প্রথমবারের মতো টি২০ বিশ্বকাপের টিকিট পেল পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডা। নামিবিয়ার পর মহাদেশটি থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে তারা আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে খেলবে। বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার উইন্ডহোকে বাছাই পর্বের ম্যাচে রুয়ান্ডাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে তারা এ যোগ্যতা অর্জন করে। টেস্ট প্লেয়িং দেশ জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা উগান্ডার জন্য বিরাট কৃতিত্বেরই। তবে চমক এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চেও চমক দেখাতে চায় উগান্ডা।
আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইয়ের শেষ পর্বে লড়ে সাত দল। এ পর্বে সবার আগে নামিবিয়া পায় বিশ্বকাপের টিকিট। বৃহস্পতিবার শেষ রাউন্ডে রুয়ান্ডার মুখোমুখি হয় উগান্ডা। এছাড়া কেনিয়ার মুখোমুখি হয় জিম্বাবুয়ে। রুয়ান্ডার কাছে উগান্ডা হারলেই কেবল বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হতে পারত জিম্বাবুয়ে। তবে উগান্ডা নিজ ম্যাচে বড় জয় তুলে নিলে সব আশা শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের। তাই পরের ম্যাচে কেনিয়াকে ১১০ রানে হারিয়েও লাভ হয়নি সিকান্দার রাজার দলের।
টানা পাঁচ জয়ে আগেই বিশ্বকাপের টিকিট পায় নামিবিয়া। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দল হিসেবে টিকিট পায় উগান্ডা। ৬ ম্যাচ থেকে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে দেশটি। ওইদিন পরের ম্যাচে কেনিয়াকে বড় ব্যবধানে হারানো জিম্বাবুয়ের ৮ পয়েন্ট। এরপর কেনিয়া (৬), নাইজেরিয়া (৩), তানজানিয়া (২) ও রুয়ান্ডা (১)।
এবারের টি২০ বিশ্বকাপ শুরুর আগের চমক হলো উগান্ডা। আফ্রিকার এ দেশটি ইতিহাস গড়ে প্রথমবার জায়গা করে নিল টি২০ বিশ্বকাপে। দলটির অধিনায়ক ব্রায়ান মাসাবা বলেছেন, তাদের স্বপ্ন সত্যি হলো। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো আবেগ সংবরণ করার উপায় খুঁজছি। এটা ছিল লম্বা প্রক্রিয়া, লম্বা যাত্রা। অনেক ঘাম, অনেক রক্ত ও অশ্রুর মিশেলে এ অর্জন। একটি দল হিসেবে এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত।’
বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিতেছে উগান্ডা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় জয় তারা পায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সিকান্দার রাজার দলকে পাঁচ উইকেটে হারানোটা ছিল তাদের জন্য ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। কেননা সেটাই ছিল আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের বিপক্ষে তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ। মাসাবা ওই জয়টিকেই ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘যখনই জিম্বাবুয়েকে হারালাম তখনই বুঝে যাই, ভাগ্য এখন আমাদের নিজেদেরই হাতে। এরপর তো ছেলেরা ঘুরে দাঁড়াল। এটা তো বড় মঞ্চ, বিশ্বকাপ! এ প্লাটফর্মে পৌঁছানোর স্বপ্নটা আমাদের দীর্ঘদিনের। অবশেষে স্বপ্ন আমাদের সত্যি হলো।’
তানজানিয়াকে হারিয়ে শুরু উগান্ডার। এরপর তারা নামিবিয়ার কাছে হারলেও পরবর্তী সময়ে টানা হারায় জিম্বাবুয়ে, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও রুয়ান্ডাকে। শেষ ম্যাচে রুয়ান্ডাকে ৬৫ রানে অলআউট করার পর নয় উইকেটের জয় তুলে নেয়ার মধ্য দিয়ে পুরো জাতিকে উৎসবে ভাসিয়েছেন মাসাবা ও তার সতীর্থরা। ওপেনার সাইমন সেসাজির ব্যাট থেকে জয়সূচক রান আসার পরই উৎসব শুরু হয়ে যায়। দলের সঙ্গে আনন্দ উদযাপনে যোগ দেন দেশ থেকে নামিবিয়ায় যাওয়া কিছুসংখ্যক সমর্থকও। আমুদে জাতি হিসেবে খ্যাত উগান্ডার ক্রিকেট দলটি ঐতিহ্যবাহী নাচে এ অর্জনকে উদযাপন করে।
মাসাবার আশা, তার দলের এ সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে উগান্ডার ক্রিকেটের উন্নয়ন হবে, যেখানে এখনো কোনো পেশাদার ক্রিকেট কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা নিজেদের কাজ ফেলে রেখে, পরিবারকে রেখে টুর্নামেন্টের জন্য অনুশীলনে সময় দিয়েছে। আশা করি, এখন দেশের ক্রিকেট সামনে এগিয়ে যাবে এবং পুরোপুরি পেশাদার কাঠামো গড়ে উঠবে আর ছেলেদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। এটা প্রমাণিত হলো সুযোগ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে ক্রিকেটটা আফ্রিকায় আরো অনেক বড় হতে পারে। আমাদের জয় এটাই প্রমাণ করছে, বড়দের বাইরেও কিছু সম্ভাবনাময় দল আছে, যাদের শুধু একটু সুযোগের প্রয়োজন।’
বিশ্বকাপেও কিছু চমক দেখাতে চান মাসাবা ও তার সতীর্থরা। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে যাব যে আমাদের কিছু ম্যাচ জয়ের সামর্থ্য আছে। এ মানসিকতা নিয়েই আমরা বাছাইপর্বে ভালো করেছি। এখন একই মানসিকতা নিয়ে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাব।’
উগান্ডা চমক দেখালেও জিম্বাবুয়ের আরেকবার পতন হলো। ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে তারা ব্যর্থ। বাছাইপর্বে জিম্বাবুয়েই ছিল শীর্ষ র্যাংকধারী দল, যারা বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১১ নম্বরে। ‘শেভরনস’ খ্যাত দলটি আগের আট আসরের মধ্যে ছয়টিতে অংশ নেয় এবং গতবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সুপার-১২ পর্বে খেলেছে। যদিও এবার তাদের দেখা যাবে না।
মাসাবা জানান, তিনি ও তার সতীর্থদের ‘আদর্শ’ খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস আর ভারতের বিরাট কোহলি। এবার বৈশ্বিক মঞ্চেই দেখা হবে কোহলির মতো সুপারস্টারদের সঙ্গে।
বিশ্বকাপের ২০ দল: যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ (স্বাগতিক), অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, নেপাল, ওমান, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, কানাডা, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া ও উগান্ডা।










