এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে হংকংয়ের কাছে ৩-৪ গোলে হারলেও সমর্থকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন হামজা চৌধুরী, শমিত সোমরা। এ হারের পর লাল-সবুজদের মূল পর্বে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এখনো সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। হংকং ম্যাচে শেষ মিনিটে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা ওই ম্যাচ থেকে পেয়েছে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস, যা তাদের এবার হংকংয়ের মাঠেও জেতার সাহস জোগাচ্ছে।
বাংলাদেশকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় হংকং, ৩ ম্যাচ থেকে যাদের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। সিঙ্গাপুর ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে। এছাড়া ভারতের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট, বাংলাদেশের ১।
গত ২৫ মার্চ শিলং শহরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ। সেটাই ছিল বাংলাদেশের জার্সিতে হামজা চৌধুরীর প্রথম ম্যাচ। তিনি আলো ছড়ান, বাংলাদেশও ১ পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফিরেছে তখন। এরপর গত ১০ জুন ঢাকায় সিঙ্গাপুরের কাছে ১-২ গোলে হেরেছে হাভিয়ের কাবরেরার দল। সর্বশেষ হংকংয়ের বিপক্ষে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্টনের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) ২৩ হাজারেরও বেশি দর্শকের সমর্থন দিয়ে বৃহস্পতিবার র্যাংকিংয়ে ৩৮ ধাপ এগিয়ে থাকা হংকংকে কাঁপিয়ে দেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে মোহনীয় এক গোল করে হামজা প্রতিপক্ষকে বার্তাটাও দিয়ে রাখেন। এরপর ডিফেন্সের ভুলে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল মারকিস জোড়া গোল করে এগিয়ে দেন হংকংকে। ৮৪ মিনিটে মোরসালিন ও যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটে শমিত সোম গোল করলে ৩-৩-এ সমতা আসে ম্যাচে। যোগ করা সময়ের ১১তম মিনিটে সেই মারকিস বাংলাদেশের ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আবারো গোল করে বসলে হৃদয় ভেঙে যায় স্বাগতিক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের। ৩-৪ গোলে হার মানে বাংলাদেশ।
এ ম্যাচটি বাংলাদেশ ড্র করতে পারলে ‘সি’ গ্রুপটা মোটামুটি উন্মুক্তই থাকত। এখন হংকং অনেকটা নিরাপদে, আর টেবিলের তলানির দল বাংলাদেশ। ১৪ অক্টোবর হংকংয়ের মাঠে ফিরতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দল নিয়ে শুক্রবারই হংকং পৌঁছে গেছেন স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা।
বাংলাদেশ কোচ এখনই হাল ছাড়লেন না। বৃহস্পতিবার হারের পর তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনো সুযোগ আছে। সামনে হংকংয়ের সঙ্গে ম্যাচ মনোযোগ দিচ্ছি আমরা। যদি সেটা জিততে পারি, তাহলে আবারো আমরা গ্রুপের শীর্ষে তিনের মধ্যে চলে আসব।’ বাংলাদেশ ফুটবলের সুপারস্টার হামজা চৌধুরীও এখনই হাল ছাড়ছেন না। বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আশাকরি, আমরা পরের তিনটি ম্যাচই জিতব।’
২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ আয়োজক সৌদি আরব। ওই আসরে খেলবে ২৪টি দেশ। এরই মধ্যে ১৮টি দেশের এশিয়ান কাপে খেলা নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৬টি দেশ মূল পর্বে উঠবে বাছাইপর্ব খেলে। ২৪টি দল বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ৬টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে। প্রতি গ্রুপের সেরা দলটি উঠে যাবে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। কাজেই বাংলাদেশকে পরের তিনটি ম্যাচই জিততে হবে, তারপর তাকিয়ে থাকতে হবে নানা সমীকরণের দিকে।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমাদের হাতে তিন ম্যাচ আছে। তিনটি ম্যাচই জিততে হবে। এক পয়েন্ট হারালেই আমাদের বিদায়। জেতা সম্ভব হবে না কেন? ইনশা আল্লাহ এবার আমরা কিছু দিতে পারব।’
এ মুহূর্তে আলোচনা প্রবাসী পাঁচ খেলোয়াড়। ঢাকায় হংকংয়ের বিপক্ষে সেরা একাদশে হামজা খেললেও ছিলেন না জামাল, শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদ। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা ও বিতর্ক। কোচ কাবরেরার কৌশলের সমালোচনায় মুখর সাবেকরাও। দ্বিতীয়ার্ধে চার প্রবাসী বদলি হিসেবে নেমে খেলার গতি বাড়িয়েছেন, বাংলাদেশ গোলও পায় দুটি। শেষ দিকে শোমিতের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকার।
সর্বত্র আলোচনায় প্রবাসী খেলোয়াড়রা। সংগত কারণেই জামালও এখন আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমি, শমিত, ফাহামিদুল, জায়ান যখন একসঙ্গে ওয়ার্ম-আপ শুরু করেছি, তখন ওদের বলেছি আমরা যখন নামব, তখন ম্যাচের গতিপথ বদলাতে হবে। আমাদের চারজনের ইমপ্যাক্ট ভালো ছিল। চারজনই শুরুর একাদশে খেলতে চাই।’
এখন দেখার বিষয়, হংকংয়ের মাঠে মঙ্গলবার বাঁচা-মরার ম্যাচে কেমন একাদশ বেছে নেন কাবরেরা।










