বর্তমান সময়ে এসে ওটিটি প্লাটফর্মগুলো ভিন্নধারার নির্মাণে মনোনিবেশ করেছে। এ ঈদে একাধিক ওটিটি কনটেন্ট পেয়েছে দর্শক জনপ্রিয়তা। বিশেষ দিন কিংবা দিবসে আমাদের দেশের ওটিটিগুলোয় দেখানো হয় বিভিন্ন কনটেন্ট। সে ধারা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক ফায়ার ফাইটার দিবসে দীপ্ত প্লেতে আসছে ফ্ল্যাশ ফিল্ম ‘অগ্নিপুরুষ’। আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, সুনেরাহ বিনতে কামালসহ আরো অনেকে। ফিল্মটির চিত্রনাট্য করেছেন আহমেদ খান হীরক। 

এতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী হিসেবে আতিক চরিত্রে দেখা যাবে সোহেল মন্ডলকে। আর তার স্ত্রী বিউটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ। 

সোহেল মণ্ডল বলেন, ‘এটা তৈরি হয়েছে ফায়ার ফাইটারদের আত্মত্যাগের গল্প নিয়ে। কাজটা করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, ফায়ার ফাইটাররা কত কষ্ট করে আমাদের সুরক্ষার জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনায় আমরা দেখেছি তাদের সংগ্রামের চিত্র। ফায়ার ফাইটারদের সে সংগ্রামী জীবনের একটা অংশ আমরা অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল বলেন, ‘গল্পে নতুনত্ব আছে, আমার চরিত্রটিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। চেষ্টা করেছি, অভিনয় দিয়ে চরিত্রটি দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার। গল্প, চরিত্র, নির্মাণ সবকিছু মিলিয়ে এটা দর্শকের ভালো লাগবে বলেই আশা করছি।’

সম্প্রতি দেশে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। নিজের জীবন বাজি রেখে সেখানে কাজ করেছেন দেশের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের গল্প নিয়েই ফ্ল্যাশ ফিল্ম ‘অগ্নিপুরুষ’। এ নিয়ে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘অগ্নিপুরুষ আসলে একজন ফায়ার ফাইটারের জীবনের গল্প। ফায়ার ফাইটাররা আমাদের সবচেয়ে বিপদের সময় পাশে থাকে। অথচ তারা সমাজে তেমনভাবে তাদের কাজের জন্য হাইলাইটেড হয় না। আমরা খুব সহজভাবেই তাদের জীবন সংগ্রামটা তুলে ধরতে চেয়েছি। ফায়ার ফাইটারদের নিয়ে খুব একটা কাজ হয় না। ফলে তাদের কাজের ধরন, অপারেশনগুলো আয়ত্ত করতে আমাদের ঘাম ঝরেছে। তবে আমাদের পুরো ইউনিট চেষ্টা করেছে। আগুনের ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছি আমরা কাজটা করতে গিয়ে। বুঝতে পেরেছি কী কঠিন কাজ করতে হয় আমাদের আসল অগ্নিপুরুষদের’।

ফিল্মটি নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। চিত্রনাট্যকার আহমেদ খান হীরক বলেন, ‘‌ইদানীং পরপর অনেকগুলো অগ্নিবিপর্যয়ের ঘটনায় আবার ফায়ার সার্ভিসের সাহসিকতা ও নির্ভরতার ঘটনা আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে আমাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, তাদের জীবন আমাদের গল্পে উঠে আসে না। কিন্তু অগ্নিপুরুষ ঠিক সে কাজই করেছে। ফিল্মটিতে উঠিয়ে এনেছে জীবন বাজি রাখা এক মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বের গল্প।’