নিজের স্বভাবসুলভ মারমুখী ব্যাটিংটাই করে যাবেন তামিম ইকবাল। এমনকি ব্যাটিংয়ের ধরণ নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলায় বেশ বিরক্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা ওপেনার। এতদিন ধরে যে স্টাইলে ব্যাটিং করে তিনি সফলতা পেয়েছেন সেই ব্যাটিংটাই করে যেতে বদ্ধপরিকর তিনি।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সফররত শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে। এ সিরিজ সামনে রেখে আজ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন তামিম। সংবাদ সম্মেলনে সব সময়ই তার ব্যাটিংয়ের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আজও উঠল অবধারিতভাবে। তিনি নিজের ব্যাটিংয়ের ধরণের মতোই এই প্রশ্নের মারমুখী জবাব দিলেন। তামিম বললেন, নিজেকে বদলানোর কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।
তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক তামিম। টেস্টে তার রান ৪,৭৮৮, ওয়ানডেতে ৭,৪৫২ ও টি২০তে ১৭০১। যে স্টাইলেই ব্যাটিং করুক না কেন, দিনশেষে তিনি দলের অন্যতম সেরা পারফরমার। তামিম মনে করেন মারমুখী ব্যাটিং করেই তিনি এ সফলতা পেয়েছেন। তার কথায়, আমার ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে মনে হয় আমি অনেক কথা বলেছি। অনেকবারই বলেছি। এটা কখনোই থামবার নয়, প্রশ্ন আসতেই থাকে। আমি কোন অ্যাপ্রোচে খেলব? যে অ্যাপ্রোচে খেলে আসছি গত চার-পাঁচ বছর ধরে, ওই অ্যাপ্রোচেই খেলতে থাকব, কারণ আমি খুবই সফল। এটা নিয়ে আসলে আমার ভবিষ্যতেও কিছু বলার নেই। যথেষ্ট বলেছি এটা নিয়ে। সবার কাছে অনুরোধ করছি আবার এই প্রশ্ন না করতে।
পরিসংখ্যান অবশ্য সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। গত পাঁচ বছরে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত সফলতা পেয়েছেন তামিম। এ সময় দুই হাজারের বেশি রান করেছেন বিশ্বের ১১ জন ওপেনার। তাদের মধ্যে তামিমের ব্যাটিং গড় তৃতীয় সেরা, ৫১.৬৭। তার চেয়ে ভালো রানগড় আছে কেবল ভারতের রোহিত শর্মা (৬০.৮২) ও অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের (৫৫.০৫)।
তবে স্ট্রাইক রেটে ১১ জনের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে তামিম। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বাংলাদেশ দলের চাওয়া থাকে তার লম্বা সময় উইকেটে থাকা। তিনি তা মেটানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উইকেটের কথাও বলেছেন তিনি, বিশেষ করে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট, যা বেশির ভাগ সময় থাকে বেশ মন্থর, শট খেলা যেখানে কঠিন।
শ্রীলংকা সফরে টেস্টে সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্তকে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ থেকে বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে তামিম বলেছেন, সে আটটি ওয়ানডে খেলেছে, দুর্ভাগ্যবশত তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স আমরা পাইনি। ব্যক্তিগতভাবে আমি, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট সবাই মনে করি, শান্ত আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যত। এই সিরিজে দলে না থাকার মানে সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। আমি মনে করি, বাংলাদেশ দলকে দেয়ার মতো অনেক কিছু শান্তর মধ্যে আছে। হয়তো এই সংস্করণ থেকে তার একটু বিরতি দরকার। আমি নিশ্চিত, সে দ্রুতই ফিরে আসবে।










