ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিচিত নাম অনুরাগ কাশ্যপ। প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে তার পরিচালনা ও প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে একের পর এক হিট সিনেমা। তবে সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পের হাল-হাকিকত নিয়ে মুখ খুললেন এ গুণী নির্মাতা। বিশেষ করে নারীবাদী, সমাজকর্মী ও বিপ্লবী তকমা পাওয়া সিনেমা নির্মাতাদের নিয়ে নাখোশ তিনি। অনুরাগ মনে করেন, চলচ্চিত্র জগতে দুই ধরনের পরিচালক আছেন। প্রথম শ্রেণীর পরিচালকরা উপার্জনের ক্ষেত্রে সৎ। তবে আরেক ধরনের নির্মাতারা সুযোগ-সন্ধানী। আর তাদের জন্যই প্রায়ই জায়গাটা প্রতিকূল। কারণ এখানে একজন আরেকজনকে টেনে নামানোর জন্য উঠে পড়ে লেগে থাকে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় নারীবাদী সিনেমা তৈরির প্রবণতা বেড়েছে, যা বলিউডের চলমান পুরুষতান্ত্রিকতার প্রতি বয়ান হিসেবে হাজির হচ্ছে। সেদিকে ইঙ্গিত করেই কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে অনুরাগ বলেন, ‘আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, নির্মাতাদের যেকোনো ঘরানার চলচ্চিত্র তৈরির অধিকার রয়েছে। অধিকাংশ চলচ্চিত্র নির্মাতাকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। কেজিএফ ও সালারের নির্মাতারাও এ কাতারে পড়েন। চলচ্চিত্র নির্মাণে তারা উপার্জনের ক্ষেত্রে সৎ ছিলেন এবং হিট ছবি বানিয়েছেন। কিন্তু যেসব চলচ্চিত্র নির্মাতা নারীবাদী, সমাজকর্মী ও বিপ্লবী হওয়ার ভান করে, তাদের ৯০ শতাংশই প্রতারক। তাদের দেখনদারিই সব। অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতাকে অনেক বছর ধরে একত্র করার প্রচেষ্টার পর আমি বুঝতে পেরেছি, স্বাধীন নির্মাতাদের অবস্থা আরো বেশি খারাপ। কারণ তারা প্রত্যেকেই মূলত একজন আরেকজনকে দাবিয়ে রাখার জন্য নিয়োজিত। তথাকথিত মেধাবী ও নির্বোধের মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য এখন। বোকারা ঐক্যবদ্ধ। আর মেধাবীরা ব্যস্ত একজন আরেকজনকে টেনে নিচে নামানোর কাজে।’ 

অনুরাগ মনে করেন, সব ধরনের নির্মাতারই সহাবস্থানে থাকা জরুরি। এক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন সততাকে। আর সেটাই সফলতার চাবি। ইতালীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা পিয়ার পাওলো পাসোলিনির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে এখন সম্মান করি। অথচ তিনি তার সমাজে সমাদর পাননি। একইভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুরোসাওয়া যতটা জনপ্রিয়, জাপানের সমাজে তিনি ততটা সমাদৃত নন।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস