এ বছর গ্র্যামি জয় করেছে ভারতের ব্যান্ড ‘‌শক্তি’। তাদের অ্যালবাম ‘দিস মোমেন্ট’ গ্র্যামিতে বেস্ট গ্লোবাল অ্যালবামের পুরস্কার জিতেছে। এ ব্যান্ডের সদস্য জাকির হোসেন, শঙ্কর মহাদেবন, গণেশ রাজাগোপাল, সেলভাগণেশ বিনায়করাম ও জন ম্যাকললিন। গ্র্যামি জয় ও এর পরবর্তী অনুভূতি নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন শঙ্কর মহাদেবন। তার মতে, কিছুক্ষণের জন্য তিনি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এ রকম একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে পুরস্কৃত হওয়া জীবনের একটি বড় প্রাপ্তি। 

শঙ্কর গ্র্যামির গোল্ডেন গ্রামোফোন হাতে বেশকিছু ছবিও তুলেছেন এবং পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে। তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে ব্যান্ড থেকে সংগীত শিখেছি, সংগীতের নান্দনিকতা জেনেছি। সে ব্যান্ড নিয়েই গ্র্যামিতে পারফর্ম করব আর জিতেও যাব। এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো একটি ঘটনা। শক্তিই আসলে একটা স্বপ্ন, যা সত্য হয়েছে।’

পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্ত নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলেছেন শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘নামটা যখন ঘোষণা করা হয়, তখন মনে হয় সব স্তব্ধ হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের জন্য সত্যিই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে আপনাকে পুরো প্যাসেজটি হেঁটে মঞ্চে যেতে হয়। তবে হ্যাঁ, হাঁফ ছেড়ে বাঁচার মতো একটা অনুভূতিও হয়। কারণ পুরোটা সময় চিন্তা হয় কী হবে, কী হবে।’

৫ ফেব্রুয়ারি গ্র্যামি জিতেছে শক্তি। কাকতালীয় হলেও একই দিনে প্রকাশ হয়েছে শঙ্কর মহাদেবনের জীবনীভিত্তিক বই ‘দ্য মিউজিক্যাল ম্যাভেরিক’। আশীষ ঘটকের লেখা বইটি প্রকাশ করেছে রুপা পাবলিকেশনস। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুটো ঘটনা একই দিনে ঘটায় আমি আনন্দিত। বন্ধু আশীষ অনেক পরিশ্রম করেছে বইটি নিয়ে।’ আশীষ ঘটক এর আগে লুইস ব্যাংকসের জীবনী লিখেছিলেন। এরপর তিনি অতিমারীর সময় শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর শুরু হয় তার জীবনী লেখার কাজ। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার।

জীবনীর ক্ষেত্রে শঙ্কর শতভাগ সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে একজন সাদামাটা সংগীতকারের জীবনের সত্য গল্পটা বলতে চেয়েছি।’ বইয়ে উঠে এসেছে তার সংগীত জীবন ও যাত্রার নানা চড়াই-উতরাই। এর মধ্যে তার সঙ্গে কাজ করা অনেকের প্রসঙ্গও এসেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন শঙ্কর মহাদেবন।

শঙ্কর বহু বছর ধরে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত শঙ্কর-এহসান-লয় ত্রয়ীর একজন হিসেবে। তারা একসঙ্গে বহু সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন। শঙ্কর নিজে প্লেব্যাক করে থাকেন। এর সঙ্গে ক্ল্যাসিকালেও আছে তার শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা। সেখান থেকে শক্তিতে যোগ দেয়া আরেকটি অংশ। কারণ শক্তি অনেকটাই আলাদা। ফিউশনভিত্তিক এ ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে আত্মাকে ছুঁতে যায়। আর সেখানেই জাকির হোসেন, রাজাগোপালদের সঙ্গ থেকে শিখেছেন সংগীতের আরো অনেক কিছু।

কথা প্রসঙ্গে আবার আসে গ্র্যামি। গ্র্যামিতে পারফর্ম করা তার জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা আর পুরো গ্র্যামি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নানা রকম চিন্তা হচ্ছিল, কিন্তু আমরা পুরো বিষয়টা উপভোগ করার চেষ্টা করেছি।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস