বলিউড সিনেমার দেশভক্তি পর্বে অনিবার্য এক নাম সানি দেওল। সাম্প্রতিক ‘গাদার টু’র সাফল্য এ ক্ষেত্রে তাকে কয়েক কদম এগিয়ে নিয়েছে। তবে সব সময়ই শুধু ভারতীয় হয়ে পর্দায় লড়েছেন এমন নয়, পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার ভূমিকায়ও দেখা গেছে তাকে। খবর বলিউড হাঙ্গামা।

‘গাদার: এক প্রেম কথা’ ছাড়াও ইন্ডিয়ান, মা তুঝে সালাম, হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই, জাল: দ্য ট্র্যাপের মতো সিনেমায় দেখা গেছে এ অভিনেতাকে। এছাড়া ‘বর্ডার’-এর মতো যুদ্ধের সিনেমায় তিনি ছিলেন অপরিহার্য তারকা।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানের অনস্ক্রিন শত্রু বা এন্টি-পাকিস্তানি ভূমিকায় সানি দেওলের জুড়ি নেই পুরো ভারতে। মানতে কষ্ট হয়, যদি শোনা যায় তিনিই পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

এর জন্য দেড় দশক পেছনে যেতে হবে। পাঞ্জাবি নির্মাতা অমিতজ মানের দ্বিতীয় হিন্দি সিনেমা ‘কাফিলা’ মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। যুক্তরাজ্যে প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের অবৈধ অভিবাসন ছিল এর গল্পের কেন্দ্রে। দুই ঘণ্টা ২৭ মিনিটের এ সিনেমায় প্রায় ঘণ্টাখানেক দেখা যায় সানিকে।

বরাবরের মতো ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হন বলিউড নায়ক। শুরুতে নিজের পরিচয় দেন মানব পাচার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, নাম সামির। নানা ঘটন-অঘটনের পর অভিবাসন প্রত্যাশী ভারতীয় একটি দলটিকে সামির বোঝাতে সক্ষম হয় নিজ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভারতেও তারা ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবে। সামিরের কথায় অভিবাসন প্রত্যাশীরা আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ফেরে নিজ দেশে।

‘কাফিলা’র শেষ দিকে দেখা যায়, বিশেষ কারণে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা সামির আহমেদ খান ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন। তাকে ‘পাকিস্তান পায়েন্দাবাদ’ বা ‘পাকিস্তান দীর্ঘজীবী হোক’ বলতেও শোনা যায়। তবে চরিত্রটি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, অর্থাৎ ভালো পাকিস্তানি।

‘কাফিলা’য় দুজন পাকিস্তান অভিনেত্রীও ছিলেন- সানা নাওয়াজ ও সারা লরেন। পরবর্তীতে মার্ডার থ্রি, বার্খাসহ কয়েকটি বলিউড সিনেমায় কাজ করেন সারা।