বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আপিল কমিটিতে বাংলাদেশ ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) খেলোয়াড় ও কোচদের শাস্তি তুলে নেয়া প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি)  দুপুরে বিকেএসপিতে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাফুফের আপিল কমিটির সভায় বিকেএসপির ওপর অর্পিত শাস্তি তুলে নেয়ার বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিকেএসপির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন পুরো বিষটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত ঢাকা মহানগরী ৩য় বিভাগ অ-১৭ ফুটবল লিগে চকবাজার কিংস ক্লাব বিকেএসপির সাথে ২০২১-২২ মৌসুমের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এ দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন বিকেএসপির ফুটবল কোচ মো. রবিউল ইসলাম। পরবর্তীকালে লিগে চকবাজার কিংস নামধারী বিকেএসপি দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়।

উল্লেখ্য কিংস ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিকেএসপির ৪ জন খেলোয়াড়ের বয়স বেশি হওয়ার কারণে নাম পরিবর্তন করে খেলার ব্যবস্থা করে। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত বসুন্ধরা গ্রুপ ২য় বিভাগ ফুটবল লিগ ২০২২-২৩ মৌসুমে বিকেএসপি দল অংশগ্রহণ করে।

এ সময় বাফুফে বিকেএসপি কর্তৃপক্ষকে ৩ জন খেলোয়াড়কে না খেলানোর জন্য চিঠি দেয়। সে অনুযায়ী তাদের খেলা থেকে বিরত রাখা হয় এবং বাফুফে বিকেএসপির তিন খেলোয়াড়— মো. তাসিন, ইহসান হাবিব রিদওয়ান এবং মো. রিফাত কাজীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করে।

মহানগরী লিগ কমিটি বিকেএসপির খেলোয়াড় মো. ইকরামুল ইসলামকে বৈধ খেলোয়াড় হিসেবে খেলার অনুমতি প্রদান করলে ইকরামুল আরামবাগের বিপক্ষে খেলায় অংশগ্রহণ করেন। ফলে আরামবাগ কর্তৃপক্ষ ইকরামুলের বিরুদ্ধে ৩য় বিভাগে নাম পরিবর্তন করে খেলার বিষয়টি বাফুফেকে জানায়।

এর প্রেক্ষিতে বাফুফে ডিসিপ্লিনারি কমিটি বিকেএসপি ফুটবল দলকে এক বছরের জন্য বাফুফের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত এবং এক লক্ষ টাকা আর্থিক জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া বিকেএসপির সিনিয়র কোচ (ফুটবল) মো. শাহীনুল হক ও কোচ (ফুটবল) মো. রবিউল ইসলাম কে এক বছরের জন্য বাফুফের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত এবং ২৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করে।

পরবর্তীকালে বিকেএসপি গত ৭ ডিসেম্বর বাফুফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে বাফুফে ২৮ ডিসেম্বর আপিল কমিটির সভায় বিকেএসপি ফুটবল দলের ওপর থেকে অরোপিত শাস্তি তুলে নেয় এবং বিকেএসপির সিনিয়র কোচ মো. শাহীনুল হকের শাস্তিও তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এবিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিকেএসপির মহাপরিচালক বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিকেএসপি ও বাফুফের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝির ফলে সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিকেএসপির আপিলের মাধ্যমে দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

আগামীতে বিকেএসপির খেলোয়াড়রা যাতে আরো স্বচ্ছতা বজায় রেখে ফেডারেশন আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোতে খেলতে পারে সেদিকে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে জানান। উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে মহাপরিচালক অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান থাকার বিষয়টি অবগত করেন এবং তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।