ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর। প্রয়াত নির্মাতা এহতেশামুর রহমান পরিচালিত ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মধ্য দিয়ে অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন তিনি। গতকাল অভিনয় ক্যারিয়ারের তিন দশক পার করেছেন এ অভিনেত্রী। ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবরে তার চাঁদনী রাতে সিনেমাটি মুক্তি পায়। বর্তমানে ক্যামেরার সামনে না দাঁড়ালেও সিনেমা সঙ্গেই আছেন এ অভিনেত্রী। দেশের সিনেমা মুক্তি পেলেই হলে গিয়ে দেখেন। এমনকি দেশের তারকাদের সঙ্গেও প্রায়ই দেখা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের সিনেমার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ মুহূর্তে শাবনূর অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। ক্যারিয়ারের তিন দশক পূর্তিতে নিজের ফেসবুক পেজে শাবনূর লেখেছেন, ‘সবার ভালোবাসায় চলচ্চিত্র জীবনের পথচলায় তিন দশক পার করে দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। যখন থেকে অভিনয় করি, তখন থেকে আমার অভিনীত সিনেমার প্রতি দর্শক চাহিদা ছিল। সে কারণে প্রযোজক-পরিচালকরা আমাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। দর্শকের ভালোবাসায়ই আমার পক্ষে ১৫৮টি সিনেমার বিশাল মাইলফলক ছোঁয়া সম্ভব হয়েছে। যেসব চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি তার মধ্যে অনেক সিনেমাই ব্যবসাসফল। এমনকি অনেক সিনেমা ছিল যেগুলো দর্শক-সমালোচক জরিপে সেরার তালিকা করে নিয়েছিল। আর আমার নিজের অভিনীত প্রতিটা সিনেমাই আমার কাছে প্রিয়।’
অভিনয় ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে শাবনূর দেশের জনপ্রিয় সব তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ। সহশিল্পীদের কথা প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘সহশিল্পীদের মধ্যে প্রয়াত সালমান শাহর সঙ্গে আমার জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়। সালমানের অকালমৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাত্র চার বছরে আমি ও সালমান সর্বাধিক ১৪টি দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল সিনেমায় জুটি বেঁধে কাজ করেছিলাম। আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে আরো যেসব সহশিল্পীর অবদান অনেক বেশি তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রয়াত মান্না ভাই, ওমর সানী, বাপ্পারাজ, আমিন খান, অমিত হাসান, রিয়াজ আহমেদ, ফেরদৌস আহমেদ, শাকিল খান, শাকিব খান প্রমুখ। আল্লাহর রহমত ও সবার দোয়ায় চলচ্চিত্রে এখনো যথেষ্ট সম্মান নিয়েই বেঁচে আছি। আমার অভিনয় জীবনের দীর্ঘ ৩০ বছরের পথচলায় চলচ্চিত্রের সব প্রযোজক, পরিচালক, সহশিল্পী, চিত্রনাট্যকার, নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী, ক্যামেরাম্যান এবং সিনেমার সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীসহ সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ ও ঋণী।’
সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও এখনো দর্শক শাবনূরের কথা মনে রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাবনূর ভক্তরা তাকে নিয়ে নিয়মিত কথা বলেন। দীর্ঘদিন নতুন সিনেমা কিংবা ক্যামেরার সামনে না দাঁড়ালেও দর্শক এ অভিনেত্রীর কথা মনে রেখেছে। দর্শকের কথা প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘আমার সিনেমার দর্শক ও অগণিত ভক্তদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি আজকের শাবনূর। সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হওয়ার পর থেকে সর্বক্ষণ উপলব্ধি করছি আমাকে নিয়ে তাদের ভালোবাসা আজও বদলায়নি, বরং বেড়েই চলেছে। আমার প্রতি আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ভবিষ্যতেও আশা করি অব্যাহত থাকবে। আমি সাংবাদিক ভাই-বোনদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার প্রতি আপনারা প্রায় সবাই যেভাবে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আমাকে এতদূর এগিয়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছেন তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’
শাবনূর জানান, আগামী বছরের শুরুতে তার দেশে আসার কথা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় একমাত্র ছেলেকে নিয়েই তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া ঢাকা থেকে সেখানে কেউ গেলে তাদেরও সময় দেয়ার চেষ্টা করেন শাবনূর। এর মধ্যে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও গায়িকা কনকচাঁপা গিয়েছিলেন। দুজনকেই তিনি বেশ সময় দিয়েছেন। তাদের নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। নতুন সিনেমায় অভিনয় করা প্রসঙ্গে নিশ্চুপ এ অভিনেত্রী।
দর্শকের ভালোবাসার সঙ্গে শাবনূর পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। ২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘দুই নয়নের আলো’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।










