২০১৮ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ নির্বাচিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। সিনেমার পাশাপাশি যুক্ত আছেন মডেলিংয়ের সঙ্গে। এ ঈদে মুক্তি পাবে তার সিনেমা ‘আদম’। অভিনয় আর ঈদের গল্প নিয়ে তিনি কথা বলেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী 

কেমন আছেন?

আলহামদুল্লিলাহ এখন ভালো আছি। সময় ভালো যাচ্ছে। 

কোন ধারার সিনেমায় আপনি কাজ করতে চান?

আমার কাছে ধারা মুখ্য বিষয় নয়। সিনেমার গল্প ও চরিত্রটা আমার কাছে গুরুত্ব পায়। যে সিনেমায় দর্শক আনন্দ পায়, তাদের কাছে কিছু মেসেজ যায় এবং বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কিছুটা প্রভাব পড়ে আমি সেসব সিনেমায় কাজ করতে চাই। সেটা আর্টধর্মী কিংবা বাণিজ্যিক সিনেমাও হতে পারে।

ঈদে নিজের জন্য কেনাকাটা করেছেন?

নিজের জন্য খুব বেশি কেনা না হলেও অন্যদের জন্য কেনা হয়েছে। উপহার পাওয়া এবং দেয়া দুটোই আনন্দের। তবে দেয়ার আনন্দ অন্য রকম। উপহার দেয়ার তো অভ্যাস নেই। প্রথম প্রথম দিতে অনেক এনজয় করি। মনে হয় যে বড় হয়ে গেছি। আর ১০ বছর পর যখন দেয়াটা দায়িত্ব হয়ে যাবে তখন হয়তো এতটা উপভোগ করব না। পরিবারের লোকেরা আমার থেকে উপহার পেয়ে তারা খুশি হয়। আমি পরিবারের ছোট মেয়ে। ছোটদের থেকে তো কেউ কিছু নিতেও চায় না। তারা উপরি পাওনা হিসেবে পেয়ে খুব খুশি হয়। এটা আমার ভালো লাগে।

পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে গুরুত্ব পায়?

আমি আরামের বিষয়টা দেখি সবার আগে। এর সঙ্গে পোশাকটা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি কিনা সেটা নিয়ে ভাবতে হয়। একটা পোশাকে মানুষকে তখন মানায় যখন সেটা কনফিডেন্টলি নিতে পারে। জোর করে পোশাক পরা আমি পছন্দ করি না। যখন বুঝি এ পোশাকটায় আমাকে মানাচ্ছে এবং আমি এটা নিয়ে স্বচ্ছন্দ তখনই আমি পোশাকটা নির্বাচন করি।

আপনার প্রিয় পোশাক কোনটি?

আমি সালোয়ার-কামিজ পরতে পছন্দ করি। শাড়িও আমার খুব পছন্দের পোশাক।

পোশাকের সঙ্গে কোন আনুষঙ্গটা লাগেই?

অবশ্যই একটা ভালো জুতা বা স্যান্ডেল। এছাড়া কানের দুল, ব্রেসলেট আমার খুব পছন্দ। স্বর্ণের চেইন। ইদানীং স্বর্ণ আমার খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বর্ণ এমন একটা জিনিস যেটা ওয়েস্টার্ন ও ট্র্যাডিশনাল যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যবে যেকোনো উপলক্ষে।

তারকা খ্যাতির জন্য ঈদ কেনাকাটায় কখনো বিড়ম্বনায় পড়েছেন?

না, এমন হয়নি। এবারই প্রথম আমি শপিংমলে গিয়ে কেনাকাটা করলাম। তবে আমার কাছে শপিংমলে গিয়ে কেনাকাটা করাটা ক্লান্তিকর। আমি শপিং করতে খুব পছন্দ করি, তবে সেটা অনলাইনে। শপিংমলে গিয়ে ঘুরে ঘুরে কেনার ধৈর্য আমার নেই। আমার চোখে কিছু ভালো লেগে গেলে আমি কিনে ফেলি। আমি কেনাকাটা করতে গেলে অনেক সময় দেখা যায় যেসব দোকানে ফিক্সড প্রাইসের না তারা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয় আমাকে দেখে। এটা একটা সমস্যা।

তারকা খ্যাতির আগের ঈদ মিস করেন?

হ্যাঁ, খুব মিস করি। এ চার বছরের সবক’টা ঈদ ঢাকায় করেছি। তবে গত বছরের ঈদ গ্রামে করছি। সবাই মিলে অনেক আনন্দ করেছি।

ছোটবেলার ঈদের কোন স্মৃতি আপনাকে ভাবায়?

আমার ছোটবেলার সব ঈদ গ্রামেই কাটানো। আমাদের বড়ির সামনে প্রতি বছর ঈদের মেলা হয়। মেলায় মুরগি বা মাছের শেপের বিভিন্ন মাটির ব্যাংক আসত। আমি মেলা থেকে মাটির ব্যাংক কিনতাম। সালামির টাকা, টিফিনের টাকা সব ওই ব্যাংকে জমা করতাম। বেশ কয়েক বছর এমন টাকা জমিয়ে বাবার কাছে রাখতাম। পরে বাবা আমার টাকার সঙ্গে নিজের আরো টাকা দিয়ে আমাকে গ্রামে একটা জমি কিনে দিয়েছে। আমার জমানো টাকার পরিমাণ ছিল খুব সামান্য। তার পরও বাবা আমাকে খুশি করতে বলতেন, তোমার জমানো টাকায় কেনা তোমার জমি। আমি ছোটবেলা থেকেই এটা শুনে আমি খুব আনন্দ পাই।