এ বছর অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতের মাটিতে বসছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসর। এ আসরে দেখা যাবে না ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় দল, দুবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শনিবার হারারেতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। জবাবে স্কটিশরা ৭ উইকেট ও ৩৯ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয়। এই হার চলতি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। 

অবশ্য সুপার সিক্সে এ হারের আগে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বে আইসিসির আরেক সহযোগী দেশ নেদারল্যান্ডসের কাছেও হারের লজ্জা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া জিম্বাবুয়ে হারিয়ে দেয় জনসন চার্লস, শাই হোপদের। এবার স্কটিশদের কাছে হেরে বিদায়ও নিশ্চিত হলো। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিদায়ের খবরে ক্রিকেট দুনিয়ায় নেমেছে বিষাদের ছায়া। ক্রিকেটের ঐতিহ্যবহুল, বনেদি এই দলটির বিদা=য় মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেট গ্রেটরা। 

হার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলনায়ক শাই হোপ বলেন, ‘‌আমরা গোটা টুর্নামেন্টেই নিজেদের ডুবিয়েছি। প্রস্তুতি আরো ভালো থাকার প্রয়োজন ছিল। আমরা স্রেফ ঘুম থেকে উঠেই সেরা একটি দল হয়ে উঠতে পারি না। বেশকিছু বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। আর হ্যাঁ, আমরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা শিখতে হবে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার এটাকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের প্রত্যেকের প্রতি সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‌আমি মনে করি না সবকিছু হারিয়ে গেছে। এই দলটিতেই কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা উন্নতি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে পারেন। এসব তরুণকে আমাদের সমর্থন জোগাতে হবে। এখন টুর্নামেন্টের বাইরের সময়টা কাজে লাগিয়ে আমার তরুণ মেধাবীদের গড়ে তুলতে পারি।’ 

পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার টুইট করেছেন, ‘‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বকাপে দেখতে না পারাটা খুবই দুঃখজনক।’

ভারতের সাবেক অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর বলেছেন, ‘‌আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভালোবাসি। আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ভালোবাসি। আমি এখনো বিশ্বাস করি, তারা বিশ্বের এক নম্বর দল হতে পারে!’

২০১৮ সালে বাছাইপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি স্কটল্যান্ড। এবার সেই স্কটিশরা হারিয়ে বিদায় করল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। 

বাস্তবতা মনে করিয়ে দিলেন ক্যারিবিয়ান গ্রেট ইয়ান বিশপ। তিনি বলেন, ‘‌২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপ হতাশায় কাটানোর পর ২০২২ সালের টি২০ বিশ্বকাপেও মূল পর্বে উঠতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, সেটা এক কঠিন বাস্তবতা। শুধু যে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে, তা-ই নয়, তারা ভালো ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিচ্ছে। কাজেই সামনে পাহাড়সম কাজ। যারা সত্যিকারের মেধাবী ক্রিকেটার, তাদেরই দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং আরো বেশি সুযোগ করে দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই পতন সহসাই হয়নি, এটা ধীরে ধীরে হয়েছে। আমি মনে করতে পারি, এক দশক ধরেই বড় দলগুলোর বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি২০ দলও দুবার বিশ্বজয়ের পর হারিয়ে গেছে। সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই ক্রিকেটের একসময়কার পরাশক্তি আজ এমন অবস্থায় পতিত হয়েছে।’

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ না পারলেও পেরেছে শ্রীলংকা। জিম্বাবুয়ের মাঠে চলমান বাছাইপর্বে দাপট দেখিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৩-এর মূল পর্বে নাম লেখাল সিংহলিজরা। রোববার সুপার সিক্স পর্বে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ছিয়ানব্বইয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এখন বাকি এক টিকিটের লড়াই। 

বাকি একটি টিকিটের জন্য এখন লড়াই হবে জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে। এদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। আজ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেই দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে উঠবে জিম্বাবুয়ে। অবশ্য স্কটল্যান্ড জিতলে তখন তাদেরও জিম্বাবুয়ের সমান ৬ পয়েন্ট হয়ে যাবে। তাতে জমে উঠবে লড়াই, রেসে থাকবে ডাচরাও। গতকাল ওমানকে হারানো নেদারল্যান্ডস ৬ জুলাই স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারলে তাদের হবে ৬ পয়েন্ট। তখন তিন দলের সমান পয়েন্ট দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে নিট রানরেট যাদের ভালো তারাই উঠে যাবে বিশ্বকাপে।

আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও স্বাগতিক ভারত। বাছাইপর্ব খেলে আসা দুটি দল এই আট দলের সঙ্গে মূল পর্বে যোগ দেবে। ৯ জুলাই বাছাই টুর্নামেন্টের ফাইনাল। বিশ্বকাপ শুরু হবে ৫ অক্টোবর, ফাইনাল ১৯ অক্টোবর।