দেশের গুণী নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যুক্ত আছেন চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে। তার প্রথম সিনেমা ‘মনপুরা’ দিয়েই দর্শকের মন জয় করেছিলেন। বর্তমানে এ নির্মাতা ব্যস্ত আছেন ‘কাজল রেখা’ সিনেমাটি নিয়ে। মৈমনসিংহ গীতিকার ‘কাজল রেখা’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। ৪০০ বছরের আগের গল্প নিয়ে এ সিনেমার নির্মাণ এবং মুক্তিসংক্রান্ত নানা বিষয়ে সেলিম কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
কাজল রেখার নির্মাণ এখন কোন পর্যায়ে আছে?
আমাদের সিনেমাটি নির্মাণের একেবারেই শেষ পর্যায়ে আছে বলা যায়। গত বছরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আমরা শুটিং করছিলাম। শুটিং পর্ব শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সিনেমাটির বেশির ভাগ কাজও আমরা শেষ করেছি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে এটি। কাজল রেখা অনুদানের সিনেমা। আমরা অনুদান কমিটিতে চিঠি দিয়েছি সিনেমাটি শেষ করা প্রসঙ্গে। এরপর তারা জানানোর পর আমরা সিনেমাটি তাদের দেখাব। অনুদান কমিটি কাজল রেখা অনুমোদন দেয়ার পর আমরা কাজল রেখা সেন্সরে জমা দেব। সিনেমাটি মুক্তির জন্য আমরাও অপেক্ষা করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর ৯ ফেব্রুয়ারি কাজল রেখা মুক্তি দিতে যাচ্ছি। এটাই আমাদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা।
৪০০ বছর আগের গল্প কাজল রেখায় উঠে এসেছে। পিরিয়ডিক সিনেমা নির্মাণ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
এটা সত্যি অনেক কঠিন একটা কাজ। আমাদের জন্যও অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। ৪০০ বছর আগে আমরা কেমন পোশাক পরতাম, কেমন বাড়িতে থাকতাম এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়েছে। সে সময়ে আমাদের আর্কিটেকচার, রীতিনীতিসংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটি বিষয় নজর দিতে হয়েছে। এটা তুলে ধরাটা চ্যালেঞ্জ অনেক। সিনেমায় আমরা যতটুকু ডিটেইল তুলে ধরেছি সেটা নিয়ে আমি খুশি। আমার ধারণা দর্শক বিষয়টা গ্রহণ করবে। এছাড়া এটা একটা মিউজিক্যাল ফিল্ম। ২০টির বেশি গান আছে এতে। আর এ গানগুলো আমাদের পূর্ব বাংলার গান। হলবাসী গানে গানে একটা সুন্দর সময় পার করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
‘কাজল রেখার গানগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই
আমাদের সিনেমার গানের যে কথার বিন্যাস সেটা আমি করেছি। কিছু গান পালায়ও ছিল আবার কিছু পালার গানগুলো অনুকরণ করে নতুনভাবে লিখতে হয়েছে। আর সুর বিন্যাসের ক্ষেত্রে কফিল আহমেদ আর ইমন চৌধুরী দুজন কাজ করেছেন। কাজল রেখার মিউজিক ডিরেক্টর ইমন চৌধুরী। আর ৩০ জনের একটা টিম এ গানগুলো গেয়েছেন। এর মধ্যে একদম নতুন শিল্পীরাও যেমন ছিলেন আবার দেশবরেণ্য শিল্পীরাও ছিলেন। যেমন অবন্তী সিঁথি, মাশার মতো অনেকেই আছেন।
সিনেমাটি মুক্তিতে এ বিলম্বের কারণ কী?
ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময়ে সিনেমা মুক্তি দিতে চাইনি। এটা কাজল রেখার মুক্তি বিলম্বের একটা কারণ। এছাড়া সামনে নির্বাচন। সব মিলিয়ে আমরা একটু দেরি করেই সিনেমাটা মুক্তি দিতে যাচ্ছি। আসলে কাজল রেখা চিরায়িত বাংলার সিনেমা। এটা আমরা একটা বাঙালি উৎসবকে কেন্দ্র করেই মুক্তি দেয়ার কথা ভেবেছিলাম। আর পহেলা ফাল্গুন বসন্ত শুরু হবে। বসন্ত উৎসব বাঙালির অন্যতম উৎসব। আমরা উৎসবকে কেন্দ্র করেই সিনেমাটি মুক্তি দিতে চাচ্ছি।
ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলছে, আপনি কোন দলের সাপোর্টার?
আমি বাংলাদেশী, তাই মনেপ্রাণে নিজের দেশকেই সাপোর্ট করি। আমি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো দেখি। ২৮ ও ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের খেলা দেখতে আমরা কাজল রেখার একটা ছোট টিম ভারতে যাচ্ছি। কাজল রেখার নায়ক-নায়িকা এবং আমিসহ আরো কয়েকজন যাচ্ছি ইডেনের মাঠে। বলা যায়, বাংলাদেশের খেলার মধ্য দিয়ে আমরা সফট আকারে কাজল রেখার প্রচারণা ক্যাম্পেইন শুরু করব। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য কলকাতার ইডেনে বাংলাদেশের খেলা দেখা।
নতুন কোনো প্রজেক্ট শুরু করেছেন?
অনেক কিছু নিয়ে ভাবছি, তবে কোনোটাই এখনো বলার মতো না। কাজল রেখার মুক্তি এখন আমার মূল ভাবনা। সবকিছু যদি ঠিক থাকে, কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হয়, তবে ভালোভাবে সিনেমাটা নিয়ে আসাটাই এখন চাওয়া।










