আগামী মাসে সংযুক্ত আমিরাতে বসছে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি আসর। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এ আসরের প্রস্তুতি হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ তিনটি অনুষ্ঠিত হবে, যথাক্রমে ৩০ আগস্ট এবং ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর।
এ আগস্টে ঘরের মাঠে ভারতের সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ও সমানসংখ্যক ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। যদিও সরকারের সবুজসংকেত না পাওয়ায় সফরটি বাতিল করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। এশিয়া কাপের আগে প্রায় দেড় মাস কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না বাংলাদেশের। এ ঘাটতি পূরণের জন্যই নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ আয়োজন করেছে বিসিবি। তিন ম্যাচের এ সিরিজ খেলতে ডাচরা বাংলাদেশে পৌঁছবে ২৭ আগস্ট।
এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি আসর ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজের জন্য শুক্রবার দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ দলে ডাক পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। প্রায় তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেয়েছেন এ উইকেটকিপার-ব্যাটার। সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন সোহান। তার সঙ্গে ফিরেছেন ব্যাটার সাইফ হাসান। বাংলাদেশের জার্সিতে ৩১ বছর বয়সী সোহান সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে। মিরপুরে সেই ম্যাচের পর ২৩ মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়নি তার। সম্প্রতি রংপুর রাইডার্স ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
এদিকে পারিবারিক কারণে নেদারল্যান্ডস সিরিজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এশিয়া কাপের দলেও জায়গা হয়নি এই স্পিন অলরাউন্ডারের। সেখানে তাকে রাখা হয়েছে ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসেবে।
শুক্রবার দল ঘোষণা হলেও টাইগারদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। কয়েকদিন ধরে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলে অনুশীলন। এরপর সম্ভাব্য খেলোয়াড়রা সবাই সিলেটে চলে যান। সেখানে ২০, ২১ ও ২২ আগস্ট ছিল স্কিল অনুশীলন। গতকাল একদিন বিরতি দিয়ে আজ ও আগামীকাল হবে ম্যাচ অনুশীলন। এরপর ২৬ আগস্ট বিসিবি হাই পারফরম্যান্স দলের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন লিটন দাসরা।
এশিয়া কাপ শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। এর দুদিন পর ১১ সেপ্টেম্বর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের বাকি দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। একই মাঠে ১৩ সেপ্টেম্বর শ্রীলংকা ও ১৬ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। ‘এ’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ভারত, পাকিস্তান, আরব আমিরাত ও ওমান। ৯ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান ও হংকংয়ের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের এশিয়া কাপ আসর।
এশিয়া কাপ মিশনে নামার আগে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২০ ওভারের ফরম্যাটে ডাচদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ৪টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ ছিল দ্বিপক্ষীয় সিরিজের অংশ। ২০১২ সালের জুলাইয়ে দ্য হেগ শহরে অনুষ্ঠিত সেই দুটি ম্যাচের একটি বাংলাদেশ ও আরেকটি ডাচরা জিতেছিল।
এরপর বিশ্বকাপে তিনবার দেখা হয়েছে এ দুটি দলের, যার সবগুলোতেই জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে ধরমশালায় ৮ রানে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে হোবার্টে ৯ রানে ও ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে ২৫ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। গত বছর ১৩ জুন কিংসটাউনে সাকিবের ব্যাটে ভর করে জিতেছিল টাইগাররা। সাকিব ৪৬ বলে ৬৪ রান তুলে দলকে এনে দিয়েছিলেন ১৫৯ রানের পুঁজি। এরপর রিশাদ হোসেন (৩/৩৩), তাসকিন আহমেদরা (২/৩০) জেতান বাংলাদেশকে। ডাচরা ৮ উইকেটে ১৩৪ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিল।
দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুটি দেশ। এবার সবক’টি ম্যাচই হবে সিলেটে।
সিলেটে অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ডটা উজ্জ্বল নয় বাংলাদেশের। এ মাঠে ৭ ম্যাচ খেলে ৪টিতেই হেরেছে স্বাগতিক দল, জয় ৩টি। ২০১৮ সালে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টি আর ২০২৪ সালের মার্চে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি দুটিতেই শ্রীলংকার কাছে হারের স্বাদ পায় টাইগাররা। শ্রীলংকার সঙ্গে ৪ ম্যাচ খেলে ৩টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে আরেকটি হার দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া আফগানিস্তানের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় পায় লাল-সবুজরা।
নৈসর্গিক সিলেট স্টেডিয়ামটি অবশ্য ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জন্য পয়মন্ত এক ভেন্যু। এখানে ৭ ম্যাচ খেলে কোনো হার নেই টাইগারদের। ৬টি জয় এসেছে, একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একবার, জিম্বাবুয়েকে তিনবার ও আয়ারল্যান্ডকে দুবার হারানোর কৃতিত্ব দেখায় লাল-সবুজরা। এ মাঠে চারটি টেস্ট খেলে একটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অবশ্য জিম্বাবুয়ের কাছে দুবার ও শ্রীলংকার কাছে একবারের হারের স্বাদ পেয়েছে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস।
বাংলাদেশ দল: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন, কাজী নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, সাইফ উদ্দিন। স্ট্যান্ডবাই (এশিয়া কাপের জন্য): সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম, হাসান মাহমুদ।
নেদারল্যান্ডস দল: ম্যাক্স ও’ডাউড, বিক্রমজিৎ সিং, অনিল নিদামানুরু, স্কট এডওয়ার্ডস, নোয়াহ ক্রুস, সাকিব জুলফিকার, রায়ান ক্লাইন, আরিয়ান দত্ত, পল ফন মিকেরেন, শারিজ আহমেদ, বেন ফ্লেচার, ড্যানিয়েল ডোরাম, টিম প্রিঙ্গল ও ফ্রেড ক্লাসেন।










