বছরজুড়েই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকায়। দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ। তারই ধারাবাহিকতায় ‘‌কাঠপুতুল—রাজস্থানের পুতুলনাচ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী পুতুলনাচের আয়োজন করা হয়েছে। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকা ও ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজন করেছে এ পুতুলনাচের। আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে শুরু হবে পুতুলনাচের এ আসর। আয়োজনটি শনিবার শেষ হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পক্ষ থেকে।

কাঠপুতলি বা কাঠপুতুল ভারতের রাজস্থানের স্থানীয় এক ধরনের পুতুলনাচ। এটা রাজস্থানের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক পণ্ডিত মনে করেন, কাঠপুতলি শিল্পের ঐতিহ্য হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। রাজস্থানি লোককাহিনী, গীতসংহিতাসহ কিছু লোকগানেও কাঠপুতুল নাচের উল্লেখ পাওয়া যায়। রাজস্থানের উপজাতিরা প্রাচীনকাল থেকেই এ শিল্প সম্পাদন করে আসছে। এটি রাজস্থানি সংস্কৃতি বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের চিরন্তন অংশে পরিণত হয়েছে। রাজস্থানের গ্রাম্য মেলা, ধর্মীয় উৎসব ও কোনো সামাজিক জমায়েতে কাঠপুতলির আয়োজন থাকে।

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কাঠপুতুল—রাজস্থানের পুতুলনাচ’-এর পরিবেশনায় থাকছে একই সঙ্গে নৃত্য ও পুতুলনাচ। নৃত্যশিল্পী তার পরিবেশনের মাধ্যমে মঞ্চের সামনে দর্শকের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করবেন। আর পুতুলনাচের প্রথম অংশের গল্পটি হচ্ছে ভারতের উত্তরাঞ্চলের একটি ছোট গ্রামের ভোরবেলায় দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার কিছু চিত্র। দ্বিতীয় অংশটির দৃশ্যপট সম্রাট আকবরের প্রাসাদে, যিনি নিজের আনন্দের জন্য পুতুল ব্যবহার করতেন। রাজস্থানের মহারাজাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় তার দরবারে। সেখানেই ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা দিয়ে সাজানো হয়েছে দ্বিতীয় অংশটি। এটি পরিচালনা করবেন জাজি আয়ুন। অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। কলাকুশলীরা হলেন সিকান্দার খান, ঈশ্বর মাথুর, সুশীলা ও বিজয় ভট্ট। অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে এতে অংশ নিতে হলে নিবন্ধন করতে হবে বলে জানিয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ কর্তৃপক্ষ।