আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টকে এখন বলাই যায় ‘মুশফিকুর রহিমের টেস্ট’। দেশের প্রথম ক্রিকেটার একশ টেস্ট খেলার কীর্তি গড়ার ম্যাচেই তিনি বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরিও করেছেন। আর এই টেস্টেই তিনি দুই ইনিংসে পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস খেলে আরেক কীর্তি গড়েছেন। মুশফিকের কীর্তিগাঁথার এ ম্যাচে গৌরবের ভাগীদার হলেন তাইজুল ইসলাম আর লিটন দাসও। এই টেস্টেই সাকিব আল হাসানকে টপকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছেন অভিজ্ঞ বামহাতি স্পিনার তাইজুল। এর আগে নিজের শততম ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখান লিটন দাস।

শততম টেস্টের দুই ইনিংসেই রিকি পন্টিংয়ের মতো সেঞ্চুরি হলো না মুশফিকের। তবে একটি জায়গায় অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির রেকর্ড ঠিকই মনে করিয়ে দিলেন তিনি। শততম টেস্টে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ ছোঁয়ার কীর্তি এই দুজনেরই!

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে গতকাল চতুর্থ দিন নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করেন মুশফিক। ৮১ বলে ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মুমিনুল হকের সঙ্গে ১৬৭ বলে ১২৩ রানের জুটি গড়েন ৩৮ বছর বয়সী ব্যাটার। মুমিনুল ৮৭ রানে আউট হওয়ার পর ২৯৭ রানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আয়ারল্যান্ডের টার্গেট ৫০৯ রানের। ৬ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে চতুর্থ দিন মাঠ ছাড়ে আইরিশরা। আজ পঞ্চম ও শেষ দিন তাদের ৪ উইকেট নিতে পারলেই জিতে যাবে বাংলাদেশ এবং সিরিজ নিশ্চিত করতে ২-০তে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রান করে আউট হন মুশফিক। তাতে দারুণ এক কীর্তি গড়েন তিনি। ১১তম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে নিজের শততম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটার। গতকাল চতুর্থ দিন আরেকটি কীর্তির সঙ্গে নিজের নাম লিখিয়ে নেন তিনি। এবার দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ ছোঁয়ার কীর্তি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং ইতিহাসে নাম লেখান ২০০৬ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিডনিতে প্রথম ইনিংসে ১২০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে হার না মানা ১৪৩ রান করেন তিনি। শততম টেস্টে দুই ইনিংসে শতরান পন্টিং ছাড়া আর কারো নেই।

শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি আছে মুশফিক, কলিন কাউড্রে, জাভেদ মিয়াদাঁদ, গর্ডন গ্রিনিজ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, ইনজামাম-উল-হক, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, জো রুট ও ডেভিড ওয়ার্নারের।

দুই ইনিংস মিলিয়ে পন্টিংয়ের ২৬৩ রানও শততম টেস্টে রেকর্ড। ২৫৮ রান করে দুইয়ে রুট। পাকিস্তানের ইনজামাম-উল-হক শততম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন ২১৫ রান।

শুক্রবার মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন ৭৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আইরিশদের ২৬৫ রানে অলআউট করতে বড় ভূমিকা রাখেন তাইজুল ইসলাম। এদিন তিনি সাকিব আল হাসানকে ছুঁয়ে ফেলেন। সাকিব ৭১ টেস্টে ২৪৬ উইকেট নেন, তাইজুলের যা নিতে লেগেছে ৫৭ টেস্ট। দুশ উইকেট আছে আর একজনের—মিরাজ ৫৬ টেস্টে নিয়েছেন ২০৯ উইকেট। এছাড়া ১০০ উইকেট নিয়ে চারে অবস্থান করছেন মোহাম্মদ রফিক।

সাকিবের চেয়ে চার উইকেট পেছনে থেকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট শুরু করেছিলেন তাইজুল। আইরিশদের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে শুক্রবার তিনি নাম লেখান সাকিবের পাশে। গতকাল আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে তিনি টপকে যান সাকিবকে। এখন দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারি বোলার তাইজুল।

এদিকে শততম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলছেন লিটন দাস। সেঞ্চুরি করে ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি। ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর বগুড়ায় জাতীয় ক্রিকেট লিগে অভিষেক হয় লিটনের। ঢাকার বিপক্ষে রংপুর বিভাগের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লায়। এখন পর্যন্ত ১০০টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন তিনি।