বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ঘরের মাঠে বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকে টপকে তিনিই এখন লাতিন মহাদেশে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৫৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৭৯। এটা আর্জেন্টিনার হয়ে তার সপ্তম হ্যাটট্রিক। আন্তর্জাতিক গোলে পেলেকে টপকানোর পাশাপাশি হ্যাটট্রিকে ব্রাজিল কিংবদন্তিকে ছুঁয়েছেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে দুজনই হ্যাটট্রিক করেছেন সমান সাতটি। যদিও সব ধরণের ফুটবল মিলে ৯২টি হ্যাটট্রিক নিয়ে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে পেলে।
বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে গতকাল ভোরে ম্যাচের ১৪ মিনিটে চিরচেনা জাদুকরি ড্রিবলিংয়ের পর গোলকিপারকে পরাস্ত করেন মেসি। ৬৪ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান পাস খেলার পর বক্সের জটলার মধ্যেই পায়ের দুর্দান্ত কারুকাজে দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে কাছ থেকে নেয়া শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
গোলের রেকর্ড নিয়ে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, আমি খুবই উত্কণ্ঠিত ছিলাম, আমি সত্যিই এটা ভীষণ উপভোগ করছি। এজন্য আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করেছি, এর পেছনে ছুটেছি এবং স্বপ্ন দেখেছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অনন্য এ মুহূর্তটি ধরা দিল।
কভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর এই প্রথম মাঠে গিয়ে জাতীয় দলের খেলা দেখার সুযোগ পেলেন সমর্থকরা। তাদের সামনেই কোপা আমেরিকার শিরোপা নিয়ে উদযাপন করেন মেসি। এ সময় ট্রফি নিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন পিএসজিতে নাম লেখানো এই সুপারস্টার।
গত জুলাই মাসে ২৮ বছরের প্রতীক্ষা শেষে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় করে আর্জেন্টিনা। সেই আনন্দে গতকাল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ২১ হাজার দর্শকের সামনে নেচেছেন মেসি, আর নীরবে আনন্দাশ্রু ফেলেছেন।
মেসি বলেন, উদযাপন করার ক্ষেত্রে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। এখানে আমার মা আছেন, স্ট্যান্ডে আমার ভাই-বোনেরা আছে। তাদেরও অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং এখন তারাও উদযাপন করছে। আমি অনেক খুশি।
এক লা লিগাতেই মেসি হ্যাটট্রিক করেছেন ৩৬টি। বার্সার জার্সিতে তার মোট হ্যাটট্রিক ৪৮টি। এছাড়া জাতীয় দলের হয়ে করলেন ৭টি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে তার মোট হ্যাটট্রিক দাঁড়াল ৫৫টি।
যদিও একটি জায়গায় এখনো ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির চেয়ে অনেক পেছনে মেসি। ক্যারিয়ারে মোট ৯২টি হ্যাটট্রিক নিয়ে সগৌরবে শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। যদিও বলা হচ্ছে, পেলের অধিকাংশ হ্যাটট্রিকই প্রীতি ম্যাচে করা। এরপরও ৯২টি হ্যাটট্রিক করা সহজ কিছু নয়। আবার কিছু অবিশ্বাস্য রেকর্ড রয়েছে পেলের নামের পাশে। সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ব্রাজিল গ্রেট। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে এ কীর্তি গড়েন তিনি। ৬২ বছর পরও তার এ রেকর্ডটি টিকে আছে।
৫৭টি হ্যাটট্রিক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যিনি সম্প্রতি জুভেন্টাস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ৩৬ বছর বয়সেও এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি। বয়সের কারণে হয়তো কিছুটা গতি হারিয়েছেন রোনালদো, তবে মুভমেন্ট আর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সেটুকু পুষিয়ে নিচ্ছেন তিনি। শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মেসির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তার। কখনো কখনো এ দুজনকে আলাদা করাও কঠিন। যদিও হ্যাটট্রিকের বিচারে তিনি মেসির চেয়ে খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন।
৫৭ হ্যাটট্রিকের মধ্যে এক ম্যাচে চার গোল করেছেন আটবার, আর পাঁচ গোল করেছেন দুবার। প্রায় ১৫ বছর ধরে অতমানবের মতো ছুটছেন রোনালদো এবং সহসাই তার থামবারও কোনো লক্ষণ নেই।
৫৫টি হ্যাটট্রিক নিয়ে তিনে মেসি। প্রায় গোটা ক্যারিয়ার বার্সায় কাটিয়ে দেয়া মেসি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে। প্যারিসে এক ম্যাচ খেলে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের ডিউটিতে। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে গোল পাননি, ব্রাজিলের মাঠে ম্যাচ পণ্ড হয়েছে কভিডজনিত কারণে। এবার বলিভিয়ার বিপক্ষে করলেন হ্যাটট্রিক।
মেসি ক্যারিয়ারে চার গোল করেছেন পাঁচ ম্যাচে, ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন একবার। বলের ওপর অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ আর মোহনীয় ড্রিবলিং মেসিকে করেছে অনন্য।










