মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল। ৪০ বছর বয়সী এ অভিনেতা তার অভিনয় গুণে বর্তমানে সারা ভারতে জনপ্রিয়। ভারত পার হয়ে তার অভিনয় বাংলাদেশের দর্শকেরও মন করে নিয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া মালিক ফাহাদকে পৌঁছে দিয়েছে ভিন্ন উচ্চতায়। মালিক, জোজি, ইরুল, ট্রান্স, বিক্রম প্রভৃতি সিনেমার জন্য তিনি বেশি প্রশংসিত। কিন্তু মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে তার আছে আরো অনেক সিনেমা। প্রতিটিই গল্পনির্ভর আর প্রতিটি সিনেমায়ই নিজের চরিত্রকে দারুণভাবে চিত্রায়ণ করেছেন ফাহাদ। বলিউডে শাহরুখ খানের পর ভারতে ফাহাদ সম্পর্কেই বলা হয়, তিনি চোখ দিয়েই পুরোটা চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারেন। অন্যদিকে তার চিত্রনাট্য বাছাই অসাধারণ। কনটেন্ট নিয়ে তার দর্শন হচ্ছে কনটেন্ট কখনো ফুরিয়ে যায় না। কনটেন্ট খুঁজে নিতে হয়।

সিনেমা নিয়ে ফাহাদ খুঁতখুঁতে। ফিল্ম করপোরেশনের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‌সিনেমার ব্যাপারে আমি নিজেকে একটু অসম্পূর্ণ মনে করি। যতক্ষণ না সিনেমা নিয়ে নিজে তৃপ্ত হই, ততক্ষণ আমি সিনেমা নিয়ে কথা বলি না। সবসময় চেষ্টা করি, আমি যা চাই সেটা পেয়েছি কিনা তা নিশ্চিত করা।’ চিত্রনাট্য বাছাই করা নিয়েও তিনি চিন্তা করেন। ফাহাদ বলেন, ‘‌আমি প্রথমে দেখি সেটা ঠিকঠাক আছে কিনা। আমি যা চাই বা স্ক্রিপ্ট যা চায়, তা আমার দ্বারা সম্ভব কিনা। সেভাবেই কাজ করি। এরপর সিনেমা মুক্তি পেলে দেখি, যা ভেবেছিলাম তা আমি করতে পেরেছি কিনা।’ সিনেমার প্রমোশনে তাকে অনেক সময় দেখা যায় না। সে প্রসঙ্গে তিনি জানান যে অভিনয়ের বিষয়টি তার মাথায় বারবার ঘুরতে থাকে। ফলে তিনি সে উত্তরই খুঁজতে থাকেন।

ফাহাদ মালয়ালম অভিনেতা হলেও তার অভিনেতা হয়ে ওঠার পেছনে বলিউডের অবদান আছে। তিনি বলিউডের সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন। নিজেকে অভিনেতা হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। ইরফান খান মারা যাওয়ার পর ফাহাদ লিখেছিলেন, তার অভিনেতা হওয়ার পেছনে বেশি ভূমিকা রেখেছে একটি ডিভিডি। কোন ডিভিডি ছিল সেটা এ প্রশ্নের জবাবে ফাহাদ বলেন, ‘‌সিনেমাটি ছিল নাসিরুদ্দিন শাহ পরিচালিত ‘‌ইয়ু হোতা তো কেয়া হোতা’। সেখানেই আমি ইরফানকে দেখি। দেখলাম স্ক্রিনে তাকে অভিনেতার মতো মনে হয়নি। আমার কাছে অন্তত মনে হয়নি। আমি তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। অন্য অভিনেতারা স্ক্রিনে আসছিলেন, কিন্তু তাদের দিকে আমার চোখ পড়েনি। তাকে অন্য রকম মনে হয়েছিল। আমি তার পায়ের দিকে তাকাচ্ছিলাম। বুঝতে চেয়েছিলাম, তার পা মাটিতে আছে নাকি তিনি উড়ছেন। এমনই অভিনেতা ছিলেন তিনি।’

ফাহাদের ক্যারিয়ারে উত্থান পতন ছিল। তিনি শুরু করেছিলেন, কিন্তু তারপর হোঁচট খেয়েছেন। তাই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, নতুন করে শুরু করার মুহূর্তে তিনি বুঝেছিলেন কিনা যে তাকে দিয়ে আসলেও সম্ভব। এ প্রশ্নের উত্তরে ফাহাদ বলেন, ‘‌আমার তো এখনো মনে হয় না। আমি আমার সহ-অভিনেতাদের মতোই একজন সাধারণ অভিনেতা। কখনো মনে হয়নি, আমি একা কোনোকিছু অর্জন করব। একটা সেটে অভিনেতা, পরিচালক সবাই মিলে কাজ করে। এদের কোনো একজন ছাড়া আমরা অসম্পূর্ণ।’

ফাহাদের প্রতিটি সিনেমা দেখলে মনে হয় একেকটি চরিত্রের জন্য তিনি বহুদিন ধরে প্রস্তুতি নেন। কেননা চরিত্রে ফাহাদকে দেখে ফাহাদ মনে হয় না। মালিকে তাকে সুলেমান, পুষ্পায় তাকে ভাওয়ার সিং, বিক্রমে অমর আর সুপার ডিলাক্সে মুগিল বলেই মনে হয়েছে। ফাহাদ ফাসিল নিজেকে কীভাবে তৈরি করেন সে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‌আমার কোনো ধরাবাঁধা পদ্ধতি নেই। অভিনয় ছাড়া সিনেমার অন্য কোনো বিষয় আমি পারি না। তাই অভিনয়ের ক্ষেত্রে চরিত্র অনুসারে নিজেকে প্রশ্ন করি যে আর কী করা সম্ভব? নিজেকে প্রশ্ন করি। ইউনিটের অন্যদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি।’

ফাহাদ সেটে অভিনয় করতে করতে চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যান। তার অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমার ব্যাঙ্গালোর ডেজে তাই হয়েছিল। সেটের সঙ্গে তার আলাদা একটা রসায়ন আছে। ফাহাদের ভাষায়, ‘‌আমি আসলে চরিত্রটা নিয়ে রিহার্স করে সেটে আসি না। যেকোনো কাজ করার সময় আমি সেটা নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করে নিজেকে তৈরি করি।’ প্রতিনিয়ত নতুন ও ভিন্ন ধারার কনটেন্টে কাজ করেন ফাহাদ। তিনি মনে করেন, কনটেন্টের কোনো অভাব কখনো হবে না। ফাহাদ বলেন, ‘‌আমাদের চারপাশে নানা ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে গল্প। কনটেন্ট বা গল্প কখনো ফুরিয়ে যায় না।’

সূত্র: ফিল্ম করপোরেশন