বলিউডে আমির খানের পরিচয় মি. পারফেকশনিস্ট নামে। নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে কয়েক দশক ধরে বলিউডের অন্যতম তারকা তিনি। তার জন্মও চলচ্চিত্র নির্মাতার ঘরে। আমিরের পিতা তাহির হুসেন ছিলেন বলিউডের নামজাদা প্রযোজক। আমিরও তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। অভিনয়ের বিরতিতে যুক্ত হয়েছেন প্রযোজনায়। হিউম্যানস অব বোম্বেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাতে গতকাল ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম পিতাকে নিয়ে আমিরের আবেগঘন স্মৃতিচারণ প্রকাশ করেছে। বলিউড প্রযোজক হলেও অর্থনৈতিকভাবে তাহির হুসেন বেশ কয়েকবার বড় সংকটে পড়েছিলেন এবং সেগুলো মূলত তার সিনেমা প্রযোজনার সূত্রেই। আমিরের কথায় তার আব্বাজান ছিলেন খুব সরল মানুষ। অনেক সময় পরিকল্পনা ছাড়াই ঋণ নিয়ে সিনেমায় কাজে লাগাতেন, যা পরবর্তী সময় তাকে বিপদে ফেলেছিল। সিনেমায় সেকালে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হতো বলে প্রযোজকরা অনেক সময়ই বিনিয়োগ তুলে আনতে পারতেন না। তাহির হুসেনকেও সে রকম সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বাবার কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে আমি বলেন, ‘তাকে সমস্যায় পড়তে দেখলে খুব মন খারাপ হতো। কারণ পাওনাদাররা তাকে ফোন করত টাকার জন্য। ফোনেই ঝগড়া শুরু হতো।’ বাবা বলতেন, ‘আমি কী করব, আমার কাছে এখন টাকা নেই। আমার ছবি আটকে আছে, আমার অভিনেতাদের বলুন যেন তারা শুটিংয়ে ঠিকমতো সময় দেয়।’

অবশ্য সিনেমার দুনিয়ায় পিতাকে এমন হেনস্তা হতে দেখলেও আমির আর তার ভাই ফয়সাল চলচ্চিত্রের দুনিয়ায়ই পা রাখেন। আমির অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের প্রযোজনা সংস্থা খোলেন ১৯৯৯ সালে। তার প্রতিষ্ঠান থেকে লাগান, তারে জমিন পার, দিল্লি বেল্লি, দাঙ্গালের মতো ব্যবসাসফল সিনেমা প্রযোজিত হয়েছে। প্রযোজক হিসেবে সফল হওয়ার পরও প্রযোজক পিতার দুর্দশা আমিরের মনকে এখনো ভারাক্রান্ত করে।

কয়েকদিন আগে কাতার বিশ্বকাপে সাবেক স্ত্রী কিরণ রাও ও পুত্র আজাদের সঙ্গে দেখা গেছে আমির খানকে। বর্তমানে অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন তিনি।


সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস