দেশে চলছে টানা কারফিউ। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বেশ কয়েকদিন ধরে নেই কোনো ধরনের ইন্টারনেট। বর্ণনাতীত দুর্ভোগের শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এ আন্দোলনকে ঘিরে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এরই মধ্যে কোটা বাতিল করে আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন। গতকাল এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে চলমান এ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। 

তিনি বলেন, ‘‌আধুনিক সময়ে এসে দেশের এমন স্থবির অবস্থা একেবারেই কাম্য নয়। আমরা আশা করব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে। দেশ আবার আগের মতো সুন্দর ও স্বাভাবিক হবে। ’

দেশে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ইন্টারনেট। চলমান পরিস্থিতির কারণে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা। ফলে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনপ্রিয় ভিডিও প্লাটফর্ম বা ইউটিউবে সেবা নিতে পারছে না মানুষ। এতে কারফিউতে ঘরে অবস্থান করা মানুষ উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন এ অভিনেতা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ভরশীলতার এ যুগে এমন পরিস্থিতি মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরো বাড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মোশাররফ করিম বলেন, ‘‌কারফিউর এ সময়ে তো সব কাজ বন্ধ। বাসায় বসে বই পড়ে, টিভিতে খবর দেখে সময় কাটছে। মানুষ যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর হয়ে পড়েছে, তখন সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কিছুটা অন্ধকারে বসবাসের মতো মনে হচ্ছে তাদের কাছে। ফলে তারা বেশ উৎকণ্ঠা নিয়ে বসবাস করছে। আমার কাছের অনেক মানুষের মধ্যে এটা লক্ষ করেছি। ইন্টারনেটনির্ভর এ পৃথিবীতে দেশে ইন্টারনেট না থাকায় যাপিত জীবনেও বেশ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দিতে পারছে না। ফলে তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে জীবনযাপন করছে। তবে আমি বলব, এর একটা ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ভরশীলতা কমে আসছে। জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করা হচ্ছে। অনেকেই বই পড়ায় ফিরে গেছে।’

তবে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জ্বালাও-পোড়াও সমর্থন করেন না এ অভিনেতা। দেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোটা উচিত নয়। মোশাররফ করিম আশা করেন সবাই সহনশীল হবেন। পরিস্থিতিও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।