চলমান ত্রয়োদশ বিশ্বকাপে প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতেই হেরে পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে অবস্থান করা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড আজ বেঙ্গালুরুতে শ্রীলংকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। এই রান দিয়ে আটকানো যায়নি শ্রীলংকাকে। কুশল মেন্ডিসের দল ১৪৬ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকল।

 

১৫৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলংকা। কুশল পেরেরা ও কুশল মেন্ডিস ফিরে যান সাজঘরে। তখন কি জস বাটলাররা অভাবনীয় জয়ের ব্যাপারে খানিকটা হরেও আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন?

 

কিন্তু এরপর তাদের আর কোনো সুযোগই দিলেন না পাথুম নিশাঙ্কা ও সাদিরা সামারাবিক্রমা। ১২২ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন দুজন। পাথুম ৮৩ বলে ৭৭ ও সামারাবিক্রমা ৫৪ বলে ৬৫ রান করে ২৫.৪ ওভারেই শ্রীলংকার জয় নিশ্চিত করেন। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও ইংলিশদের ওপর কর্তৃত্ব করল সিংহলিজরা।  

 

৭ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করা পেস বোলার লাহিরু কুমারা হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।

 

এই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে আট থেকে পাঁচ নম্বরে উঠে গেল শ্রীলংকা। এখন পাকিস্তানও তাদের নিচে। ৫ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নয় নম্বরে নেমে গেল ইংলিশরা। বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে। ইংলিশদের তলানির দিকে ঠেলে দিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন কুশলরা।  

 

প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড বলেই এতটা দুর্বার শ্রীলংকা। বিশ্বকাপে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই তারা ইংল্যান্ডকে হারাল! সময়টা প্রায় দুই দশক। বিশ্বকাপে ২০০৭ থেকে টানা পাঁচ আসরে ইংল্যান্ডকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল শ্রীলংকা। এছাড়া ১২ বারের মুখোমুখিতে ৬-৬ সমতাও আনল সিংহলিজরা। ওয়ানডেতে ৭৯ ম্যাচের মুখোমুখিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবধান কমাল শ্রীলংকা। ইংল্যান্ডের জয় ৩৮টি, শ্রীলংকার ৩৭টি। তিন ম্যাচ ছিল ফলহীন, একটি টাই হয়।

 

ওপেনিং জুটিতে জনি বেয়ারস্টো ও ডেভিড মালান ৪৫ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও ব্রেকথ্রু এনে দেন আকস্মিকভাবে শ্রীলংকা দলে ফেরা সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তার বলে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দেন মালান। সেই বিপর্যয় শুরু। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। একটি পর্যায়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৮৫/৫। সেখান থেকে বেন স্টোকস ও মঈন আলীর ৩৭ রানের জুটি দলের সংগ্রহ একশ পার করে। যদিও পরপর দুই ওভারে মঈন ও ক্রিস ওকসের পতন ঘটলে গভীর সংকটে পড়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

 

১২৩/৭ স্কোর নিয়ে তখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক বেন স্টোকস। যদিও টেল-এন্ড নিয়ে লড়ে ব্যর্থ হলেন তিনি। একটি পর্যায়ে নিজেও ভুল শট খেলে ফিরলেন সাজঘরে। লাহিরু কুমারা (৩/৩৫), ম্যাথুজ (২/১৪) ও কাসুন রাজিথার (২/৩৬) পেস আর মহিশ থিকসানার (১/২১) ঘূর্ণিতে বেসামাল ইংলিশরা ৩৩.২ ওভারে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দুশ রানের নিচে অলআউট হলো ইংলিশরা।

 

ইংলিশ বিপর্যয়ের দিন স্টোকসের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৪৩ রান। ৭৩ বলের মোকাবেলায় ৬ বাউন্ডারির সাহায্যে এই রান করেন তিনি। এছাড়া বেয়ারস্টো ৩০ ও মালান ২৮ রান করেন। 

 

ইংল্যান্ড একাদশে আজ ছিল তিনটি পরিবর্তন। হ্যারি ব্রুক, গাস অ্যাটকিনস ও রিস টপলির জায়গা নেন লিয়াম লিভিংস্টোন, মঈন আলী ও ক্রিস ওকস। চোটাক্রান্ত শ্রীলংকার একাদশে ফেরেন ম্যাথুজ। সাবেক অধিনায়ক দলের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এলেন।