ব্যান্ড মানেই প্রথা ভাঙার গান। সময়ের ভাষ্য তুলে ধরতে যেসব ব্যান্ডের গানে মেতে উঠছে বর্তমান প্রজন্মের তারুণ্য, তাদের নিয়েই এগোতে চায় ‘এই সময়’ শীর্ষক সংগীত উদ্যোগ। এরই প্রথম অধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে। সময়ের জনপ্রিয় সাতটি ব্যান্ড এক হয়েছিল এ আয়োজনে। শুক্রবার বেলা ৩টায় শুরু হয়ে এ কনসার্ট চলে রাত ৯টা অবধি। কনাসার্টটি আয়োজন করে অ্যাকোস্টিকা। 

কনসার্টের সমন্বয়ক সৈকত বিশ্বাস টুটুল বলেন, ‘দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ডগুলোর কিছুটা বাইরে এসে যেসব ব্যান্ডের গানে সময়ের নতুন ভাষ্য উঠে আসছে, তাদের নিয়ে আমাদের এ যাত্রা। প্রথম অধ্যায়ের গানে কিছু সাইকেডেলিক ব্যান্ড নিয়ে আমরা আয়োজনটি করেছি। সামনের দিনগুলোয় নতুন নতুন ব্যান্ড যুক্ত হবে। রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের নানা প্রান্তে ‘এই সময়’ নানা অধ্যায়ে এগিয়ে যাবে।’

গান গেয়ে প্রথমেই মঞ্চ মাতায় ‘আপেক্ষিক’ ব্যান্ড। ‘লেফট রাইট’ দিয়ে শুরু করে বাংলা ফাইভ ব্যান্ড পরিবেশন করে তাদের শ্রোতানন্দিত গানগুলো।

ব্যান্ডের ভোকাল সিনা হাসান বলেন, ‘এ কনসার্টের বিশেষত্ব হচ্ছে এতে অডিয়েন্স এসেছে শিল্পীদের আমন্ত্রণে। তারা যে অর্থমূল্য দিয়ে টিকিট কিনেছে, তা সরাসরি পাচ্ছেন শিল্পীরা। প্রথম অধ্যায়টি আমরা ইনডোর করেছি। সামনের আয়োজনগুলো আরো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।’

মঞ্চে উঠেই আভাস ব্যান্ড নিয়ে নতুন করে পথচলা তানজীর তুহিন বলেন, ‘শিক্ষা, মনন, বিবেক সবকিছু নিয়ে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠুক, গড়ে উঠুক এ শহর, নতুন প্রজন্মের ব্যান্ডগুলো এগিয়ে যাক এই সময়ের গানে। আয়োজকদের ধন্যবাদ এমন কনসার্ট আয়োজনের জন্য।’

মহীনের ঘোড়াগুলির ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে বোকা বাক্সতে বন্দি’ দিয়ে শুরু করেন তুহিন। তার গানের কথা ও সুরেও ‘এই সময়’ ফুটে ওঠে দারুণভাবে। তুহিন গাইলেন একটা একটা করে দিন কেটে গেল আমরা মানুষ হলাম কই? গাইলেন একই সঙ্গে তার শ্রোতাপ্রিয় বেশকিছু গান।

সবশেষে মঞ্চে আসে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মেঘদল’। এসো আমার শহরে না বলা গল্পের ভিড়ে-এমন আহ্বানে ব্যান্ডের ভোকাল শিবু কুমার শিল আমন্ত্রণ জানান গানে গানে। একে একে ‘কিছু বিষাদ হোক পাখি’ কিংবা ‘নির্বাণ’-এর মতো বেশকিছু গান। সবশেষে কথা ও সুরের মোহমায়ায় ‘এ হাওয়া’য় ভাসিয়ে শেষ হয় ‘এই সময়: অধ্যায় ১’।