রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে ব্রাজিল জাতীয় দলে আবারো শুরু হয়েছে পুরোনো বিতর্ক —কেন তিনি জাতীয় দলে ক্লাব পর্যায়ের মতো পারফরম্যান্স করতে পারছেন না?
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল ফুটবল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, অনেকেই বলে ব্রাজিলের এখন কোনো বড় তারকা নেই, হয়তো সেটাই সত্যি। পেলে, রোমারিও বা রোনালদোর মতো কেউ নেই। তবে সম্মিলিত দায়িত্ববোধই আমাদের শক্তি হতে পারে।
এ মন্তব্যের পর আবারো আলোচনার কেন্দ্রে আসে ভিনিসিয়ুসের ভূমিকা। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউট হারের পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয় দলে তার অবস্থান নিয়ে সন্দেহ এখনো কাটেনি।
এমনকি ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হারের পর ব্রাজিলের জনপ্রিয় ফুটবল বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তোলা হয়—ভিনিসিয়ুসকে কী শুরুর একাদশ থেকে বাদ দেয়া উচিত? আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে তিনি বর্তমানে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোল-অবদানকারী খেলোয়াড় হলেও এ সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম—২৮ ম্যাচে ৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট।
ব্রাজিলের সাবেক সহকারী কোচ ক্লেবার জাভিয়ের মনে করেন, জাতীয় দলে পারফর্ম করা ক্লাব ফুটবলের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। তার মতে, জাতীয় দলে প্রতিদিনের অনুশীলন, কৌশল ও সতীর্থ বদলে যায়। তাই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন। তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে বলেন, একটি স্থিতিশীল দল গঠনই তার সাফল্যের মূল কারণ।
ভিনিসিয়ুস নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেন। তার মতে, ক্লাব ফুটবলে প্রতি তিনদিনে নতুন সুযোগ থাকলেও জাতীয় দলে সুযোগ আর চাপ দুটোই অনেক বেশি। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্সই সব বদলে দিতে পারে।
তবে ব্রাজিলের সমর্থকদের সঙ্গে তার আবেগঘন সম্পর্ক এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নেইমারের মতো জনপ্রিয়তা এখনও তিনি অর্জন করতে পারেননি। মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ এদুয়ার্দো মুসা বলেন, নেইমারের একটি শক্তিশালী ইমেজ আছে, আর ভিনিসিয়ুস এখনো সেটি তৈরি করছেন।
বর্তমানে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন ভিনিসিয়ুসকে দলের মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। তাকে ‘নাম্বার ১০’ জার্সিও দেয়া হয়েছিল, তবে নেইমারের প্রত্যাবর্তনে তা আবার পরিবর্তিত হয়েছে।
সবকিছুর মধ্যেও ভিনিসিয়ুস জানিয়েছেন, তিনি চাপ নিতে প্রস্তুত এবং নিজের সেরা পর্যায়ে পৌঁছাতে চান। তার ভাষায়, আমি এখন আলোচনার কেন্দ্রে, কারণ আমি বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোর একটিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছি। আমি জানি আমার দায়িত্ব বড়, এবং আমি আরো উন্নতি করতে চাই।
ব্রাজিলের জন্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে এখন প্রশ্ন একটাই—ভিনিসিয়ুস কী শেষ পর্যন্ত নিজের দেশবাসীর হৃদয় জয় করতে পারবেন?










