এ রান তাড়া করে জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হবে পাকিস্তানকে। টেস্টের দেড়শ বছরের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই।

টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চারশর ওপরে রান চেজের সফলতা আছে মোট চারটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া পার্থে ৪১৪ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা, হেডিংলিতে ৪০৪ রান করে অস্ট্রেলিয়া ও কুইন্স পার্ক ওভালে ৪০৩ রান করে ভারত টেস্ট জয় পায়।

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ চেজ ৩৭৭ রানের। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলে টেস্টে শ্রীলংকাকে হারিয়েছিল তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ চেজের রেকর্ডটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে ৩৯৫ রান করে জিতেছিল ক্যারিবীয়রা। ডাবল সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে হারিয়েছিলেন কাইল মায়ার্স।

সিলেটে প্রথম ইনিংসে নিজেরা ২৭৮ রান করার পর পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। তিন উইকেটে ১১০ রান নিয়ে গতকাল সকালে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের লিড ছিল ১৫৬ রানের। সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দৃঢ়তায় লিড তিনশ পেরিয়ে যায়।

পঞ্চম উইকেটে ১৮৮ বলে ১২৩ রান যোগ করেন মুশফিক ও লিটন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে বাঁচানো ইনিংস খেলেন লিটন (১২৬)। গতকালও দলের প্রয়োজনে চওড়া হলো তার ব্যাট। লিটনের সঙ্গে লড়লেন দেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক মুশফিক। এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ গড়েন মুশফিক ও লিটন। পঞ্চম কিংবা নিচের দিকে এর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ আছে জো রুট ও বেন স্টোকসের (৮টি) এবং আসাদ শফিক ও মিসবাহ-উল-হকের (৭টি)।

বাংলাদেশের ৬ উইকেট পতন হওয়ার পর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৭৭ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন মুশফিক। ৫১ বলে ২২ রান করেন তাইজুল। তার অবদান দলের ও মুশফিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ পথে মুশফিক পেয়ে যান ১৪তম সেঞ্চুরি। আর দল পেয়ে যায় ৪০০ রানের লিড।

টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড ১৪টি সেঞ্চুরির মালিক মুশফিক। ১৭৮ বলে তিন অংক ছুঁয়েছেন তিনি। চাপের মুহূর্তে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৩৯ বছর বয়সী এ ব্যাটার। মুশফিক ও মুমিনুল সমান ১৩টি করে সেঞ্চুরি নিয়ে সিলেট টেস্ট খেলতে নামেন। গতকাল মুমিনুলকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে যান মুশফিক।

সেঞ্চুরির মতো রানেও আগে থেকেই দেশসেরা মুশফিক। গতকাল পর্যন্ত করেছেন ১০২ টেস্টে ৬ হাজার ৭৬৩ রান। ৫ হাজার ১৩৪ রান নিয়ে সাবেক ওপেনার তামিম ইকবাল দুইয়ে ও মুমিনুল হক ৫ হাজার ৫৮ রান করে তিনে অবস্থান করছেন।

তাইজুলের বিদায়ের পরও হার মানছিলেন না মুশফিক। তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ১৫, শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ১৯ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ চারশর দিকে নিয়ে যান তিনি। দলের ৩৯০ রানে তাকে থামান স্পিনার সাজিদ খান। ডিপ মিড উইকেটে আব্বাসকে ক্যাচ দেন মুশফিক।

দলের অত্যন্ত প্রয়োজনের মুহূর্তে ১৩৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’খ্যাত মুশফিক। ২৩৩ বলের মোকাবেলায় ১২টি চার ও একটি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন মুশফিক। তার দুর্দান্ত লড়াইয়ে দল পায় ৪৩৬ রানের বিশাল লিড। সফরকারী পাকিস্তানও পড়ে ৪৩৭ রানের বিশাল টার্গেটের সামনে।

বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ওপেনাররা ২ ওভারে কোনো রান করেননি, উইকেটও হারাননি। তাদের হাতে এখনো পুরো দুইদিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০/১০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, জয় ৫২; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬, হাসান আলী ২/৮৩)।

পকিস্তান: ২৩২ ও ০/০। —তৃতীয় দিন শেষে।