মহামারীর প্রভাব যুক্তরাজ্যের বিনোদন জগতে ভালোভাবেই পড়েছে। চলচ্চিত্র ও উচ্চমানের টেলিভিশন প্রডাকশনে কী রকম প্রভাব পড়েছে তা সম্প্রতি টের পাওয়া গেল ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত তথ্য থেকে। ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে চলচ্চিত্র ও উচ্চমানের টেলিভিশন প্রডাকশনে বিনিয়োগ বা ব্যয় হয়েছে ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ব্যয় ২০১৯ সালের তুলনায় ২১ শতাংশ কম।
এক্ষেত্রে প্রডাকশন ব্যয় বেশি কমেছে চলচ্চিত্র খাতে। ২০২০ সালে এ চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যয় ছিল ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩১ শতাংশ কম। অন্যদিকে টিভি প্রডাকশনে খরচ কম হয়েছে ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন পাউন্ড, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।
তবে বছরের শেষ তিন মাসে ক্ষতি পোষাতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। তিন মাসের ব্যয়ের বিবেচনায় এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন দুনিয়া তাদের কার্যক্রম মোটামুটি চালিয়ে নিয়েছে। এক্ষেত্রে কভিড-সেভ প্রডাকশন গাউডলাইন তৈরি করা হয়েছিল। বড় ছবি যেমন জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস থ্রি, মিশন ইম্পসিবল সেভেন মহামারীর মধ্যেও তাদের শুটিং অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। স্থানীয় অনেক ছবির কাজও চলেছে। এমনকি যুক্তরাজ্যের সরকার যখন ‘সবচেয়ে ভয়ানক সপ্তাহ’ ঘোষণা করেছিল, তখনো সংস্কৃতি, মিডিয়া ও স্পোর্টস বিভাগ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সেক্টরকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল।
২০১৯ সালে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাজ্য বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। সে বছরের প্রথম তিন মাসে এ দুই খাতে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছিল। ২০১৯ সালে এ খাত দুটিতে বিনিয়োগ হয়েছিল ৩ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। চলচ্চিত্র খাতে বিদেশী বিনিয়োগে চাঙ্গা ভাব ছিল এবং আন্তর্জাতিকভাবে চলচ্চিত্র প্রডাকশনে ব্রিটেন একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে ওঠে। এরপর কভিড মহামারী পুরো পরিস্থিতিকে ব্যাকফুটে নিয়ে গেছে।
সূত্র: ভ্যারাইটি










