাথলেটিকসে করোনাভাইরাস ছাড়াও ভাবনার বিষয় রয়েছে একাধিক। জমকালো আয়োজনের জন্য বাজেটের স্বল্পতা রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে আর্থিক জটিলতা দূর করা গেলেও ভেনু সমস্যা দূর করা কঠিন। কারণ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক ব্যবহারের অনুপযোগী। বিকল্প হিসেবে রয়েছে বিকেএসপি ও আর্মি স্টেডিয়ামের দুটি ট্র্যাক। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মতো আর্মি স্টেডিয়ামের পরিস্থিতিও ভালো নয়। উপযোগী আছে কেবল বিকেএসপির ট্র্যাক। কিন্তু সেখানে বড় মাপের আয়োজন পরিচালনার আগে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনের অবকাঠামো নেই। এছাড়া বিকেএসপির অ্যাথলেটিকস গ্রাউন্ডে গ্যালারি না থাকাটাও আরেকটা নেতিবাচক দিক।

সাঁতারে অবশ্য সেই অর্থে সংকট নেই। করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ না নিলে বেসরকারি উদ্যোগে হলেও আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের দৃঢ়তা ফেডারেশন কর্মকর্তাদের কণ্ঠে। এ সম্পর্কে সাঁতার ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হামিদ বলেন, ‘জুনে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটা প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি আমরা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের ওপর আয়োজনের রূপরেখা নির্ভর করছে। মানসম্পন্ন একটা আয়োজনের জন্য ২ কোটি টাকা প্রয়োজন। সরকারের তরফ থেকে কতটুকু সহযোগিতা পাব জানি না। সাঁতার ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক (এমবি সাইফ) বিকল্প উৎস থেকে অর্থ আহরণ করে হলেও জমকালো একটা আয়োজন করতে চান। বেসরকারি উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষক সংগ্রহ করেও সেটা হতে পারে।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে হামিদ বলেন, ‘জুনাইনা লন্ডনে অবস্থান করছেন, দুই বছরের স্কলারশিপ নিয়ে ফ্রান্সে আছেন আরিফুল ইসলাম। আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিনিয়ত দেশের খোঁজখবর নিচ্ছেন জুনাইনার বাবা জুবায়ের। দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে বাংলাদেশ গেমস ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি মেয়েকে নাও পাঠাতে পারেন।’ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোয় এ ভাইরাসের প্রকোপ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে এ নিয়ে আপাতত

ভাবনার কিছু দেখছেন না আবদুল হামিদ। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন তিনি।