ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু দিব্য জ্যোতির। সিনেমা ও ওয়েব দুনিয়ায়ও অভিনয় করেছেন তিনি। ‘‌মহানগর ২’ ওয়েব সিরিজে মাসুম চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পাচ্ছেন দিব্য জ্যোতি। অভিনয় ও ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন দিব্য। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

মহানগর ২-এর মাসুম হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? 

মহানগরের দ্বিতীয় সিজন আসলে এক রাতের গল্প। স্বাভাবিকভাবেই তাই রাতে শুটিং করতে হয়েছে আমাদের। রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শুটিং চলত। আমি চেষ্টা করি রাত ১১টার ভেতর ঘুমিয়ে যেতে। মাসুম চরিত্র করতে গিয়ে আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল রাত জাগা। সারা রাত কাজ করতে গিয়ে প্রথম দিকে একটু কষ্ট হয়েছে। তবে মাসুমকে নিজের সঙ্গে রিলেট করতে চেষ্টা করেছি মহানগর ২-এর চিত্রনাট্য পাওয়ার পর থেকেই। সে চেষ্টা থেকেই পর্দায় মাসুমকে ফুটিয়ে তুলেছি। নিপুন ভাই খুব ভালোভাবে বিস্তারিত দৃশ্যগুলো বুঝিয়ে দিতেন। সব মিলিয়েই পর্দায় মাসুমকে নিয়ে আসা। 

দর্শকের কাছে এখন কী শুনতে হচ্ছে?

আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি না। তাই ফোন করে কিংবা আমার মায়ের মাধ্যমে অনেকেই মহানগর ২ নিয়ে আমাকে জানাচ্ছেন। বেশির ভাগের কাছেই শুনতে হচ্ছে, তুমি যেটা করেছ সেটা নিয়ে কিছু বলার নেই। বেশির ভাগ মানুষই আমাকে প্রথমবার কিছু বলতে পারছে না। সবার কাছ থেকে ভালোবাসা পাচ্ছি।

ভাইকে হাজতবাস করতে দেখে সৌম্য জ্যোতির প্রতিক্রিয়া কী?

আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে মহানগর ২ দেখেছি। ওয়েব সিরিজটি দেখার পর সৌম্য আমাকে কিছু না বলে কেবল পিঠ চাপকিয়েছে। পরে ও ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল এবং আমার বাবা-মাও দুবার সিরিজটি দেখেছেন। তারাও প্রশংসা করেছেন।

শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত বঙ্গবন্ধুর অফিশিয়াল বায়োপিকে কিশোর মুজিবের চরিত্রে গল্পটা জানতে চাই। 

এখনো আমি এটা বিশ্বাস করতে পারি না যে আমি শ্যাম বেনেগালের নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর মতো একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর কিশোরবেলার চরিত্র করেছি, এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ বঙ্গবন্ধুর ওই বয়সের খুব বেশি ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন নেই। এ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর রচিত বইগুলো আমাকে সাহায্য করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘‌মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমার সব সদস্যের দেখা হয়েছিল। সেখানে তিনি তার বাবা সম্পর্কিত বিভিন্ন গল্প বলেছিলেন, যেগুলো তিনি শুনেছিলেন দাদা-দাদি ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে। এটা আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করেছিল কিশোর মুজিব হয়ে উঠতে। এটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা আমার জীবনের। 

ছোট থেকেই বাবা-মার সান্নিধ্যে অভিনয় দেখে এসেছেন। অভিনয়ের এ জার্নিটা কেমন লাগে?

এটা একটা ম্যাজিক্যাল বিষয় আমার কাছে। জার্নিটা কীভাবে শুরু হয়েছিল জানি না। ছোটবেলায় ওভাবে কাজ করা হয়নি। মূলত আমি এ লেভেলে ওঠার পর কাজ শুরু করেছি। এর আগে আমার মামার লেখা একটা নাটকে কাজ করেছিলাম। ছোট থেকেই আমার আশপাশে বাবা-মাসহ বাঘা বাঘা শিল্পীকে দেখেছি। এদের সঙ্গে থেকে আমার মনে হতো অভিনয় খুব সহজ। কিন্তু আমি যখন ২০১৭ সালে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম তখন বুঝলাম, অভিনয় এত সহজ নয়। অভিনয় আসলে একটা পরিপূর্ণ শিল্প। কথাটা অনেক জায়গায় শুনেছি, যেটা আমি অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি। আমি অভিনয় করছি ও শিখছি। কখনো মনে করি না যে আমি এখন অনেক ভালো অভিনয় করছি। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগে তিন মাসের জন্য লার্নার লাইসেন্স দেয়। এখনো লার্নার লাইসেন্সের ওপরে আছি। আমি অভিনয় অনেক বেশি ভালোবাসি। অভিনয় শেখার ইচ্ছাটা আমার প্রবল। যত বেশি কাজ করছি, নিজেকে তত বেশি সামান্য মনে হয়। যখন আমি চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম কিংবা জয়া আহসানের সঙ্গে কাজ করি, তখন মনে হয় আমি কতটা নগণ্য। আর তারা কত বড় মাপের শিল্পী। এখনো অনেক কিছু শেখার আছে। 

সামনে আপনার কোনো কাজ আসছে?

আমি মহানগর ২ নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম। আমরা দুই ভাই সবে অনার্সের তৃতীয় বর্ষে উঠলাম। তাই পড়াশোনার জন্য খুব বেশি কাজ করতে পারি না। এ কারণে একটা প্রজেক্ট নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকি। আসন্ন কাজ বলতে সামনে ‘‌নকশী কাঁথার জমিন’ সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। খুব সম্ভবত আগামী জুলাই বা আগস্টের দিকে সিনেমাটা মুক্তি পাবে। এটা এরই মধ্যে সেন্সর পেয়ে গেছে। আর আমি কিছুদিন মহানগরের বাসিন্দা হয়েই থাকতে চাচ্ছি।