পুরো আসরে অনবদ্য ব্যাটিং করা ভারত ফাইনালে পুরোপুরি নিস্প্রভ। আজ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার গোলায় বিধ্বস্ত রোহিত শর্মার দল। ৫০ ওভারে ২৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে ষষ্ঠবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ২৪১ রান। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড উভয় দলই করেছিল ২৪১ রান।


রান তাড়া করতে নেমে ৪৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সাজঘরে ফিরে যান ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ ও স্টিভ স্মিথ। যদিও এরপর ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেনের অনবদ্য ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরায়। দুজন শতরানের পার্টনারশিপ গড়ে অবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। এ প্রতিবেদন লেখার সময় অজিদের সংগ্রহ ছিল ২৭ ওভারে ১৪৮/৩। জিততে ২৩ ওভারে লাগে ৯৩ রান। হেড ৭১ ও লাবুশেন ৩৪ রানে ব্যাট করছিলেন।


প্রতি ম্যাচের মতো আজও রোহিত শর্মা ঝড়ো সূচনা এনে দেন ভারতকে। অবশ্য আজ তিনি দলকে উদ্দীপ্ত করতে পারেননি। পঞ্চম ওভারে শুভমান গিলকে ফেরান মিচেল স্টার্ক। মিড-অনে অ্যাডাম জাম্পাকে ক্যাচ দেন তিনি।

 

এরপর দশম ওভারে ৩১ বলে ৪৭ রান করে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের শিকার হন রোহিত। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে ম্যাক্সওয়েলের ওপর চড়াও হন ভারতীয় অধিনায়ক। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন। পরের বলে চার। এরপর আবার ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে তুলে মারেন। এবার ক্যাচ ওঠে কাভারে। পেছন দিকে ছুটে ট্রাভিস হেড দুর্দান্ত ক্যাচ নেন।

 

প্রথম ১০ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ১১তম ওভারে শ্রেয়াস আইয়ার মাত্র ৪ রান করে কামিন্সের শিকার হন। পরে বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল ১০৯ বলে ৬৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে কিছুটা চাপমুক্ত করেন। যদিও আগের সেই আগ্রাসী ভারতকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। স্টার্ক, কামিন্সের আগুণে বোলিংয়ের সামনে তারা ছিল রীতিমতো অসহায়। কোহলি ৬৩ বলে ৫৪ ও লোকেশ ১০৭ বলে ৬৬ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন।

 

আজ দশম ওভার শেষ হওয়ার পরের ৯৭ বলে কোনো বাউন্ডারি পায়নি ভারত, যা বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাউন্ডারি-খরা। শ্রীলংকার বিপক্ষে ১২৮ বলে বাউন্ডারি মারতে ব্যর্থ হয় নেদারল্যান্ডস। এর আগে গ্রুপ পর্ব অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৯ বলে বাউন্ডারিহীন ছিল ভারত। তারপরই আজ খারাপ সময় কাটল স্বাগতিকদের। প্রতি ম্যাচ চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করা ভারতীয়দের এই বাউন্ডারি-খরা ছিল এই বিশ্বকাপের অচেনা রূপ।  চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে ১০ ওভারে একটিও বাউন্ডারি হজম করেননি কামিন্স।

অজি বোলাররা এরপর আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। তাদের বোলিং তোপে এরপর ভারতের আর কোনো ব্যাটারই দাঁড়াতে পারেননি। ধুঁকতে থাকা স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে গুটিয়ে যায়। মিচেল স্টার্ক তিনটি এবং জস হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্স দুটি করে উইকেট নেন। নকআউটের দুই ম্যাচে ১৪ গড়ে ছয় উইকেট নিলেন স্টার্ক।