হিন্দি চলচ্চিত্রের বাঁক বদলে দেয়া সিনেমা ‘দিলওয়ালে
দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’
মুক্তির ২৭ বছর পার করল ২০ অক্টোবর। ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে চলা সিনেমা এটি। এটি এখনো নিয়মিতভাবে বেলা সাড়ে ১১টার শোয়ে প্রদর্শিত হয় মুম্বাইয়ের ‘মারাঠা
মন্দির’
প্রেক্ষাগৃহে। কয়েকবার দেখে ডায়ালগ মুখস্থ হয়ে গেলেও ভক্তরা মারাঠা মন্দিরে ছুটে আসেন শাহরুখ খান ও কাজলের রোম্যান্স দেখতে। দর্শকদের ক্লান্তিহীন আগ্রহ থেকে বিস্মিত হয়ে যান চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। স্বীকার করে নেন সিনেমার ভেতরের জাদুকে।
এ সিনেমায় গল্প, অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে বা ডিডিএলজের সংগীত পরিচালনায় ছিলেন দুই ভাই-যতীন পণ্ডিত ও ললিত পণ্ডিত। দীর্ঘ ২৭ বছর পর এসে যতীন সামনে আনলেন ডিডিএলজে নিয়ে তাদের গল্প ও জমে থাকা আবেগ।
ডিডিএলজের প্রতিটা গানই দর্শকের মনে সাড়া ফেলেছিল। ‘তুঝে
দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’-এর মতো পুরোদস্তুর রোমান্টিক গান থেকে ‘ মেহদি
লাগা কে রাখনা’-এর মতো উৎসব ধাঁচের গান। মাতৃভূমির প্রতি কাতরতা নিয়ে নির্মিত ‘ঘর
আ জা পারদেসি’
এখনো প্রবাসী ভারতীয়দের সমানভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে। আনন্দ বখশির লিরিকে সে গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন পামেলা চোপড়া। সিনেমার গানগুলো অনেকের মধ্যেই দখল করে আছে শ্রেষ্ঠত্বের আসন। অথচ শ্রেষ্ঠ পরিচালক ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড নিজের ঝুলিতে তুলতে পারেননি সংগীত পরিচালকরা। ডিডিএলজেকে হারিয়ে অ্যাওয়ার্ডের ৪১তম আসরের সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার যায় এ আর রহমানের হাতে। আমির খান ও উর্মিলা মাতন্ডকর অভিনীত রঙ্গিলা সিনেমার জন্য। ব্যাপারটা যতীনের জন্য ছিল হতাশার। তিনি সরাসরি বলেন, ‘বিষয়টি
নিয়ে আজও আমি কষ্ট পাই। ডিডিএলজে সিনেমার গানগুলো পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। যত দিন যাচ্ছে, গানগুলো আরো জনপ্রিয় হচ্ছে। এমন গান সবসময় তো আর আসে না।’
ডিডিএলজেতে কাজ করতে পারার জন্য আশা ভোঁসলের প্রতি ঋণ স্বীকার করেন যতীন। তখন আরডি বর্মণ মারা গিয়েছেন। দুদিন পর সে বাসায় গেলে কথা হয় আশা ভোঁসলের সঙ্গে। ১৯৮০ সালেই আশা ভোঁসলে ও আরডি বর্মণ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। যা-ই হোক, সে সাক্ষাতে আশা ভোঁসলে তাদের কাজের প্রশংসা ও পরবর্তী সময়ে বড় সিনেমায় কাজের ব্যাপারে উৎসাহ দেন। যশ চোপড়ার স্ত্রী পামেলা চোপড়াকে ফোন দিয়ে নিজে থেকেই যতীন-ললিতের ব্যাপারে জানান। তার কয়েকদিন পরেই যশরাজ ফিল্মস থেকে ডাক আসে। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয় আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে। সে আলোচনায়ই ঠিক হয়ে যায় তাদের সংগীত পরিচালনার ভবিষ্যৎ।
১৯৯৫ সালে মুক্তির পর দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে বছরের শ্রেষ্ঠ ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে ২০০ কোটি রুপি আয় করে। প্রবেশ করে সর্বকালের সেরা সিনেমার তালিকায়। একক চলচ্চিত্র হিসেবে সর্বোচ্চ ১০টি ক্যাটাগরিতে জিতে নেয় ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। ঝুলিতে তোলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা










