ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২০ কভিড-১৯ মহামারীর কারণে এক বছর পিছিয়ে আজ শুরু হচ্ছে। মহামারী অন্য সবকিছুর মতো বদলে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বের মানচিত্রও। এবার ১১ দেশের ১১টি শহরে বসছে এ ফুটবলযজ্ঞ। আজ উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে তুরস্ক ও ইতালি। এদিকে, লাতিন মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘কোপা আমেরিকা ২০২১’ ব্রাজিলের মাঠে শুরু হবে রোববার (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর)।

নানা কারণে এবারের ইউরো আসরটি অনন্য। মহামারীর কারণে এক বছর পিছিয়ে গেলেও নামটি ঠিকই থাকছে। ১১ জুন শুরু হয়ে ১১ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের আসরের। খেলা হবে ১১ দেশে, যা ৪ হাজার ৭৬৬ কিলোমিটার দিয়ে আলাদা হয়ে আছে।

১৯৯৮ সালের পর এবারের ইউরো দিয়ে বড় কোনো ফুটবল আসরে খেলতে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড। ইংল্যান্ড বলতে গেলে প্রতিটি ম্যাচেই ‘হোম’ সুবিধা পাবে এবং টানা দ্বিতীয় ইউরোতে খেলতে যাচ্ছে গ্যারেথ বেলদের ওয়েলস। প্রথমবারের মতো গোটা মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠেয় এই ইউরোপে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড পড়েছে একই গ্রুপে, যারা উভয়ই অন্যতম স্বাগতিক দেশ। এছাড়া ১৯৯৬ সালের ইউরোর পর এই প্রথম যুক্তরাজ্যের মাটিতে বড় কোনো পুরুষ ফুটবল টুর্নামেন্ট বসছে।

ইউরোর প্রথম দিন আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় রোমে স্বাগতিক ইতালির মুখোমুখি হবে তুরস্ক। ১১ জুলাই লন্ডনের ঐতিহ্যবহুল ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের।

বাকি স্বাগতিক শহরগুলো হলো—গ্লাসগো, আমস্টারডাম, বাকু, বুখারেস্ট, বুদাপেস্ট, কোপেনহেগেন, মিউনিখ, সেন্ট পিটার্সবুর্গ ও সেভিয়া।  

মোট ২৪টি দল ৬টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল সরাসরি উঠবে নকআউট পর্বে। এরপর তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা র্যাংকধারী আরো চারটি দল পাবে নকআউটের টিকিট।

ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হওয়া ছাড়া বাকি দুটি ম্যাচ হ্যাম্পডেন পার্কে খেলবে স্কটল্যান্ড। ওয়েলস তাদের ম্যাচগুলো খেলবে রোম ও আজারবাইজানের বাকুতে।

করোনা মহামারীর মধ্যে হলেও এবার ইউরোর প্রতি ম্যাচেই দর্শক উপস্থিতি থাকবে। সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার দর্শক সমাগম হতে পারে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায়, যা তাদের ধারণক্ষমতার শতভাগ। এই মাঠে ‘এইচ’ গ্রুপের লড়াইয়ে ১৫ জুন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের মুখোমুখি হবে হাঙ্গেরি। এছাড়া ওয়েম্বলি ও হ্যাম্পডেন পার্কে ধারণক্ষমতার ২৫ শতাংশ দর্শক থাকবে, যা যথাক্রমে ২২ হাজার ৫০০ ও ১২ হাজার। তবে টুর্নামেন্ট যত সামনে এগোবে ওয়েম্বলিতে দর্শক হয়তো তত বাড়ানো হবে। এমনকি ২১ জুন কভিড-১৯ নিয়ে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হলে ওয়েম্বলিতে ফুলহাউজ ৯০ হাজার দর্শক দেখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

ইউরো ২০২০ এর গ্রুপ:

গ্রুপ-এ: তুরস্ক, ইতালি, ওয়েলস, সুইজরল্যান্ড।

গ্রুপ-বি: ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম ও রাশিয়া।

গ্রুপ-সি: নেদারল্যান্ডস, ইউক্রেন, অস্ট্রিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া।

গ্রুপ-ডি: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, স্কটল্যান্ড ও চেক রিপাবলিক।

গ্রুপ-ই: স্পেন, সুইডেন, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া।

গ্রুপ-এফ: হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানি।


কোপা আমেরিকা:

২০২০ সালে কোপা হয়নি করোনার কারণে। আয়োজক দেশ আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় এবার জুন-জুলাইয়ে টুর্নামেন্টটা আয়াজনের সব প্রস্তুতিই ছিল। যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের উর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশ দুটি থেকে আসর সরিয়ে নেয়া হয় ব্রাজিলে। যদিও ব্রাজিলে ভাইরাস নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার আদালতের জরুরি সেশনে রায় এল—ব্রাজিলেই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে।

বিচারক বললেন, ব্রাজিলের সংবিধান তাদের এই টুর্নামেন্ট বন্ধ করার ক্ষমতা দেয়নি। তবে তিনি বলেছেন, রাজ্য গভর্নর ও সিটি মেয়ররা আগত দল ও খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন।

কোপার দলগুলোর জন্য প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় কভিড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এবং তাদের চলাচলও সীমিত থাকবে। স্বাগতিক শহরে তারা যাতায়াত করবেন চার্টার্ড বিমানে। 

লাতিনের ১০টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, চিলি, বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে এবং ‘বি’ গ্রুপে ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, পেরু, একুয়েডর ও কলম্বিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ১৩ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৩টা) ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের আসরের এবং সোমবার ভোর ৫টায় মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া ও একুয়েডর।