অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সুপার সিক্স পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ের ফলে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকল বাংলাদেশ। পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলেই মিলবে সেমির টিকিট। 

ব্লুমফন্টেইনের ম্যানগাউঙ্গ ওভালে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নেপাল। শুরু থেকেই টাইগার পেসারদের বোলিং তোপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে নেপাল। দলের ১৮ রানের মাথায় ভাঙে নেপালের উদ্বোধনী জুটি। ওপেনার বিপিন রাওয়ালকে আউট করে নেপালকে প্রথম ধাক্কাটা দেন মারুফ মৃধা।

এরপর নেপালের দলীয় ২৮ রানে ইকবাল হোসেন ইমনের বলে সাজঘরে ফেরেন আকাশ ত্রিপাঠি। পরের ওভারেই পড়েছে আরো একটি উইকেট। রহনত দৌলা বর্ষণের বলে ১৪ রান করেই আইট হন ওপেনার অর্জুন কুমাল। মাত্র ২৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে নেপাল।

চতুর্থ উইকেটে নেপাল অধিনায়ক দেব খানাল ও বিশাল বিক্রম প্রতিরোধ গড়েছিলেন, তাদের ১১৫ বলে ৬২ রানের জুটিতে। খানালকে ফিরিয়ে সে জুটি ভাঙেন জিসান আলম।

চতুর্থ উইকেটের পর পঞ্চম উইকেটে গুলশান ঝায়ের সঙ্গে বিক্রমের ৩০ ও শেষ উইকেটে গিয়ে ২৭ রানের বাইরে আর কোনো জুটি দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি। মাঝে দ্রুত ৩ উইকেট নিয়ে নেপালের আর কোনো প্রতিরোধের আশা শেষ করে দেন জীবন। শেষে রোহানাত নেন আরো ২ উইকেট। ১ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় নেপাল।

বাংলাদেশের হয়ে রহনত দৌলা বর্ষণ শিকার করেন ৪ উইকেট। এছাড়া ৩ উইকেট নেন শেখ পারভেজ জীবন। ইকবাল হোসেন ইমন, মারুফ মৃধা এবং জিশান আলমরা তোলেন একটি করে উইকেট।

ব্যাট হাতে জবাব দিতে নেমে বেশ ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি ও জিশান আলমের মধ্যে ধীরেসুস্থে আগাচ্ছিলেন শিবলি। তবে আরেক প্রান্তে ঝড় তোলেন জিশান। মারমুখি ব্যাটিংয়ে নেপালের বোলারদের পিটিয়ে নাজেহাল করেন তিনি। বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে রানও উঠতে থাকে দ্রুত।

জিশানের ওপেনিং সঙ্গী শিবলির ম্যাচ অবশ্য বেশি দূর গড়াতে পারেনি। ৩৪ বলে ১৬ রান করে দলীয় ৬৭ রানে সাজঘরে ফেরেনে তিনি।

তবে তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন জিশান। তুলে নিয়েছেন দারুণ এক ফিফটি। তিন নম্বরে ব্যাটে নেমে ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১১ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

ফিফটি হাকানোর পর আউট হন জিশানও। ৪৩ বলে ৫৫ রানের করে সাজঘরে ফেরেন টাইগার ওপেনার। মাঝে দ্রুত ২ উইকেট হারালেও আরিফুল ইসলামের ঝোড়ো ইনিংসে ২৫ দশমিক ২ ওভারের মধ্যেই জয় পায় বাংলাদেশ। আশিকুর ছাড়া পরের সব ব্যাটসম্যানই দ্রুত রান তোলার দিকে নজর দিয়েছেন। নেট রানরেট যে তাদের মাথায় ছিল তা বলাই যায়। তাতে সফলও হয়েছেন তারা।