২০১২ সালে মুক্তি পায় রোমান্টিক কমেডি ‘স্টাক ইন লাভ’। ধারণা ছিল বক্স অফিসে সাড়া ফেলবে সিনেমাটি। অথচ দাপুটে সব তারকা নিয়েও বক্স অফিস থেকে আয় ১০ লাখ ছুঁতে পারেনি। এমন সিনেমা নিয়ে খুব বেশি আলাপ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তার ওপর আবার সিনেমাটির ছোটখাটো কোনো চরিত্র। ফলে গ্লেন পাওয়েল তখনো নজরে আসেননি। প্রায় উপেক্ষিত সেই ২৩ বছরের তরুণ হলিউডে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে তা হয়তো কেউ কল্পনা করতে পারেননি সেদিন। 

বড় পর্দায় গ্লেন পাওয়েলের অভিষেক ২০০৩ সালে; স্পাই কিডসের মধ্য দিয়ে। তারপর বিভিন্ন সময়ে তাকে দেখা গেছে ওয়ান্ডেল বেকার স্টোরি, ফাস্ট ফুড নেশন, দ্য ডার্ক নাইট রাইজেসে। কিন্তু চরিত্রগুলো ছিল ছোটখাটো। যেন সবসময় পেছন সারির তারকা হিসেবেই কেটে যাবে ক্যারিয়ার। ঠিক সে সময় এগিয়ে আসেন রিচার্ড লিংকল্যাটার। ২০১৬ সালে তিনি তৈরি করেন ‘এভরিবডি ওয়ান্টস সাম’, এর মধ্য দিয়ে যেন সামনের কাতারে চলে এলেন গ্লেন। তবে বাঁকপরিবর্তন ঘটিয়ে দিল ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’। তিনি নিজেকে চিনিয়ে হাজির হলেন হলিউডের চিরায়ত নায়কদের যথাযথ উত্তরাধিকারী হিসেবে।  

পাওয়েলের বেশভূষাও ক্ল্যাসিক হলিউড অভিনেতার মতো। যেন রায়ান গসলিং, ব্রাড পিট, টম ক্রুজের ধারাবাহিকতা তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাবে। অবশ্য প্রথম সারিতে আসতে যে এতটা সময় লাগল, সেটাই বিস্ময়ের। টপ গান: ম্যাভেরিকে তাকে দেখা গেল শীর্ষ চরিত্রে। যেন আর তাকে উপেক্ষা করে যাওয়ার জো নেই। একইভাবে নিজেকে প্রমাণ দেন ‘অ্যানিওয়ান বাট ইউ’ সিনেমায়; বক্স অফিসে সিনেমাটির আয় ছিল ২২ কোটি ডলার। ‘হিটম্যান’ যথেষ্ট ভালো করেছে পরবর্তী সময়ে। 

অনেকেই নির্দিষ্ট চরিত্রের বাইরে আলাদা করে নিজেকে দাঁড় করাতে হিমশিম খান। মার্ভেল ইউনিভার্সের ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও ক্রিস ইভান্সই সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কমিক বুকের বাইরে তারা অতটা উজ্জ্বল নন। পাওয়েল কমিক বুকে যাননি। চরিত্র বাছাই করার সময়ই বিষয়টা মাথায় রেখেছিলেন; যেন দর্শকদের মন থেকে গ্লেন পাওয়েল  বিস্মৃত না হন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ক্রিস্টিনা নিউল্যান্ড তো সরাসরিই বলেছেন, ‘পাওয়েলের মধ্যে হলিউডে রাজত্ব করা পূর্বসূরিদের সব গুণাবলিই বিদ্যমান। তাকে পল নিউম্যান ও রবার্ট রেডফোর্ডের সঙ্গে রাখা যায়। কাউবয়, রোমান্টিক, অ্যাকশন সিনেমায় সমান তালে অভিনয় করতে পারবেন। বর্তমান হলিউডের সম্ভাবনাময় মুখগুলোর মধ্যে কেবল টিমোথি শ্যালামের সঙ্গেই তার তুলনা করা যেতে পারে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান