শাহরুখ ও সালমান খানের নব্বইয়ের দশকের দুই ক্ল্যাসিক ছবি এখনো সিনেমা হলে চলছে এবং সেগুলো দিব্যি আয়ও করছে। ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সাল দুটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। কারণ এ দুই বছরে মুক্তি পেয়েছিল যথাক্রমে হাম আপকে হ্যায় কৌন ও দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে। সালমান খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ফ্যামিলি ড্রামা হাম আপকে হ্যায় কৌন মুক্তির পর ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের ছবিতে পরিণত হয় এবং মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করে অনেকে ছবিটিকে ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় ছবি হিসেবে বিবেচনা করেন। আর শাহরুখ খান ও কাজলের রোমান্টিক ছবি দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে হলে চলা ভারতীয় সিনেমা। ছবিটি ১ হাজার ২০০ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সিনেমা হলে চলছে।

এ দুই আইকনিক ছবির গল্প কিংবা আবেদন এখনো ফুরোয়নি। নতুন ছবির অভাবে ভারতের জয়পুরের বিখ্যাত রাজ মন্দির সিনেমা হলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দিনে তিনটি শো করে সপ্তাহজুড়ে প্রদর্শন করেছে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে। এরপর ৫ মার্চ শুরু হয়েছে হাম আপকে হ্যায় কৌন।

ফেব্রুয়ারির ২৬ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত রাজ মন্দির সিনেমা হলে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে আয় করেছে ৩ লাখ রুপি। এ সময়ে ছবিটি দেখেছেন প্রায় তিন হাজার দর্শক। এর মধ্যে সাপ্তাহিক বন্ধের একদিনে আয় হয় দেড় লাখ রুপি। আর হাম আপকে হ্যায় কৌন প্রথম তিনদিনে আয় করেছে সোয়া লাখ রুপি। হাজারের বেশি দর্শক ছবিটি হলে দেখেছেন।

মুক্তির ২৫ বছর পরও সিনেমা দুটি হলে দর্শক টানছে। ছবি দুটো ভারতের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে নিয়মিত প্রদর্শিত হয়। তার ওপর ইন্টারনেট তো আছেই। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হচ্ছে এসবের পরও দর্শকরা পয়সা খরচ করে টিকিট কিনে হলে গিয়ে সিনেমা দুটো দেখছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দর্শকরা রাজ-সিমরান ও প্রেম-নিশার প্রেমকাহিনী নিয়ে নস্টালজিয়ায় ভোগেন। তাই তারা এখনো হলে গিয়ে ছবিটি দেখতে চান। সিনেমা দুটো ভারতীয় দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। তাই এখনো ছবি দুটো হলে প্রদর্শিত হয়।

১৯৯৪ সালে মুক্তির পর হাম আপকে হ্যায় কৌন আয় করেছিল প্রায় ৭২ কোটি রুপি এবং পরের বছর মুক্তি পাওয়া দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে ৫৫ কোটি রুপি। দুই বছরে এ দুটো ছবিই ছিল সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র।

 

সূত্র: পিংকভিলা