মহামারীজনিত লকডাউনের প্রায় এক বছর পার হতে চলেছে। বলিউড অপেক্ষায় আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। সিনেমা হল খুলেছে। বড় ছবিগুলো মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছে। এখন অপেক্ষা দর্শকদের হলে ফেরার। তবে ভারতে কভিড-১৯-এর সংক্রমণ নিয়ে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। দেশটির সরকার সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার ব্যাপারে নতুন করে পরামর্শ দিয়েছে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে বলিউড-সংশ্লিষ্টরা তাদের ছবির বক্স অফিসে ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত। পরিস্থিতি নিয়ে বলিউডের পরিচালক, অভিনেতা, বাণিজ্য বিশ্লেষক, পরিবেশকরা কে কী ভাবছেন তা নিয়ে অনুসন্ধানমূলক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সে প্রতিবেদন থেকেই চুম্বকাংশ—
সঞ্জয় গুপ্ত: গত বছর তার ছবি মুম্বাই সাগার মুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন সঞ্জয় গুপ্ত। জন আব্রাহাম, ইমরান হাশমি ও কাজল আগারওয়াল অভিনীতি ছবিটির মুক্তি তারিখ ঘোষিত হয়েছে। ১৯ মার্চ ছবিটি মুক্তি পাবে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের নতুন ঢেউ দর্শকদের সিনেমা হলে আসায় কেমন প্রভাব রাখবে তা নিয়ে চিন্তিত সঞ্জয় গুপ্ত—‘ছবিটি মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন থেকেই উদ্বেগ পিছু ছাড়ছে না। আমরা জানি যে হলগুলো কেবল ৫০ শতাংশ সিট পূরণ করতে পারবে। এ রকম পরিস্থিতিতেই আমরা ঝুঁকি নিচ্ছি। তার ওপর এখন আবার নতুন সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা আমাদের আরো দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।’
সঞ্জয় গুপ্তর ছবির গল্প মুম্বাইভিত্তিক। সঞ্জয়ের আশা মুম্বাইয়ের অধিবাসীরা নিশ্চিতভাবেই ছবিটা হলে গিয়ে দেখবে। ‘শহরের দর্শকরা সিনেমা হলে আসবে, কারণ তারা সবখানেই যাচ্ছে। মানুষ সমুদ্রসৈকত, খেলার মাঠ, রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য পাবলিক প্লেসে যাচ্ছে। পুরো একটা বছর তারা সিনেমা হলে যায়নি। সিনেমা আমাদের জীবনযাত্রার অংশ এবং সিনেমা হলের কর্তৃপক্ষ দর্শকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব নিশ্চয়ই ফল দেবে। এখনই সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতো হয়ে যাবে না। তবে আমি নিশ্চিত ভালো কিছুই হবে।’
সঞ্জয় গুপ্ত চাইছেন মুম্বাই সাগারকে যতটা বড় আকারে বাজারে আনা যায়, ‘চালু হওয়া সিনেমা হলের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে আমরা যতটা সম্ভব বিস্তৃতভাবে ছবিটি মুক্তি দেব। এ মুহূর্তে পর্দার সংখ্যা নিয়ে কোনো টানাহেঁচড়া নেই। তবে আমার ছবিটি মুক্তির সময় কতগুলো হল খোলা থাকবে সে সংখ্যাটা এখনো নিশ্চিত নয়।’
সিনেমা হলের সঙ্গে মুনাফা কীভাবে ভাগাভাগি হবে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা করে সঞ্জয় বলেন, ‘আমরা ৭০: ৩০ অনুপাতে কিছু চাচ্ছি না। আমাদের জন্য এখন মুখ্য বিষয় হচ্ছে সিনেমা হলের সংখ্যা, যত বেশি পাওয়া যায় তত ভালো। আমরা হল মালিক ও পরিবেশকদের সঙ্গে কাজ করছি। কারণ আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্মাতা চাইলে সরাসরি ওটিটি প্লাটফর্মে চলে যেতে পারেন, কিন্তু এভাবে তারা কেবল নিজেদের শেকড় কেটে ফেলবেন। আমরা দর্শকদের হলে ফেরানোর জন্য যা যা দরকারি তা-ই করছি।’
মনোজ বাজপেয়ি: তার শেষ ছবি সুরজ পে মঙ্গল ভারি মুক্তি পেয়েছিল ২০২০-এর নভেম্বরে। মনোজ সবসময়ই ছবি সিনেমা হলে মুক্তির পক্ষে। ‘কভিডের সংক্রমণ কমানো এবং মানুষকে নিরাপদে রাখাটা খুব জরুরি। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর প্রথম যে ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছিল তার মধ্যে আছে আমাদের সুরজ পে মঙ্গল ভারি। আমি চাই সিনেমা হল টিকে থাকুক এবং ভালো ব্যবসা করুক। কারণ আমরা সবসময়ই মনে করি সিনেমা হচ্ছে হলে গিয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে উপভোগ করার বিষয়। এটা ঠিক যে বিনোদনের জন্য ওটিটি প্লাটফর্ম দর্শকদের শক্তিশালী একটি বিকল্প দিয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে ছবি দেখাটা সত্যিই মজার অভিজ্ঞতা। আমি চাই সিনেমা হলগুলো দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক। তবে আমাদের প্রথমে গুরুত্ব দিতে হবে নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে।’
অতুল মোহন (বাণিজ্য বিশ্লেষক): এ
বছর মুক্তি পেতে যাওয়া ছবিগুলোর পেছনে কত বিনিয়োগ থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে অতুল মোহন জানিয়েছেন, এর পরিমাণ দেড়-দুই হাজার কোটি রুপি। এর মধ্যে এপ্রিল-জুনের মধ্যে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর বাজেট প্রায় ৭০০ কোটি রুপি। এসব তথ্য জানিয়ে অতুল বলেন, ‘আরেকটা লকডাউনের আশঙ্কা আমাদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। নাগপুরে লকডাউন হয়েছে। অনেক স্থানে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ দেয়া হয়েছে। এর মানে এসব জায়গায় বিকাল ৫টার পর আর কোনো শো চলবে না। তাই সিনেমা মুক্তির সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বলিউডের অনেক হাউজ তাদের ছবি বছরের শেষার্ধে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করছে। ‘প্রায় ৭০০ কোটি রুপির বিনিয়োগ থাকবে এপ্রিল-জুন সময়ে মুক্তি পেতে যাওয়া সিনেমাগুলোর পেছনে। এখন অনেক কিছু নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোতে কভিড পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার ওপর।’
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া










